• ই-পেপার

হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের হাজার বছরের পথচলা

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

মাটির পাত্রে খাওয়া কি সুন্নত?

প্রশ্ন : আমার এক ভাই হঠাৎ ঘরে কাচের পাত্র ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। তার মতে, মাটির পাত্রে খাওয়াদাওয়া করা সুন্নত। বিষয়টি আমাদের পরিবারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আমি জানতে চাই, সত্যিই কি মাটির পাত্র, যেমন—মাটির প্লেট, গ্লাস এগুলোতে খাওয়া ও পান করা সুন্নত?

আতাউর রহমান, খুলনা

উত্তর : মাটির তৈরি প্লেট ও গ্লাসে পানাহার করা জায়েজ। তবে ইসলামী কোনো দলিল দ্বারা তা সুন্নত হওয়া প্রমাণিত নয়।

(আল বাহরুর রায়েক : ৮/৩৪১, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ১৬/৫৩৪)

 

 

মহল্লার মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করা

প্রশ্ন : গ্রামের মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন নির্ধারিত আছে। এ অবস্থায় যদি জামাত শেষ হওয়ার পর চার-পাঁচজন লোক জমায়েত হয়, তাহলে কি তারা সেখানে দ্বিতীয় জামাত করে নামাজ আদায় করতে পারবে?

 দেলোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ

উত্তর : প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় এলাকাবাসী জামাত আদায় করার পর চার-পাঁচজন লোক এলে তাদের জন্য ওই মসজিদের যেকোনো অংশে দ্বিতীয় জামাত করা নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী মাকরুহ। তাই মসজিদের কোনো অংশে দ্বিতীয় জামাত না করে মসজিদের বাইরে সম্ভব হলে জামাত করে নেবে।

(আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫৫২,

রদ্দুল মুহতার : ১/৫৫২, গুনিয়াতুল মুতামাল্লা : ৬১৪, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/৩৬৬)

 

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব ১১৯১

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

‘যখন অবিশ্বাসীরা তাদের অন্তরে পোষণ করত গোত্রীয় অহমিকা—অজ্ঞতার যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ তাঁর রাসুল ও মুমিনদের স্বীয় প্রশান্তি দান করলেন। আর তাদের তাকওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করলেন। তারাই ছিল এর অধিক যোগ্য ও উপযুক্ত। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসুলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে...।’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ২৬-২৭)

আয়াতদ্বয়ে গোত্রীয় অহংকার, সাহাবিদের মর্যাদা ও নবীদের স্বপ্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও বিধান

১. ইসলামে গোত্রীয় অহংকার নিষিদ্ধ। আয়াতে যাকে মূর্খতাসুলভ কাজ বলা হয়েছে। হুদাইবিয়ার সময় গোষ্ঠী-অহমের কারণে কুরাইশরা সন্ধিনামায় বিসমিল্লাহ লিখতে বাধা দিয়েছিল।

২. তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বাণী দ্বারা কালেমায়ে তাইয়িবা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) উদ্দেশ্য।

৩. আয়াতে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে তাকওয়ার বাণীর অধিকযোগ্য বলা হয়েছে, যা তাদের বিশেষ মর্যাদা প্রমাণ করে।

৪. নবীদের স্বপ্ন সত্য এবং তা ওহির অন্তর্ভুক্ত। ওমরাহর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্বপ্ন কিছুটা বিলম্বে হলেও সত্য হয়েছিল।

৫. ওমরাহ শেষে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করার যেকোনো একটি করা জায়েজ। তবে মাথা মুণ্ডানোই উত্তম। আর ভবিষ্যতের কোনো বিষয় সামনে এলে ইনশাআল্লাহ বলা মুস্তাহাব। (বুরহানুল কুরআন : ৩/৩৯৭)

 

মদিনায় কাতারি শিক্ষার্থীদের কোরআন ও সিরাত কোর্স

নিহার মামদুহ
মদিনায় কাতারি শিক্ষার্থীদের কোরআন ও সিরাত কোর্স

কাতারি শিক্ষার্থীরা মদিনায় কোরআনের বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেছে। ২ থেকে ১৩ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চলা কোর্সটি কাতারের আওকাফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের দাওয়াহ ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করেছে। এই কোর্সে আল নুর কোরআনিক এডুকেশনাল সেন্টার এবং আল এমাদি মডেল এডুকেশনাল সেন্টারের ৩০ জন কাতারি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কোর্সের লক্ষ্য ছিল এমন একটি আদর্শ কোরআনপ্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা কোরআন হিফজ ও তিলাওয়াতে উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ ও উত্তম চরিত্রে সমৃদ্ধ হবে। একটি সমন্বিত শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করাও ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে নিবিড় কোরআন হিফজ ও পুনরালোচনা সেশন, শিক্ষামূলক পাঠ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত, নৈতিক ও ব্যক্তিগত বিকাশে সহায়তা করে। মদিনার পবিত্র পরিবেশ এবং মসজিদে নববীর আধ্যাত্মিক আবহ শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে এবং কোরআনের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও সংযোগকে আরো গভীর করেছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে কোরআন হিফজ ও পুনরালোচনায় সর্বোচ্চ মূল্যায়ন অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। কোর্সজুড়ে তাদের নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি এবং কোরআনের পথে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সব অংশগ্রহণকারীকে উৎসাহমূলক পুরস্কারও দেওয়া হয়। কিছু শিক্ষার্থী কোর্স চলাকালেই তাদের মুখস্থ করা কোরআনের অংশ তিনবারেরও বেশি সম্পূর্ণ তিলাওয়াত করতে সক্ষম হয়।

কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসূচিতে রাসুলুল্লাহর (সা.) সাহাবিদের জীবন, মদিনা মুনাওয়ারার ফজিলত এবং আজীবন কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও নানামুখী কার্যক্রমেও অংশ নেয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা মদিনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ও ঐতিহাসিক স্থান মসজিদে কুবা, সাবআ মসজিদ (সাত মসজিদ), জাবালে উহুদ এবং উহুদের শহীদদের কবরস্থান পরিদর্শন করে।

সূত্র : দ্য পেনিনসুলা

 

অন্তরের প্রশান্তি পেতে যেসব ইবাদত করা যায়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
অন্তরের প্রশান্তি পেতে যেসব ইবাদত করা যায়

পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যার জীবনে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, হতাশা কিংবা কষ্ট নেই। সবাই সুখ-শান্তি চায়, প্রাচুর্য চায়, কিন্তু বাস্তবতা হলো অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি বা আরাম—কোনোটিই মানুষের অন্তরকে স্থায়ী শান্তি দিতে পারে না। দুনিয়ার জীবনে এটাও মহান আল্লাহর এক ধরনের পরীক্ষা। তবে যিনি অন্তরের মালিক, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা গেলে অন্তর ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয়। ফলে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সুখ অনুভূত হয়। অহেতুক যে দুশ্চিন্তা আর অপ্রাপ্তি আমাদের কুরে কুরে খায়, তা থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। নিম্নে এ রকম কিছু আমল তুলে ধরা হলো—

জিকির : মুমিন হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য এটি সবচেয়ে বড় ওষুধ। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এক প্রশান্তি লাভের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’

(সুরা : রা‘দ, আয়াত : ২৮)

নামাজ : নামাজ হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে নির্জনে কথোপকথনের মাধ্যম। পৃথিবীর সব দরজা যখন বন্ধ মনে হয়, তখনো একটি দরজা খোলা থাকে, তা হলো মহান আল্লাহর দরজা। যেখানে সিজদার মাধ্যমে নিজের অসহায়ত্বগুলো মহান আল্লাহর কাছে পেশ করা যায়।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হলে বা উদ্বেগজনক বিষয় দেখা দিলে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩১৯)

তা ছাড়া খুশুখুজুর সঙ্গে আদায়কৃত নামাজের মাধ্যমে মুমিনের হৃদয়ে অন্য রকম প্রশান্তি তৈরি হয়। নামাজের সঙ্গে যে অন্তরের প্রশান্তির একটি সংযোগ আছে, তা মহানবী (সা.)-এর হাদিস দ্বারা বোঝা যায়। মহানবী (সা.) বেলাল (রা.)-কে বলতেন, ‘হে বেলাল! নামাজ কায়েম করো। আমরা এর মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করতে পারব।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৮৫)

কোরআন : অন্তরের অশান্তি ও অস্থিরতা কখনো কখনো রোগের কারণে হয়। কখনো মানসিক রোগ, কখনো আত্মিক রোগ। তাই এর রোগগুলো থেকে নিস্তার পেতে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কেননা পবিত্র কোরআনকে মহান আল্লাহ ‘শিফা’ বা আরোগ্য বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি কোরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের ক্ষতিই বাড়িয়ে দেয়।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৮২)

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করলে আল্লাহর রহমত নাজিল হয়, যা ভাঙা হৃদয়কে প্রশান্ত করতে উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

দোয়া : যখন মানুষ অসহায় বোধ করে, তখন তা থেকে উত্তরণের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র হলো দোয়া। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয়ই নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে।’

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৬)

তাই অন্তরে অশান্তি অনুভব করলে তা থেকে উত্তরণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

দরুদ : দরুদ পাঠ দুশ্চিন্তা দূরীকরণে সহায়ক। এক সাহাবি দিনের পুরো সময় দরুদ পাঠের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে মহানবী (সা.) তাঁকে বলেন, ‘তোমার চিন্তা ও কষ্টের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৭)

ইস্তিগফার : ইস্তিগফার সব ধরনের সংকট থেকে উত্তরণের একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সদাসর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ ও প্রতিটি সংকট থেকে উদ্ধারের পথ বের করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিজিক দান করবেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮১৯)

তাওয়াক্কুল : যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তাঁর গায়েবি সাহায্য পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)

আল্লাহ যার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়, তাকে কোনো দুশ্চিন্তা পরাস্ত করতে পারবে না।

সদকা : কখনো কখনো অতিরিক্ত গুনাহের কারণে অন্তরে দুশ্চিন্তার অন্ধকার নেমে আসে, সে সময় সদকা করলে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা যায়। কেননা রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দান-খয়রাত গুনাহসমূহ বিলীন করে দেয়, যেমন পানি আগুনকে বিলীন করে (নিভিয়ে) দেয়।’

(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১০)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন দান করুন। আমিন।