• ই-পেপার

বিদায়ি হাজিদের মধ্যে দেড় লক্ষাধিক পবিত্র কোরআন বিতরণ

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৪৪

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর জন্য, যে আল্লাহর আয়াতগুলোর তিলাওয়াত শোনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে অটল থাকে যেন সে তা শোনেনি। তাদের সংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির। যখন আমার কোনো আয়াত সে অবগত হয় তখন তা নিয়ে পরিহাস করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।...এই কোরআন সৎপথের দিশারী; যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য আছে অতিশয় বেদনাদায়ক শাস্তি। (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৭-১১)

আয়াতগুলোতে আল-কোরআনের সম্মান রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. কোরআনের দলিল-প্রমাণ ও যুক্তি প্রত্যাখ্যান করা গুরুতর পাপ। আয়াতে এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে।

২. কোরআনের আয়াত ও আল্লাহর কুদরত নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হারাম। আয়াতে এমন ব্যক্তির জন্য কঠোর শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

৩. কোরআনকে সম্মান করা এবং কোরআনের সম্মান রক্ষা করা মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।

৪. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবী (সা.) শত্রুদেশে কোরআন নিয়ে সফর করতে নিষেধ করেছেন। যেন তা শত্রুর হাতে না পড়ে (এবং তারা তার অসম্মান না করে)।

৫. কোরআন অসম্মানকারী ও তা অস্বীকারকারীর শাস্তি ঘোষণায় আল্লাহ চারটি বিশেষণ ব্যবহার করেছেন : ক. মর্মন্তুদ, খ. লাঞ্ছনাদায়ক, গ. মহা, ঘ. অতিশয় কঠিন ও বেদনাদায়ক। (তাফসিরে মুনির : ১৩/২৭৭)

হাদিসের আলো

মারেফাত ইবাদতবিমুখ করে না

মারেফাত ইবাদতবিমুখ করে না

আয়েশা (রা.) নবী (সা.) রাতে (এত দীর্ঘ সময়) নামাজ আদায় করতেন যে তাঁর পা দুখানি (ফুলে) ফেটে (দাগ পড়ে) যেত। একদা আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এরূপ কাজ কেন করছেন? আল্লাহ তো আপনার আগের ও পিছের সব পাপ মোচন করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করব না? (বুখারি, হাদিস : ৪৮৩৭)

 

শিক্ষা

হাদিসবেত্তাগণ বলেন,

১. হাদিসটি ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর উচ্চ নিষ্ঠা, আগ্রহ ও প্রচেষ্টার প্রমাণ।

২. মারেফাত তথা আল্লাহর পরিচয় ও নৈকট্য লাভ বান্দাকে ইবাদতবিমুখ করে না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে অধিক মারেফাতের অধিকারী কেউ ছিল না।

৩. ইবাদত ও আনুগত্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের উত্তম মাধ্যম।

৪. মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও মুজাহাদা করবে, কিন্তু নিজের ক্ষতি হয় এমন বোঝা নিজের ওপর চাপিয়ে নেবে না। কেননা এতে মনমানসিকতা বিগড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

৫. মুমিনের অন্তর থেকে কখনোই আল্লাহর ভয় মুক্ত হবে না, সে দ্বিনের পথে যত মর্যাদাশীলই হোক না কেন।

(মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)

দ্বিন প্রচারে সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শনের নীতি

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
দ্বিন প্রচারে সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শনের নীতি

মুমিনের জীবন পরকালমুখী। ধর্মীয় জীবনের লক্ষ্য পরকালীন জীবনের সাফল্য। তাই দ্বিন প্রচারে পরকালীন জীবনের লাভ ও ক্ষতির বর্ণনা বারবার চলে আসে। দ্বিন প্রচারকরা তাদের আলোচনায় জান্নাতের সুসংবাদ ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শন করে থাকে। দ্বিন প্রচারে সুসংবাদ দান ও ভীতি প্রদর্শনের গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শন জরুরি কেন

দ্বিন প্রচারের ক্ষেত্রে সুসংবাদ ও ভীতি করা জরুরি। কেননা সুসংবাদ প্রদান এবং ভয় প্রদর্শন করা নবীদের অন্যতম দায়িত্ব। নবী-রাসুলদের উত্তরসূরি হিসেবে আলেম ও দ্বিন প্রচারকরাও তাদের আলোচনায় মানুষকে সুসংবাদ দেবে এবং ভীতি প্রদর্শন করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি সমগ্র মানবজাতির জন্য আপনাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা জানে না।

(সুরা : সাবা, আয়াত : ২৮)

যেভাবে আলোচনা করা হবে

আলেম ও দ্বিন প্রচারকরা কিভাবে সুসংবাদ দেবে এবং ভীতি প্রদর্শন করবে তার একটি রূপরেখা পবিত্র কোরআনে পেশ করা হয়েছে। তা হলো, সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শনের সময় তার কারণগুলোও বর্ণনা করা। মহান আল্লাহ বলেন, আমি রাসুলগণকে শুধু সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করি। কেউ ঈমান আনলে ও নিজকে সংশোধন করলে তার কোনো ভয় নেই এবং সে দুঃখিতও হবে না। যারা আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা বলেছে সত্য ত্যাগের জন্য তাদের ওপর শাস্তি আপতিত হবে।

(সুরা : আনআম, আয়াত : ৪৮-৪৯)

শুধু সুসংবাদ বা ভীতি প্রদর্শন নয়

আলেমরা বলেন, পবিত্র কোরআনের যেখানেই আল্লাহ সুসংবাদ প্রদর্শনের কথা বলেছেন সেখানেই তিনি ভীতি প্রদর্শনেরও কথা বলেছেন। আল্লাহ শুধু ভীতি বা সুসংবাদ প্রদান করেননি। তাই দ্বিন প্রচারকারীদের দায়িত্ব হলো তাদের আলোচনায় একই সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টির আলোচনা করা। শুধুই ভয়ের কথা বা শুধুই আশার কথা আলোচনা না করা। এই পদ্ধতিতেই আল্লাহ দ্বিন প্রচারকদের সাফল্য রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।

(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪৫-৪৬)

নবী (সা.)-এর আলোচনায় সুসংবাদ ও ভীতি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আলোচনায়ও সুসংবাদ ও ভীতি স্থান পেয়েছে। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আমার ও আমাকে আল্লাহ যা কিছু দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো এমন যে এক লোক কোনো এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে বলল, হে সম্প্রদায়! আমি নিজের চোখে সেনাবাহিনীকে দেখে এসেছি। আমি সুস্পষ্ট সতর্ককারী। কাজেই তোমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করো। তখন গোত্রের কিছু লোক তার কথা মেনে নিল, সুতরাং রাতের প্রথম প্রহরে তারা সে জায়গা ছেড়ে রওনা হলো এবং একটি নিরাপদ জায়গায় গিয়ে পৌঁছাল। ফলে তারা রক্ষা পেল। তাদের মধ্যের আর একদল লোক তার কথা মিথ্যা জানল। ফলে তারা নিজেদের জায়গায়ই রয়ে গেল। সকালবেলা শত্রু বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ চালাল, তাদের ধ্বংস করে দিল এবং তাদের উত্খাত করে দিল। এই হলো তাদের উদাহরণ, যারা আমার আনুগত্য করে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করে। আর যারা আমার কথা অমান্য করে তাদের দৃষ্টান্ত হলো, আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭২৮৩)

থাকবে পার্থিব জীবনের সুসংবাদ ও ভীতি

দ্বিনি আলোচনায় আলেম ও দ্বিন প্রচারকরা শুধু পরকালীন জীবনে সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শন করবে না, বরং দ্বিন পালনের পার্থিব উপকার এবং তা প্রত্যাখ্যান করার পার্থিব ক্ষতিগুলোও আলোচনা করবে। যেভাবে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, পুরুষ ও নারীর ভেতর যারা মুমিন অবস্থায় নেক আমল করে আমি তাকে উত্তম জীবন যাপন করাব। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)

আল্লাহ আরো বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও নেক কাজ করে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের, তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বিনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন। (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

 

ইসলাম কী বলে

স্কুল-কলেজে পড়ুয়া দরিদ্রদের জন্য জাকাতের অর্থ ব্যয়

স্কুল-কলেজে পড়ুয়া দরিদ্রদের জন্য জাকাতের অর্থ ব্যয়

যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে গরিব হয়, অর্থাৎ তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে এবং তার পড়াশোনা ও মৌলিক প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য না থাকে, তাহলে তাকে জাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ। সে দ্বিনের পথে চলুক বা স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করুকগরিব মুসলিম হওয়াই এখানে মূল বিষয়। তাই তার বৈধ পড়াশোনা, বইপত্র, ভর্তি ফি, থাকা-খাওয়া ইত্যাদির জন্য জাকাতের টাকা ব্যবহার করা যাবে। আল্লাহ তাআলা জাকাতের হকদারদের সম্পর্কে বলেন, জাকাত তো কেবল ফকির ও মিসকিনদের জন্য।

(সুরা : আত তাওবা, আয়াত : ৬০)

আর কাকে টাকা দেবেনএ ক্ষেত্রে উত্তম হলো জাকাতের মাল এমনভাবে দেওয়াযাতে গরিব ব্যক্তি মালিক হয়ে যায়।

জাকাদের হকদার যদি বুঝদার ও টাকা ব্যবহারে সক্ষম হয়, তাহলে সরাসরি তাকে দেবে। আর যদি সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে তার অভিভাবক বা দায়িত্বশীলকে দিতে পারবে। তবে নিয়ত থাকবে যে এই টাকা দরিদ্র সন্তানের প্রয়োজন পূরণের জন্য তার মালিকানায় দেওয়া হচ্ছে।