• ই-পেপার

মানুষের মুখোশে অতিমানব

উক্তি

উক্তি

এক বছরের মধ্যে পরিবেশের যতগুলো দূষণ আছে, সবগুলোর মাত্রা কমতে শুরু করবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু, পরিবেশমন্ত্রী

বগুড়ায় প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

বগুড়া অফিস
বগুড়ায় প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান
ওয়াকার-উজ-জামান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গতকাল দুপুরে তাঁকে বহনকারী আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের একটি  হেলিকপ্টার ঝিনাইদহ থেকে রওনা হয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেনাপ্রধান ঢাকা-পটুয়াখালী-ঝিনাইদহ-বগুড়া রুটে ৭ পদাতিক ডিভিশন, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে এই সফরে আসেন।

দুপুর দেড়টা  থেকে ২টা পর্যন্ত সেনাপ্রধান শিবগঞ্জের উথলী রথবাড়ী এলাকায় ১১ পদাতিক ডিভিশনের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি নেন এবং সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করেন। বিকেল ৩টার পর হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে শিবগঞ্জ ত্যাগ করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রেস  সচিব আতিক রহমান আতিক জানান, শিবগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও অযত্নে পড়ে থাকা হেলিপ্যাডটি সংস্কারের পর প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্কারকৃত এই হেলিপ্যাডে প্রথম যাত্রী হিসেবে অবতরণ করেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক

নগর নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নগর নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা
সালাহউদ্দিন আহমদ

পাকিস্তানের কাছে সেফ সিটি ও পুলিশ প্রশিক্ষণের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, নগর নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর সদর দপ্তরে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভিয়েতনামের জননিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোরও বৈঠক হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মহসিন নাকভীর সঙ্গে বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সীমান্ত ও সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এর ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন।

নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি প্রধান শহরে বাস্তবায়িত সেফ সিটি উদ্যোগ এবং আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অনুকরণীয় হতে পারে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের জননিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং-এর সঙ্গে বৈঠককালে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় স্তরে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগদান :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে  যোগ দিয়েছেন। এতে তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ইরাকে শ্রদ্ধায় সিক্ত খামেনি

আজ মাশহাদে দাফন

গাজী আব্দুর রশীদ, তেহরান থেকে
ইরাকে শ্রদ্ধায় সিক্ত খামেনি
ইরাকের নাজাফে খামেনির কফিন নিয়ে শোকার্ত মানুষের মিছিল। ছবি : রয়টার্স

গাজী আব্দুর রশীদ, তেহরান থেকে

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে শেষবিদায় জানাতে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও  কারবালাদুটি শহরই বুধবার পরিণত হয় শোক, শ্রদ্ধা ও সংহতির এক বিশাল জনসমুদ্রে। শেষবিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষ প্রথমে নাজাফে সমবেত হয়। পরে নাজাফ থেকে কারবালায় নেওয়া হয় খামেনির মরদেহ। দুটি স্থানেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষের উপস্থিতি ইরান ও ইরাকের জনগণের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের আরেকটি প্রতিফলন হয়ে ওঠে। আজ বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ দাফন করা হবে। সেখানে তাঁর শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার সকালে নাজাফে বিপুলসংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে শহীদ নেতার জানাজা ও শেষবিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে শহীদ নেতা এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান। পরে উভয় দেশের কর্মকর্তারা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা, ঐক্য ও অগ্রগতিতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

ইরাকের আল-আহদ টিভি জানিয়েছে, ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার অনুসারী নাজাফে এসে পৌঁছেছেন। শোকযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তাঁরা রাস্তায় ও ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারের চারপাশে অবস্থান নেন। নাজাফে অবস্থিত ইমাম আলী (রা.) মাজারে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেখানে এক জাঁকজমকপূর্ণ শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখো ইরাকি কফিন কাঁধে বহন করেন। আহদ টিভি আরো জানায়, খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার জন্য ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি বুধবার সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। তিনি বিমানবন্দরে শহীদ খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন।

বুধবার ভোর থেকেই নাজাফমুখী সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশের পাশাপাশি বিদেশি জিয়ারতকারীরাও শেষবিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে সমবেত হন। বুধবার দুপুরে নাজাফের মধ্য দিয়ে এক বিশাল গণ-শোকযাত্রার পর শহীদ নেতার মরদেহ ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক শোকাহত ইরাকি উপস্থিত ছিলেন।

নাজাফ থেকে তাসনিম নিউজ এজেন্সির সংবাদদাতার বরাতে জানা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের কারণে শহীদ নেতার মরদেহ বহনকারী গাড়িটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল। শোকাহতদের অত্যধিক উপস্থিতির কারণে পরিকল্পিত মিছিলটি পথের অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পথ অতিক্রম করতে চার ঘণ্টা সময় নেয়। মরদেহ বহনকারী গাড়িটির জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ প্রস্তুত করা হয়েছিল, কিন্তু ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিপুল জনতা সে পথে  ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারের দিকে যেতে থাকে। শোকার্ত ইরাকিরা ইরাক, ইরান ও হিজবুল্লাহর পতাকার পাশাপাশি শহীদ নেতার জন্য প্রতিশোধ ও ন্যায়বিচারের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে কালো শোক ব্যানার এবং লাল পতাকা বহন করে।

শহীদ আলী খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নাজাফ থেকে কারবালাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও বিস্তৃত সেবামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আপ্যায়ন কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি বহরের মাধ্যমে শহীদ নেতার মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি আবদুল মাহদি আল-কারবালায়ি পবিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জানাজার ইমামতি করেন।

ইরাকে এই গণ-শোকযাত্রা ও জানাজা ইরানের তেহরান ও কোমে অনুষ্ঠিত অভূতপূর্ব বিদায় অনুষ্ঠানের পর সম্পন্ন হলো। নাজাফ ও কারবালার অনুষ্ঠানগুলোর পর আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির মরদেহ চূড়ান্ত জানাজা ও শোক মিছিল এবং মাশহাদে ইমাম রেজা (রা.)-এর পবিত্র মাজারে দাফনের জন্য ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনব্যাপী আগ্রাসী যুদ্ধের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হন। তাঁর হত্যাকাণ্ড ইরান এবং প্রতিরোধ অক্ষশক্তিজুড়ে ব্যাপক নিন্দা ও শোকের জন্ম দেয়। জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা শহীদ নেতার জন্য ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের দাবিতে লাল পতাকা বহন করছেন।

গত শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্য দিয়ে দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শনি ও রবিবার যথাক্রমে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা হয়। সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ সময় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে শহরের রাজপথ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মঙ্গলবার শহীদ নেতার জানাজায় কোমের পবিত্র জামকারান মসজিদে লাখো অনুসারী সমবেত হন। শহীদ নেতার ইচ্ছানুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার (রা.) মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির লাশ দাফন করা হবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রেডিও তেহরানের বিদায়ি উপস্থাপক