• ই-পেপার

মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প

প্রকাশ্যে ডেকে বিক্রি হয় মাদক

উক্তি

উক্তি

বঙ্গোপসাগরে জ্বালানি সম্পদের উপস্থিতি আছে নিশ্চিত, উত্তোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শেখ রবিউল আলম, সড়ক পরিবহন, নৌ ও সেতু মন্ত্রী

হামে আক্রান্ত মালিহা

হামে আক্রান্ত মালিহা
হামে আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী মালিহার চিকিৎসা চলছে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল বাজেয়াপ্ত সম্পদের একাংশও ছাড় করা হয়েছে। লেবানন যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। রবিবার সুইজারল্যান্ডের স্টান্সস্ট্যাডের কাছে লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি ওই পোস্টে। এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।

এর আগে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে আরো লিখেছেন, পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের দৌত্যে লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সামনে প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে একমত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। দেশ দুটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মধ্যস্থতার ওপর রাজনৈতিক নজরদারি অটুট রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি (গঠনে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে রিপোর্ট করবেন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠন করা হবে। বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে এই কমিটি। সেই লক্ষ্যে এই সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে সমস্ত অমীমাংসিত ইস্যুতে কারিগরি আলোচনা চলবে। বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে যুক্ত করে একটি ডি-কনফ্লিকশন সেল গঠনে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সূত্র : আল জাজিরা

প্রস্তাব যাবে আইটিএফসির কাছে

তেল, এলএনজি ও সার কিনতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
তেল, এলএনজি ও সার কিনতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেবে সরকার

দেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায় বাংলাদেশ সরকার। তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির জন্য সৌদি আরবের জেদ্দায় ২১ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় বার্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারিত হতে পারে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২.০১ বিলিয়ন ডলার, এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলা ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং সার আমদানির জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা নিতে চায়। গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব চাহিদা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার কারণে বিপিসি চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে বেশি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। চলতি অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিপিসির চাহিদা ছিল ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এরই মধ্যে ছাড় করা হয়েছে। তবে নতুন অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে বিপিসি আইটিএফসির অর্থায়নের মুনাফার হার কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ রাখার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সদস্য দেশসহ যেকোনো জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতির কারণে তারা ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে পেরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এলএনজি পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির আওতায় পুরো ৬০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ফোর্স মেজর ঘোষণা করায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রয়োজন বাড়তে পারে। এ কারণে অন্তত দুটি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য অর্থায়ন ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ, কার্গো বাতিলের ঝুঁকি এবং সরকারের আর্থিক চাপ মোকাবেলাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে সার আমদানির অর্থায়ন নিয়ে নমনীয়তা চেয়েছে বিএডিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্ববর্তী চুক্তির আওতায় ১০০ মিলিয়ন ডলার শুধু সৌদি আরব থেকে সার আমদানির জন্য নির্ধারিত ছিল; কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সেই অর্থ এখনো ছাড় হয়নি। এ অবস্থায় বিএডিসি অবশিষ্ট ২০০ মিলিয়ন ডলার দ্রুত ছাড় করার পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো দেশ, বিশেষ করে আইএসডিবি সদস্য দেশগুলো থেকে সার আমদানির সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতের অর্থায়ন চুক্তিতেও কোনো নির্দিষ্ট দেশের বাধ্যবাধকতা না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইটিএফসি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ১৯৯৭ সালে বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানিতে অর্থায়ন শুরু হয় এবং ২০০৮ সাল থেকে আইটিএফসির মাধ্যমে সেই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি প্রায় ২১.৭৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি ও খাদ্য আমদানির চাহিদা বিবেচনায় সরকার শুধু ২.৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থায়নই নয়, আইটিএফসির সামগ্রিক অর্থায়নসীমা ৩.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করারও অনুরোধ জানিয়েছে। বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।