• ই-পেপার

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র, পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন হচ্ছে

  • বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ একটি স্বীকৃত নাম : সেনাপ্রধান

আজকের খেলা

আজকের খেলা

উক্তি

উক্তি

জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, নাটোরে শ্বশুরবাড়ি বলে অগ্রাধিকার দেবেন। তাহলে উনি নোয়াখালীতেও একটা বিয়ে করেন। আমরাও গ্যাস চাই।

এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এমপি, নোয়াখালী-১

সংসদে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৯ সালে সিঙ্গাপুর-কলম্বোর মতো দক্ষ হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৯ সালে সিঙ্গাপুর-কলম্বোর মতো দক্ষ হবে
শেখ রবিউল আলম

চট্টগ্রাম বন্দরের সব পরিকল্পিত কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পতেঙ্গা, লালদিয়া ও বে টার্মিনালের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে এই বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। ফলে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কনটেইনারের কাস্টমস পরীক্ষা ও অন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণেই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম বেশি।

তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুনে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালুর পর বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। আগে গভীর সমুদ্রে জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে সে পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে একটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গড়ে প্রায় ২.১ দিন সময় লাগে। পরিকল্পিত সব টার্মিনাল চালু হলে ২০২৯ সালের মধ্যে এ সময় কমে অর্ধদিনে নেমে আসবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এরই মধ্যে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে।

বে টার্মিনাল-২ বাস্তবায়নে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে বে টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় সব কনটেইনার টার্মিনাল চালু করতে পারলে ২০২৯ সালের মধ্যে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। তখন সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দ্রুত ও মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহবান ডা. জুবাইদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার আহবান ডা. জুবাইদার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে গতকাল নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান। গতকাল বুধবার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের  (জেডআরএফ) উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞানমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান।

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেডআরএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞানমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেডআরএফের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেডআরএফ গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের পরিচালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও জেডআরএফের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, জেডআরএফের পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে একই দিন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর আরো সবুজ, নির্মল ও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে উঠবে।

তিনি বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি প্রচলিত কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের সবুজ বিপ্লবে রূপান্তরের আহবান জানান। এ লক্ষ্যে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশভিত্তিক স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার বিষয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।