বাংলা প্রথম পত্র
কবিতা
[পূর্বপ্রকাশের পর]
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
১৮। ‘বিষণ্ন মেদুর’ কী?
উত্তর : ‘বিষণ্ন মেদুর’ বলতে বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকালের প্রকৃতির শুষ্ক ও রুক্ষ রূপকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রচণ্ড তাপদাহে আরো তীব্র হয়। তবে সামান্য বৃষ্টির আগমনে সেই নিষ্ঠুরতা দূর হয়ে প্রকৃতি আবার স্বস্তি ও স্নিগ্ধতা ফিরে পায়।
১৯। আবাদি গ্রাম বলতে কী বোঝো?
উত্তর : পদ্মা-মেঘনা নদীর দুই তীরের গ্রামগুলোতে নদীর পানির মাধ্যমে সহজে সেচের ব্যবস্থা থাকায় কৃষকরা বৃষ্টির ওপর নির্ভর না করে ভালো ফসল ফলাতে পারে, তাই এসব গ্রামকে আবাদি গ্রাম বলা হয়।
২০। ফররুখ আহমদের গ্রামের নাম কী?
উত্তর : ফররুখ আহমদের গ্রামের নাম মাঝআইল।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
১। রৌদ্র-দগ্ধ ধানক্ষেত আজ বৃষ্টির স্পর্শ পেতে চায় কেন?
উত্তর : রৌদ্রদগ্ধ ধানক্ষেত দীর্ঘদিন ধরে প্রচণ্ড রোদের তাপে শুকিয়ে গেছে, ফলে ফসলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বৃষ্টির পরশ পেলে এই ধানক্ষেত আবার সজীব হয়ে উঠবে, নতুন প্রাণ পাবে। কবিতায় এটি প্রকৃতির এক অনিবার্য আকাঙ্ক্ষা হিসেবে চিত্রিত হয়েছে, যেখানে বৃষ্টি যেন ধানক্ষেতের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
২। ‘বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়।’ চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : আলোচ্য চরণটিতে বৃষ্টি হওয়ার পূর্বমুহূর্তের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে।
বৃষ্টি হওয়ার পূর্বমুহূর্তে সারা আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। সূর্যও ঢাকা পড়ে ঘন মেঘের আস্তরণে। প্রকৃতির বুকেও তাই যেন কালো রঙের এক চাদর নেমে আসে। ‘বৃষ্টি’ কবিতায় কবি এই কালো ছায়াকে কাজলের সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বৃষ্টির আগমনী বার্তা বহন করে আনা মুহূর্তের এমন চমৎকার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে চরণটির মাধ্যমে।
৩। বৃষ্টির দিন একাকী জীবনে বিরহ বাড়ায় কেন?
উত্তর : বৃষ্টির দিন মন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে বলে একাকী জীবনে বিরহ বাড়ে।
বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষ রসসিক্ত হয়ে পড়ে। অতীতের নানা সুখময় স্মৃতি মনের কোণে উঁকি দেয়। একাকী মানুষ তার আনন্দ বা কষ্টের অনুভূতিগুলো সম্পর্কে কথা বলার জন্য কাউকে খুঁজে পায় না। তাই বৃষ্টির দিনে সঙ্গীহীন মানুষের মনে সঙ্গীর জন্য ব্যাকুলতা তৈরি হয়। মন বিরহী হয়ে ওঠে।
৪। ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বৃষ্টিকে বহু প্রতীক্ষিত বলা হয়েছে কেন?
উত্তর : বৃষ্টির অভাবে মানবমন ও প্রকৃতি থেকে প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যায় বলে ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বৃষ্টিকে বহু প্রতীক্ষিত বলা হয়েছে।
গ্রীষ্মকালের প্রখর তাপে মাঠ-ঘাট, বৃক্ষ সবকিছু প্রাণহীন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবনও ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। মানুষ তখন ব্যাকুল হয়ে থাকে একপশলা বৃষ্টির জন্য। ‘বৃষ্টি’ কবিতার কবি ফররুখ আহমদের ভাষায়, দগ্ধ প্রকৃতিও যেন উন্মুখ হয়ে থাকে বৃষ্টির শীতলতায় নিজেকে জুড়িয়ে নিতে। এ কারণেই ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বৃষ্টিকে বহু প্রতীক্ষিত বলা হয়েছে।
৫। ‘পাড়ি দিয়ে যেতে চায় বহু পথ, প্রান্তর বন্ধুর’—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : বৃষ্টির দিনে মন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে, এ বিষয়টি বোঝানো হয়েছে আলোচ্য চরণটিতে।
বর্ষণমুখর দিনে অনুভূতিপ্রবণ মানুষের মন রসসিক্ত হয়। স্মৃতির জানালা খুলে মানুষ চলে যায় বহুদূর। মনে পড়ে যায় সুখময় অতীত, পুরনো স্মৃতি। সেই ভালোলাগা দিয়ে মানুষ আপন মনে আলপনা এঁকে চলে।



