• ই-পেপার

ক্যান্সার রোগীদের দুর্ভোগ কমান

  • সাত বছরেও চালু হয়নি বিভাগীয় হাসপাতাল

শিশুর বাসযোগ্য সমাজ চাই

থামছে না শিশুর প্রতি সহিংসতা

শিশুর বাসযোগ্য সমাজ চাই

শিশুরা কতটা নিরাপদে বেড়ে উঠছে, তা হতে পারে একটি সুস্থ সমাজের মাপকাঠি। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করতে হয়, আমাদের সমাজে শিশুরা মোটেও নিরাপদে নেই। জীবনের ডালপালা মেলার আগেই তাদের ওপর নেমে আসছে খুন, ধর্ষণ, হত্যার মতো পৈশাচিকতা। গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, গত সাড়ে পাঁচ বছরে প্রতি মাসে গড়ে ৪২ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। ভয়াবহ বাস্তবতা হলো, এর চেয়ে অনেক বেশি শিশু প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সামাজিক ভয় বা সম্মানহানির কারণে অনেক ঘটনা আমাদের সামনে পর্যন্ত আসছে না।

দেখা যাচ্ছে, সামান্য কারণেও শিশুদের ওপর নেমে আসছে পাশবিক নির্মমতা। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে কানের দুল ছিনিয়ে নিতে ফারজানা ইয়াসমিনকে (৯) শ্বাস রোধ করে হত্যার পর আলমিরার ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখেন প্রতিবেশী এক নারী। জানাজানি হলে অভিযুক্ত নারীকে স্থানীয় লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে। রাজধানীর তুরাগ থানায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সাত মাস বয়সী শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করেন স্বামী কবির হোসেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এমন ঘটনা একটি-দুটি নয়, হাজার হাজার। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে গত সাড়ে পাঁচ বছরে (২০২১ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত) দুই হাজার ৭৭৬ জন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৪২ জন শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় ৫৬৬ জন শিশুকে। আর ৪৭৪ জন শিশু পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অপর এক খবরে বলা হয়েছে, সামাজিকভাবে ৯ ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। উৎকণ্ঠার ব্যাপার হলো, এসব নৃশংসতা সমাজে বেড়েই চলেছে। জানা গেছে, গত ছয় মাসে এক হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪২। অর্থাৎ নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা, জীবিকার অনিশ্চয়তা থেকে বেশির ভাগ সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিচারহীনতার পরিবেশ সব ধরনের অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশের অবকাঠামোগত নানা দিক উন্নত হলেও সামাজিক মূল্যবোধ এখনো পশ্চাৎপদ।

আমরা মনে করি, সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের উপযুক্ত সাজা দিতে হবে। একই সঙ্গে পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা অপরিহার্য।

জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

ভুল চিকিৎসায় জীবন বিপন্ন

জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

দেশের স্বাস্থ্য খাতে নানা অগ্রগতি হয়েছে, তবে সেবার মান নিয়ে এখনো অভিযোগের অন্ত নেই। প্রায়ই শোনা যায় চিকিৎসকের ভুলে রোগীর মৃত্যুর খবর। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়েছে—এমন এক খবর গতকাল এসেছে কালের কণ্ঠে। দেখা গেছে, রক্তের ভুল রিপোর্টের কারণে ১৫ মাস বয়সী শিশুকে এক-দুইবার নয়, ২১ বার ভুল রক্ত দেওয়া হয়েছে। এতে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু আয়মানের জটিলতা আরো বেড়েছে। পিছিয়ে গেছে কেমোথেরাপির ডোজ, কয়েক লাখ টাকা তো গচ্চা গেছেই। প্রশ্ন হলো, এর দায় কার? আয়মানের শরীরের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল, তার কী হবে?

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত ৩ জুন আয়মানকে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, আয়মান লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। রক্তের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়সহ ১১টি পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। সব পরীক্ষা শিশু হাসপাতালেই করানো হয়েছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, শিশুটির রক্তের গ্রুপ ‘এ নেগেটিভ’। এরপর আয়মানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা পুনরায় রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার পরামর্শ দেন। এর পরই দেখা যায়, তার প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘এ পজিটিভ’। আরো বেশ কয়েক জায়গায় পরীক্ষার রিপোর্ট একই আসে। কিন্তু তার আগেই যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আয়মানের বাবার ভাষ্য, ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে ২১ বার রক্ত ও প্লাটিলেট সংগ্রহ এবং সঞ্চালন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়-সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ভুল গ্রুপের রক্ত সঞ্চালনের পর শিশুটির শরীরে র‌্যাশ, সংক্রমণ, ডায়রিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ক্যানুলা লাগানোর স্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দুই হাতেই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

বাংলাদেশে এমন ঘটনা বিরল নয়। এসব ভুল নিয়ে বিগত বছরগুলোতে শত শত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর করা হয়েছে। হতাশার ব্যাপার হলো, এর বেশির ভাগই নিষ্পত্তি হয়নি। দায়ী চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর নিবন্ধন বাতিলের ঘটনাও তেমন শোনা যায়নি। এমন গাফিলতির কারণে দায়ী ব্যক্তিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আয়মানের বিষয়টি তদন্তাধীন। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিশু আয়মানের পরিবারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে। সর্বোপরি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে জবাবদিহি ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ নিন

রাজধানীর অপরাধজগৎ

নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পদক্ষেপ নিন

রাজধানীসহ সারা দেশেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জনজীবনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেও খুনখারাবির অনেক ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে এমন অনেক খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রাজধানীর অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণকারী আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক শ্যুটার বা পেশাদার হত্যাকারী সক্রিয় রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন, তারিক সাইফ মামুন, ইয়াছিন খান ওরফে কাইল্লা পলাশসহ অন্তত ১১ জনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আড়ালে থেকে পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা ‘শ্যুটারবাকিলার গ্রুপ’ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের কাছে ছোট ও ভারী—দুই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রই রয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নিকট ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের আরো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

দেশের বাইরে থেকেও অনেক হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি সূত্রের দাবি, টিটন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ বিদেশ থেকে এসেছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর টিটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ভাঙ্গারি রনি ওরফে রনিকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, রনি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটি কিলার গ্রুপের সদস্য এবং পেশাদার সন্ত্রাসী বলে তদন্তে তথ্য মিলেছে। হত্যা, হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সে নির্দেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে র‌্যাব-২ মিন্টু শেখ নামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ ২৯টি মামলা রয়েছে।

কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত আরেক খবরে বলা হয়, বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার কারণে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে হত্যা করা হয়েছে এক গৃহবধূকে। যশোরে পুত্রবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টাকালে শাশুড়ির দায়ের কোপে এক সন্ত্রাসীর মৃত্যু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্রাইভেট কার চালকের মারধরে মারা গেছেন এক অটোরিকশাচালক। এ ছাড়া যশোরে এক ভ্যানচালকের লাশ পাওয়া গেছে।

সারা দেশেই গুরুতর অপরাধের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান দেশে প্রবেশ করছে। মাদকের কারবার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেমন খুনখারাবি বাড়ছে, তেমনি মাদকাসক্তরা মাদক কেনার অর্থ জোগাতে অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সারা দেশেই কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বেড়েছে। বেড়েছে মোটরসাইকেলসহ যানবাহন চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং নানা ধরনের প্রতারকচক্রের কর্মকাণ্ডও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে।

আমরা আশা করি, অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর কর্মকাণ্ড ব্যাপক করা হবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান রোধে সীমান্তে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।

সুষম খাদ্য চাই সবার জন্য

নাগালের বাইরে স্বাস্থ্যকর খাবার

সুষম খাদ্য চাই সবার জন্য

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ক্রয়ে দেশে সক্ষম মানুষের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়লেও এখনো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাছে সুষম খাদ্য নাগালের বাইরে। বর্তমানে দেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে অন্তত দুজনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। গত বছর প্রায় ছয় কোটি ৭৮ লাখ মানুষ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারেনি। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথভাবে প্রকাশিত দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন চিত্র দেখা গেছে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে, যদিও মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। দেখা গেছে, ২০১৭ সালে যেখানে প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ছয় কোটি ৭৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। তার পরও গত বছর দেশের ৩৮.৬ শতাংশ মানুষ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে পারেনি। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশে এই সংকট সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে এই হার ৬৩ শতাংশ, আর ভারতে ৩৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা বলতে প্রতিদিন মাথাপিছু দুই হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম এমন খাদ্যকে বোঝানো হয়েছে। এতে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শুঁটিজাতীয় খাদ্য, বাদাম ও বীজ, শাক-সবজি, ফলমূল এবং তেল-চর্বিএই ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের গড় ব্যয় ২০১৭ সালের ৩.৯ ডলার (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী) থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান (৬.১৭ ডলার) ও শ্রীলঙ্কার (৫.২১ ডলার) পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

এদিকে গত বছর টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে এখনো বিশ্বে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে ব্যাপক কাজ করতে হবে।

আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যকর খাদ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা দরকার। পাশাপাশি পরিবহনব্যবস্থা, সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াকরণসহ বাজারব্যবস্থা উন্নয়ন করে খাদ্য অপচয় রোধ করা একান্ত অপরিহার্য।