• ই-পেপার

বিস্তৃত হোক সম্পর্কের দিগন্ত

  • প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর

সক্ষমতা বাড়াতে হবে

গভীর সংকটে ব্যাংক খাত

সক্ষমতা বাড়াতে হবে

আধুনিক অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক বাণিজ্য কিংবা রাজস্ব আহরণপ্রতিটি ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অনেকাংশেই নির্ভর করে শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর। দেশের অর্থনীতি এখন নানামুখী সংকটে জর্জরিত। এ সময়ে ব্যাংকিং খাতের কার্যকর ভূমিকা আরো বেশি জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যাংকিং খাত নিজেই বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। সক্ষমতার ঘাটতি ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোকে সাময়িক প্রয়োজন মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিতে হয় প্রায় ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এটি ব্যাংক খাতের ভেতরের গভীর সংকট ও দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন লেনদেন সচল রাখা এবং নগদ সংকট মোকাবেলার জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের সহায়তা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। যদিও এসব ঋণ দীর্ঘমেয়াদি নয়এক দিন, সাত দিন, ১৫ দিন বা এক মাসের মতো স্বল্পমেয়াদি তারল্য সহায়তা হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং পরে ব্যাংকগুলো তা ফেরত দিয়েছে, তবু এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতিই প্রকাশ পায়।

ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি বলেন, গত বছর ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। এটি ব্যাংক খাতের গভীর দুর্বলতার ইঙ্গিত। অনেক ব্যাংক নিজেদের তহবিল ব্যবস্থাপনায় দক্ষ না হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর করছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল সুশাসন, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং খেলাপি ঋণের বিস্তার।

ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ মনে করেন, অতীতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। কারণ মূল সমস্যাগুলো অমীমাংসিত থেকে গেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে ব্যাংকিং খাতকে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে সংস্কার করা যায় তার ওপর। পুনর্মূলধনীকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, ব্যাংক একীভূতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোসব পদক্ষেপকে একটি সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। আর তা করতে হবে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে।

তরুণসমাজকে সুরক্ষা দিন

নতুন নতুন মাদকের থাবা

তরুণসমাজকে সুরক্ষা দিন

দেশে দ্রুত বাড়ছে মাদকাসক্তি। ক্রমেই সহজলভ্য হয়ে পড়ছে মাদকপণ্য। ভয়াবহরূপে বিস্তার লাভ করেছে মাদকের কারবার। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যেই চলছে বিক্রি। অন্যান্য পণ্যের মতো হাঁকডাক করে বিক্রি হচ্ছে মাদকপণ্যও। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, সম্প্রতি বাজারে এসেছে নতুন ধরনের কৃত্রিম মাদক, যার প্রায় শতভাগ ক্রেতাই তরুণ প্রজন্মের। এগুলোর বড় অংশ দেশের বাইরে থেকে এলেও খোদ ঢাকায়ও পাওয়া গেছে কারখানা। সংগত কারণেই দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সুধীজনরা।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন মাদকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে এক ডজনেরও বেশি নাম। প্রচলিত মাদকদ্রব্য ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, আফিম, হেরোইন, কোকেন, পেথিডিনের সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে এমডিএমবি, আইস, খাথ, এলএসডি, ফেন্টানাইল, ব্ল্যাক কোকেন, এমডিএমএ, ডিএমটি, ডিওবি, ম্যাজিক মাশরুম, কুশ, ট্যাপেন্টাডল, ট্রামাডল ও কিটামিনের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর মাদক। এসব মাদকের প্রায় ৯০ শতাংশই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। অন্যদিকে প্রচলিত মাদকের বিস্তারও থেমে নেই। গত বছর গড়ে যেখানে প্রতি মাসে ৩৬ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই গড়ে প্রতি মাসে ৪০ লাখের বেশি ইায়াবা জব্দ করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

নতুন ধরনের মাদকের বেশির ভাগই আসছে ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে। এসব চক্রের বড় অংশই বিদেশি। গত মার্চ মাসে উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চীনা তিন নাগরিককে। ওই ফ্ল্যাটের ভেতর পাওয়া যায় অস্থায়ী ল্যাবরেটরি, যেখানে কয়েক ধরনের রাসায়নিকদ্রব্য মিশিয়ে সিনথেটিক মাদক তৈরি করা হচ্ছিল।

এদিকে মাদকের বিস্তার রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ অভিযানও চলছে। গত ১ মে থেকে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। র‌্যাবের তালিকায় চিহ্নিত হয়েছে তিন হাজার মাদক কারবারি। তালিকা ধরে ধরে অভিযানের কথাও বলা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে উল্টো কথা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প মাদকের পরিচিত হটস্পট। সেখানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় মাদক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, কিন্তু সেখানকার গডফাদাররা গ্রেপ্তার হয়নি। পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি। আবার গ্রেপ্তার হলেও কয়েক দিন পর জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনরায় মাদক কারবার শুরু করেছে, এমন নজিরও কম নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার যদি কঠোর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদকই হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এসব মাদক নানা ফাঁকফোকর গলিয়ে আদল পাল্টে সেবীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মাদক কারবারি ও সেবীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চালু রয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দেখতে চাই। নতুন ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর ও আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ জরুরি।

সময়োপযোগী প্রস্তুতি প্রয়োজন

বন্যার পূর্বাভাস

সময়োপযোগী প্রস্তুতি প্রয়োজন

বর্ষা মৌসুম সবে শুরুএর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে এখনই কিছু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলে আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগামী কয়েক দিন ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।

বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের চার জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। অন্যদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও সিলেটে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের বার্তা বলছে, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটের সব কটিই খুলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে আগামী তিন দিন ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানির বিপৎসীমা অতিক্রমের বড় ঝুঁকি রয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, দেশের কিছু অঞ্চল প্রতিবছরই প্লাবিত হচ্ছে। প্রতিবছরই বন্যার সময় পত্রিকার পাতায় লাখো বানভাসি মানুষের ছবি দেখা যায়। বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, গবাদি পশুর মৃত্যু বহু মানুষকে একেবারে নিঃস্ব করে তোলে। সেই তুলনায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের তেমন প্রস্তুতি থাকে না। বন্যা ঠেকাতে যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রয়েছে। গতকালই কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন অন্তত ৪০টি পয়েন্টে ছোট ছোট ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে স্থানীয় গোয়ালডাঙ্গা বাজার ভাঙনের মুখে প্রায় বিলীন হওয়ার উপক্রম।

এটি ঠিক যে উজানের ঢলের ওপর আমাদের হাত নেই। বৃষ্টিও নিয়ন্ত্রণের উপায় নেই। কিন্তু দেশের নদ-নদীর নাব্যতা বাড়ালে পানি দ্রুত নিচে নেমে যেতে পারে। পাউবোর বাঁধগুলো টেকসই হলেও অনেক সুরক্ষা মিলবে। প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আমরা মনে করি, বর্ষার শুরুতেই বন্যার পূর্বাভাস, মানে ভরা বর্ষায় পরিস্থিতি আরো বেসামাল হবে। এ জন্য সরকারকে আগাম ও টেকসই প্রস্তুতি নিতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন

গভীর সংকটে আবাসন খাত

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন

অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দেশের আবাসন খাত বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। করোনা মহামারির পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে এই খাতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. আলী আফজাল কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নানা দিক তুলে ধরেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে নির্মাণসামগ্রী ও আবাসন খাতে কর ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের প্রভাব কেমন হবে? জবাবে তিনি বলেন, অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফ্ল্যাটের দাম ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং নতুন বিনিয়োগও কমে যাবে। জানা গেছে, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বিশেষ করে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ক্রেতা নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে বাজেটে কর বৃদ্ধি ও শুল্ককাঠামোর পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিহ্যাব দীর্ঘদিন থেকে স্বল্প সুদে গৃহঋণ দাবি করে আসছে। এ প্রসঙ্গেও আলী আফজাল বলেন, এবারের বাজেটে আমাদের মূল দাবিগুলো প্রতিফলিত হয়নি। এ ধরনের অপ্রাপ্তির তালিকা কম দীর্ঘ নয়। অথচ দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় খাত আবাসন। এখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান। প্রতিবছর রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য উৎস থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই খাতে সংকট থাকলেও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আলী আফজাল জানান, ঢাকার বাইরে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শহরে এরই মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা।

আশ্রয় হলো মানুষের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্রকে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য আবাসন খাতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করা প্রয়োজন। সিঙ্গল ডিজিট সুদের হোম লোন, ২০ থেকে ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি ব্যবস্থা, রেজিস্ট্রেশন খরচ ৩ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি অনেক দিনের। এ ছাড়া মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ হাউজিং ফান্ড ও অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধ পথে আনার বাস্তবসম্মত নীতির প্রতিফলন চায় খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সার্বিক দিক বিবেচনায় আলী আফজাল বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং ১০০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। আমরাও মনে করি, সঠিক পরিকল্পনা ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা গেলে আবাসন খাত আবারও স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধিমুখী হয়ে উঠবে।