প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে রাতভর জেগে থাকা এখন অনেকের কাছে এক সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিনোদন বা প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে ওঠা এই অভ্যাসের মূল্য দিতে হচ্ছে শরীরকে। নিয়মিত রাত জাগা মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’-এর কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ছন্দঃপতন ঘটে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বক, চোখ, মস্তিষ্ক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। ঘুমের অভাবে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ব্রণের প্রকোপ বৃদ্ধি, ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলা এবং চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা এবং সার্বক্ষণিক ক্লান্তিবোধও বাড়তে পারে।
ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, বরং কোষ পুনর্গঠন, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কাজের প্রয়োজন কিংবা বিনোদনের আকর্ষণে রাত জাগতে হলেও নিজের শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। বিশ্বকাপের খেলা, রাতের শিফট কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাস, যে কারণেই রাত জাগুন না কেন, কিছু সচেতনতা আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে পারে।
ত্বকের যত্নে যা করবেন
* পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
* ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
* হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
* ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল খান।
* দিনে বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
চোখের যত্নে করণীয়
* প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান।
* নিয়মিত পলক ফেলুন।
* পর্যাপ্ত আলোতে খেলা দেখুন।
* চোখ শুষ্ক লাগলে কৃত্রিম অশ্রু বা আই ড্রপ ব্যবহারের বিষয়ে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
* খেলা শেষ হওয়ার পর কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ রেখে বিশ্রাম দিন।
* প্রয়োজনে ব্লু লাইট ব্লকার গ্লাস ব্যবহার করুন।
ঘুমের পরিকল্পনা
* প্রতিদিন সম্ভব হলে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে ও জাগতে চেষ্টা করুন।
* রাত জাগতে হলে দিনে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট পাওয়ার ন্যাপ নিতে পারেন।
* ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার ও শীতল রাখুন।
* ঘুমানোর আগে চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।
খেলা দেখার সময়
রাতের বেলা ভারী খাবার খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। কারণ রাতে শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি তুলনামূলকভাবে কমে যায় এবং গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণও দিনের তুলনায় কম কার্যকর হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে নাইট শিফটে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গভীর রাতে নিয়মিত বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ ওজন বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হূদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই রাত জেগে কাজ বা খেলা দেখার সময় ভারী ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে হালকা ও পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নিন।
যা খাবেন
* মৌসুমি ফল; যেমন—আপেল, কমলা, পেয়ারা বা তরমুজ খেতে পারেন।
* বাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট ও কুমড়ার বীজ ভালো বিকল্প।
* ঘরে তৈরি স্যান্ডউইচ, সালাদ বা হালকা স্যুপ খেতে পারেন।
* অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন।
* ডিম খেতে পারেন।
* দুধ ও দই খেতে পারেন।
* সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ।
সারা দিন ত্বকের কোষে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা মেরামতের কাজ শুরু হয় রাতের বেলা। এই প্রক্রিয়াকে ত্বকের রিজেনারেশন বা পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া বলা হয়। রাত জাগা যদি একেবারেই এড়ানো না যায়, তবে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, পানি পান এবং চোখ-ত্বকের সঠিক যত্নের মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশ্বকাপের উত্তেজনা উপভোগ করুন, তবে নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও সমান নজর রাখুন।