খুবই সাদামাটা একটি রেস্টুরেন্ট। তবে তাতে পদের অভাব নেই। লাল ভুনা, কালা ভুনা, কলিজা ভুনা, মগজ ভুনা, পায়া, নলি, ভুঁড়ি ভুনা, ঝুরা মাংস, ডালগোশত, মাংসের আচার, কি পাবেন না এখানে! গরম গরম পরোটা কিংবা ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে এখানকার স্পেশাল বিফ ভুনার জন্যও আলাদা পরিচিত বিফওয়ালা। সকালের নাশতা এবং দুপুর ও রাতের খাবারের আয়োজন রয়েছে এখানে। আছে বিশেষ থালি, যেখানে পাবেন ১০ ধরনের গরুর মাংসের আইটেম। একজনের থালির দাম ৭৯০ টাকা, তিনজনের থালি দুই হাজার ২৫০ টাকা, চারজনের থালির দাম দুই হাজার ৯৯০ টাকা। তবে একজনের থালিতে নলি পাবেন না। এ জন্য আলাদা অর্ডার করতে হবে। আগে শুধু শুক্রবারে থালির আয়োজন থাকলেও এখন প্রতিদিন পাওয়া যায়। নিজেদের খামারের গরুর মাংস দিয়ে রান্না করা হয় এখানকার প্রতিটি পদ। এ জন্য খাবারের স্বাদও হয় অন্য সব রেস্টুরেন্টের চেয়ে আলাদা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আবুল হাসনাত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, এমবিএ সম্পন্ন করে কিছুদিন চাকরি করেছেন। এরপর উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের খামারের গরুর যত্ন, খাবার থেকে স্বাস্থ্য—সবকিছু আমরা নিজেরাই মেইনটেন করি। এ জন্য খাবারের মানে কোনো হেরফের হয় না। আপনি যখন বিফওয়ালার লাল ভুনা, নেহারি, কলিজা ভুনা, স্পেশাল বিফ আচার, নলি বা মগজ ভুনা খান, নিশ্চিত থাকতে পারেন যে প্রতিটি টুকরা এসেছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সঠিক যত্ন ও মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়েই। আমরা বিশ্বাস করি, মাংসের স্বাদ শুরু হয় এর উত্স থেকে। এখানে লাকড়ির চুলায় রান্না করা হয়।’
ফার্ম টু প্লেট—এই মূলনীতি নিয়ে ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করে বিফওয়ালা। আহলান অ্যাগ্রোর এক্সটেনশন এবং এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট হচ্ছে বিফওয়ালা। এই অ্যাগ্রোতে দেশি ষাঁড় গরু নিরাপদ খাবারে লালন-পালন করে মাংস বিক্রি করা হয়। মাংস বিক্রি করতে গিয়েই রেস্টুরেন্টের ভাবনা আসে হাসনাতের মাথায়। এর পরই শুরু হয় বিফওয়ালার কার্যক্রম। তিনি বলেন, ‘মাংস বিক্রির পর অনেক সময় কলিজা, ফোপড়া ও মগজ বেঁচে যেত। অথচ এগুলোর চাহিদাই বেশি। আমাদের স্টাফ আছেন ২০ জনের মতো। তাদের জন্য রান্না করতে হতো। তার সঙ্গে আরো কিছু বাড়তি মাংস নিয়ে শুরু করি রান্না করে বিক্রি করা মাংসের পদ।’
শুরুতে বিফ ফেস্ট আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। দেশের ঐতিহ্যবাহী পদ নিয়ে বুফে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বুফেতে খাবার অপচয় ভেবে থালি কনসেপ্ট বেছে নেন। সুন্দর ছিমছাম প্রাকৃতিক পরিসরে ছোট্ট এই রেস্টুরেন্টের পরিবেশ ভালো লাগবে সবারই। লোকেশন বেশ ভেতরে। এটি নিয়ে বেশ দোলাচলে ছিলেন যে ক্রেতারা আসবেন কি না। কিন্তু খাবার ভালো হলে ইলিশ খেতে মানুষ মাওয়ায় যায়। তবে বসিলায় আসবে না কেন? এই আশাই সাহস জুগিয়েছে হাসনাতকে। লোকেশন বা ইন্টেরিয়রের চেয়ে খাবারের মান ও ভিন্নতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ভিন্নতা আনতে চালু করেন গরুর পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব অংশের মাংসের রান্না দিয়ে ১০ পদের থালি। এই থালির খোঁজে প্রতিনিয়ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে ভোজনরসিকরা চলে আসেন এখানে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বেশি প্রত্যাশা নিয়ে এসে বাঁশ, কাঠ দিয়ে তৈরি এবং এসিবিহীন ইন্টেরিয়র দেখে হতাশ হন। সামনের কাঁচা রাস্তা সেই হতাশার পারদ আরো চড়িয়ে দেয়। তবে খাবার মুখে দিলে নিমেষেই তাঁদের বিরক্তি উবে যায়। এটিই আমাদের বড় পাওয়া।’ তিনি জানান শিগগিরই শ্যামলীতে দ্বিতীয় আউটলেট চালু হবে বিফওয়ালার।
উদ্যোক্তাদের মূল ব্যবসা গরুর ফার্ম। রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন আহলান অ্যাগ্রোতে দেশি ষাঁড়, দুধেল গাই, বাছুর, ঘোড়া, ছাগল, খরগোশ, বিড়াল, কবুতর, গাড়ল ও ভেড়া দেখতে পাবেন। আপনার সন্তানকে গ্রামীণ পরিবেশে এসব পশুপাখির সঙ্গে পরিচয় করাতেও ঢু মারতে পারেন বিফওয়ালায়।
লোকেশন : বসিলা গার্ডেন সিটি
বসিলা, মোহাম্মদপুর।
যোগাযোগ : ০১৭৫৭-০৩১৪৪০





