• ই-পেপার

রাজধানীতে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন

অপচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অপচয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে তিনি দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করে কীভাবে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার পথ দেখাচ্ছেন। তাঁর কয়েকটি পদক্ষেপ জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সর্বশেষ উদাহরণ হলো, সরকারি অর্থের অপচয় না করে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কারণে একদিকে যেমন টি স্পোর্টস, বিটিভি ও সময় টিভি বিশ্বকাপের খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। তেমন রাষ্ট্রের প্রায় দেড় শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’ শুরুতে ফিফার কাছ থেকে এ সম্প্রচারস্বত্ব কিনে নিয়েছিল। তারা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে ১৫১ কোটি টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেয়। কর, ভ্যাটসহ যার মোট মূল্য দাঁড়াত প্রায় ২০০ কোটি টাকা। চড়া মূল্যের কারণে কোনো চ্যানেল এটি কিনতে রাজি হয়নি। এ সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দেখাতে পারবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সরকার জনগণের বিপুল অর্থ এভাবে অপচয় না করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ যখন স্প্রিংবকের কাছ থেকে বিশ্বকাপ সম্প্রচার কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেয়, তখন প্রতিষ্ঠানটি বাধ্য হয়ে খেলার স্বত্ব ফিফাকে ফেরত দেয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাফুফে সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং গতবারের চেয়েও কম দামে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করার স্বত্ব কিনে নেয়। বাংলাদেশের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখাতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের বারের চেয়ে এবার খরচ কমেছে ২৫ কোটি টাকা। অথচ এবার বিশ্বকাপের সম্প্রচার খরচ সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে এ দেশে রীতিমতো লুটপাট হয়েছিল।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানো নিয়ে জটিল অবস্থা তৈরি হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ওই বছর খেলা দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এজন্য তমা কনস্ট্রাকশনকে দিতে হয় ৯৮ কোটি টাকা। যাদের এ ধরনের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়া তমা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে যাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এ প্রচারস্বত্ব কেনা যায়, এ-বিষয়ক প্রস্তাবে তখন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আওয়ামী লীগ আমলে ঠিকাদারি কাজ বেশি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি তমা কনস্ট্রাকশন।

তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আতাউর রহমান ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন (নোয়াখালী-২)। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। তিনি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। এটাই বিগত তিন মাসে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র পদক্ষেপ নয়।

মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের এ বিদেশ সফরের অনুমোদন দেননি। মশা নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই, দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে অবস্থান করলে মশা নিধনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন তিনি। কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার প্রস্তাব অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং তিনি মত দিয়েছেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে নতুন নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দুপুরের খাবার ও বিকালের নাশতা মিলিয়ে মোট বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ১৫০ টাকা, যা আগে ছিল এর ৫ গুণের বেশি। এমপিদের ১ কোটি টাকার থোক বরাদ্দের নামে লুটপাট বন্ধে প্রধানমন্ত্রী যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে সরাসরি এমপিদের কাছে থোক বরাদ্দের অর্থ যাবে না। তাঁরা তাঁদের এলাকায় কী কী উন্নয়নকাজ লাগবে তার তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবেন। প্রধানমন্ত্রী চাহিদা নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেবেন। এর ফলে একদিকে যেমন দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ হবে, তেমন সারা দেশে পরিকল্পিত এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এ রকম উদাহরণ অনেক।

বাংলাদেশে বিগত সময়ে উন্নয়নের নামে অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি বললেও কম বলা হবে, রীতিমতো লুটপাট হয়েছে। একেকটি প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে লাগামহীনভাবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কয়েক গুণ খরচ বাড়ানো হয় শুধু দুর্নীতির জন্য। এভাবেই জনগণের অর্থ অপচয় হয়েছে। ইউনূস সরকারের আমলে এ দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বরং আরও বাড়ে। বিদেশ সফরের নামে ইউনূস কোটি কোটি টাকার অপচয় করেছেন। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রীতিমতো হরিলুট হয়েছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহ তৎকালীন জেলা পরিষদের মাধ্যমে নিজেদের দুই উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে তার জেলার অন্য ১২ উপজেলার সঙ্গে বৈষম্য করেছেন। উল্লিখিত তহবিলের টাকা ছাড়াও তারা দুজন তাদের এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আরো অনেক বড় বড় বরাদ্দ এনেছেন বলে দাবি করেছেন মোস্তাক মিয়া। এভাবেই বিগত বছরগুলোতে দুর্নীতি ও অপচয় হয়েছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।

আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। শুধু নীতি গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি, নজির স্থাপন করে তিনি সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকার বার্তা দিচ্ছেন। দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতির রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে বটে, কিন্তু অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে হলে দেশের বেসরকারি খাতকে বাঁচাতে হবে।

ইউনূস সরকারের দেড় বছরে বেসরকারি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বেসরকারি খাত ধ্বংসের মিশনে নেমেছিলেন ইউনূস এবং তার বাহিনী। বাংলাদেশের বেসরকারি খাত এখন মনোবলহীন, হতাশ। তারা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। অনেকেই উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় যেভাবে বেসরকারি খাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ফখরুদ্দীন-মইন সরকার, শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ করে বেসরকারি খাতকে বিকলাঙ্গে পরিণত করেছিল। সেই একই ধারায় ইউনূস সরকার এক-এগারোর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার মিশনে নেমেছিল।

ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, বিদেশভ্রমণে বাধা দিয়ে ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতে এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। কলকারখানায় মব সন্ত্রাস, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নির্বিচার হামলা, অগ্নিসংযোগ করে দেশের অর্থনীতি কুড়ি বছর পিছিয়ে দিয়েছে ইউনূস সরকার। ইউনূস আমলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বেসরকারি উদ্যোক্তারা কাজকর্ম বন্ধ করে দেন। অর্থ পাচারের অসত্য গল্প বানিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল করা হয় বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের কল্পিত অভিযোগ এনে নজিরবিহীন হয়রানি। কীসের ভিত্তিতে কোনোরকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এই ১১ প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হলো? কেন তাদের সীমাহীন হয়রানি করা হলো? এর ফলে দেশের সব বড় ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তার মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত দেড় বছর সোশ্যাল মিডিয়া যেন সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অবিরাম অপপ্রচারে লিপ্ত। এদের কুৎসিত আক্রমণের শিকার হয়ে অনেকেই নিজেদের কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এখন সরকারের জন্য হুমকি। তারা যা খুশি বলছে। মানুষের চরিত্রহননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসবুক এবং ইউটিউবকে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে চলছে চাঁদাবাজি এবং ব্ল্যাকমেল। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ না করলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতি হবে দেশের অর্থনীতির। শুধু অর্থনীতি নয়, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় এবং সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। আগামী বৃহস্পতিবার নতুন সরকার প্রথম বাজেট পেশ করবে। এখন দেশ বাঁচাতে, গণতন্ত্র রক্ষায় অর্থনীতি বাঁচাতে হবে। অর্থনীতি বাঁচাতে হলে দরকার বেসরকারি খাত সচল করা। এজন্য অবিলম্বে বেসরকারি খাতের ওপর ইউনূস আমলের সব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। সব বেসরকারি উদ্যোক্তাকে আস্থায় আনতে হবে। তাঁদের জন্য সৃষ্টি করতে হবে ভয়হীন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। ভয়-আতঙ্কের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয়, সম্ভব নয় ব্যবসা পরিচালনা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে দেশের অর্থনীতি সচল হবে না।

প্রধানমন্ত্রী মাত্র তিন মাসের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রমাণ করেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি বদ্ধপরিকর। যেভাবে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করছেন, সেভাবেই বেসরকারি খাত পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যেভাবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ক্ষতগুলো সারানোর চেষ্টা করছেন, সেভাবেই ইউনূস সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় মুমূর্ষু বেসরকারি খাতকে সুস্থ করে তোলার উদ্যোগ নেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।

বিশাল ঘাটতি মেটাতে ঋণে অর্থমন্ত্রীর বাজি!

অনলাইন ডেস্ক
বিশাল ঘাটতি মেটাতে ঋণে অর্থমন্ত্রীর বাজি!
সংগৃহীত ছবি

খোদ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন দেশের অর্থনীতি কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে টেনে তুলতে বিশাল আকারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এই বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সত্ত্বেও ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে সারা বছর দেশিবিদেশি খাত থেকে ঋণ নিতে হবে। যদিও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত। খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংকগুলোতে মূলধন ও নগদ অর্থের সংকট প্রকটতর হয়েছে। তবুও এই বিশাল আকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে হবে এসব উৎস থেকে ঋণ নিয়ে, যা এক ধরনের বাজি ধরার মতোই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনেক বলেন, বাজেট ঘাটতি কোনো সমস্যা নয়, যদি তা উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহƒত হয়। কিন্তু রাজস্ব আহরণ দুর্বল থাকলে এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ঋণ-পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে তা অর্জন কঠিন হবে।

সূত্র জানায়, একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং ধীরগতির বেসরকারি বিনিয়োগ; অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা ব্যয়ের পরিমাণ নয়, সেই বাজেটের ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সরকার বিশাল এ বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। আর সেই ঘাটতি পূরণে মূলত দুটি প্রধান উৎসের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস (ঋণ ও অনুদান) থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি এবং অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও অন্যান্য খাত) থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে বাজেট ঘাটতি সাধারণত সহনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের ঘাটতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ঘাটতি পূরণে সরকারের ঋণনির্ভরতা ক্রমশ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঘাটতি বাজেট নিজে কোনো সমস্যা নয়। বরং উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায়ই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ঘাটতি বাজেট দেয়। প্রশ্ন হলো, সেই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা থেকে কতটা অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যাবে।

ঋণ কি প্রবৃদ্ধির হাতিয়ার : অর্থনীতির পাঠ্যবই বলছে, রাষ্ট্র যখন ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর, সড়ক, রেলপথ, শিল্প অবকাঠামো কিংবা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ করে, তখন সেটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়। দেশের ইতিহাসও সেই কথাই বলে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল কিংবা বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির সুফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেট ক্যারিং ক্যাপাসিটি’ বা ঋণ ধারণক্ষমতা। ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন সেই ঋণের অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয় কিংবা দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়। তখন ঋণ উন্নয়নের ইঞ্জিন না হয়ে অর্থনীতির জন্য পরিণত হয় ফাঁদে।

ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি চাপ : ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। এর মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এখানেই। বর্তমানে ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদহারের চাপে রয়েছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব। সরকার ও বেসরকারি খাত একই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে, শেয়ারবাজার থেকে শিল্প ঋণ নিলে কিছুটা সুফল মিলবে।

বৈদেশিক ঋণের আরেক বাস্তবতা : ঘাটতি অর্থায়নের দ্বিতীয় বড় উৎস বৈদেশিক ঋণ। প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা রয়েছে। সরকার আগামী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ নিলেও এর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও আসল পরিশোধে। অর্থাৎ নতুন ঋণের একটি বড় অংশ উন্নয়ন ব্যয়ে নয়, বরং পুরোনো দায় শোধে চলে যাবে। আর সংশ্লিষ্টদের মতে এটিই দেশের ঋণচক্রের নতুন বাস্তবতা। কয়েক বছর আগেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। এখন বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের সময় শুরু হওয়ায় সেই চাপ দ্রুত বাড়ছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঋণের ফাঁদে আটকা মানুষ

চিকিৎসা শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে নাভিশ্বাস সঞ্চয় নেই, আয় সীমিত, ব্যয় আকাশচুম্বী কেউ অসুস্থ হলে বিক্রি করতে হচ্ছে জমি আয়ব্যয়ের টানাপোড়েনে নিঃস্ব মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত

অনলাইন ডেস্ক
ঋণের ফাঁদে আটকা মানুষ
সংগৃহীত ছবি

জীবনযাত্রার ‘বিরতিহীন’ ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত আয় এবং সঞ্চয়ের অভাবে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশ ক্রমেই ঋণের ফাঁদে আটকে পড়ছে। পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে, সন্তানদের বিয়ে, শিক্ষা কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত খরচ মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করছেন, কেউবা সুদে টাকা ধার নিচ্ছেন কিংবা এনজিও ও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা মেটাতেই অনেক পরিবার ঋণে জর্জরিত হয়ে পথে বসে যাচ্ছে। অনেকে ঋণের বোঝা সইতে না পেরে আত্মগ্লানি থেকে আত্মহত্যার মতো সর্বনাশী পথও বেছে নিচ্ছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও যেসব পরিবার সামান্য হলেও সঞ্চয় করতে পারত, এখন তাদের বেশির ভাগই মাসিক আয় দিয়ে নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও বাড়েনি আয়। সীমিত আয় ও সীমাহীন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম সাধারণ মানুষ। সঞ্চয় তো দূরের কথা, এখন পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতেই গলদঘর্ম।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘দুই বছর আগে স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ধার করতে হয়। পরে সেই ঋণ শোধ করতে জমি বিক্রি করেছি। এখন আবার ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে।’ একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রুবিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘বেতন সামান্য বাড়লেও বাজারের খরচ আরো অনেক বেশি বেড়েছে। কোনো জরুরি খরচ এলেই আত্মীয়স্বজন বা এনজিওর কাছ থেকে ধার নিতে হয়। ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবার নতুন ঋণ নিতে হচ্ছে।’

ঢাকায় ধোলাইপাড়ের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলতাফ হোসেন জানান, ‘বেতন যা পাই, তা দিয়ে মাসের ২০ তারিখের পর আর চলা যায় না। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন আর কাঁচাবাজারের খরচ দিতেই পকেট খালি। সঞ্চয় করব কী, প্রতি মাসেই পরিচিতদের কাছ থেকে কিছু না কিছু ধার করতে হচ্ছে।’ অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ নানা কারণে ঋণের জালে আবদ্ধ হচ্ছে। অতিরিক্ত খরচের চাপে তাদের আপৎকালীন সঞ্চয় বা ডিপিএস ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অনেক পরিবারকে নীরবে ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসা, সন্তানের উচ্চশিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ-এই তিনটি খাতেই চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রয়োজন, পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তৃতিও জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন আর্থিক পরিকল্পনা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বিপদের মাত্রা রূপ নিচ্ছে চরম ট্র্যাজেডিতে। দেশের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারি হাসপাতালে সিট না পাওয়া বা ওষুধের বাড়তি দামের কারণে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারগুলো।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতি বছর শুধু চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। চড়া সুদে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আর শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আর্তনাদ যেন দেখারও কেউ নেই! কান্নাজড়িত কণ্ঠে পোশাক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রীর জরায়ু অপারেশনের জন্য ১ লাখ টাকার দরকার ছিল। কোনো সঞ্চয় না থাকায় গ্রামের সুদের কারবারির কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়েছে। এখন প্রতি মাসে যে সুদ দিতে হচ্ছে, তা আমার বেতনের অর্ধেক।’

বাঙালি সমাজে বিয়ে বা যেকোনো জরুরি সামাজিক অনুষ্ঠান এখন আনন্দের চেয়ে সীমাহীন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারে কারও বিয়ে মানেই পরিবারের কর্তার কাঁধে ‘ঋণের বোঝা’। লোকলজ্জা আর সামাজিক মর্যাদা রক্ষার তাগিদে সাধ্যের বাইরে গিয়ে খরচ করার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এই বাড়তি খরচ সামলাতে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের শেষ সম্বল চাষের জমি বা বসতভিটা বিক্রি করতে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে কন্যাসন্তানের বিয়ে কিংবা জরুরি কোনো পারিবারিক সংকট কাটাতে পানির দামে জমি বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার পর এসব পরিবারের উপার্জনের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেকেই রাতারাতি ‘পথের ফকির’ হয়ে যাচ্ছেন।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা এবং মানসিক অবসাদ আরো বাড়বে। ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গার চিত্র একই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (৯ জুন)

অনলাইন ডেস্ক
একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (৯ জুন)
ভ্যাটের জালে সব ব্যবসা

ভ্যাটের জালে সব ব্যবসা

নতুন বাজেট প্রায় চূড়ান্ত। বিএনপি জোট সরকার বিশাল বাজেট করছে, যেখানে রাজস্ব আয়েরও বিরাট লক্ষ্যমাত্রা। তা অর্জনে...

 

দৈনিক আয় ১১ লাখ টাকা ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ

দৈনিক আয় ১১ লাখ টাকা ব্যয় সাড়ে ৩৭ লাখ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল চালুর পর থেকে গত ৯৪৫ দিনে (২০২৩ সালের ২৯...

 

আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরো ‘বুস্ট আপ’ করা হবে

আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে আরো ‘বুস্ট আপ’ করা হবে

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করতে তাঁদের আরো বুস্ট আপ করা হবে বলে জানিয়েছেন...

 

ওষুধের বিজ্ঞাপনে কড়াকড়িতে রুদ্ধ হচ্ছে ভোক্তা সচেতনতা

ওষুধের বিজ্ঞাপনে কড়াকড়িতে রুদ্ধ হচ্ছে ভোক্তা সচেতনতা

ওষুধ কেবল মুনাফা অর্জনের সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি অত্যাবশ্যকীয়...

 

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে

গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য,...

 

আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জামায়াতকে মেম্বার করতে আলোচনা

আইসিএপিপির স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জামায়াতকে মেম্বার করতে আলোচনা

দি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) স্ট্যান্ডিং কমিটির মেম্বার হিসেবে...

 

ওষুধের বিজ্ঞাপনের ছয় হাজার কোটি টাকা ডাক্তারের পকেটে

ওষুধের বিজ্ঞাপনের ছয় হাজার কোটি টাকা ডাক্তারের পকেটে

টেলিভিশনের পর্দায় ওষুধের বিজ্ঞাপন চলছে। উপকারিতার আকর্ষণীয় বর্ণনার সঙ্গে দ্রুতগতিতে উচ্চারিত হচ্ছে সম্ভাব্য...

 

ইশতেহার মেনে মানবসম্পদে জোর

ইশতেহার মেনে মানবসম্পদে জোর

সবার আগে বাংলাদেশ দর্শনকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট...

 

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন

ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক খুন

রাজধানীতে ছুরি মেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। পাবনা শহরে চরমপন্থী সদস্যসহ দুজনকে খুন করা...

 

পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি

পুশ ইন মেনে নেওয়া হবে না ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি

সীমান্তে পুশ ইন বন্ধে এ পর্যন্ত ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা...

 

প্রকাশ্যে গুলি-ছিনতাই চলছেই

প্রকাশ্যে গুলি-ছিনতাই চলছেই

গুলি করে আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নিয়েছে ওরা। হাতে-পায়ে তিনটি গুলি লেগেছে। এখন চোখ বুজলেই মৃত্যুকে...

 

নেইমারের ছেলের আক্রমণভাগে মেসি-রোনালদো-এমবাপ্পেও!

নেইমারের ছেলের আক্রমণভাগে মেসি-রোনালদো-এমবাপ্পেও!

নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে আক্ষেপটা তাঁর ভক্ত-সমর্থকদেরই বেশি। সর্বকালের অন্যতম সেরা হয়ে ওঠার আভাস দিয়ে ক্যারিয়ার...

 

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং এক শিশুর হামে মৃত্যুর...

 

পশ্চিমবঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন যে মমতার দক্ষিণ হস্ত, সেই মমতাজির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গের সর্বেসর্বা।...

 

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম কেড়ে নিল আরো আট শিশুর প্রাণ

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং এক শিশুর হামে মৃত্যুর...

 

স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ

স্বামী-স্ত্রীর প্রতি ১০টি বিশেষ পরামর্শ

পৃথিবীর প্রথম সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। সুখময় দাম্পত্য জীবন সবার কাম্য। নিম্নে সুখয়ম দাম্পত্য জীবন গড়তে...

 

থাইল্যান্ডে ব্যতিক্রমী ইসলামী জাদুঘর

থাইল্যান্ডে ব্যতিক্রমী ইসলামী জাদুঘর

মিউজিয়াম অব ইসলামিক কালচারাল হেরিটেজ অ্যান্ড আল-কোরআন লার্নিং সেন্টার থাইল্যান্ডের একটি গৌরবোজ্জ্বল...

 

প্রাপ্ত রিজিক ও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না থাকার ক্ষতি

প্রাপ্ত রিজিক ও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট না থাকার ক্ষতি

তাকদির অনুযায়ী যখন কোনো কিছু সংঘটিত হয়, তখন তাকে বলা হয় তাকদিরের ফয়সালা। তাকদিরের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি...

 

যেকোনো আন্দোলনে নজরুলকে বেছে নিচ্ছে তরুণরা

যেকোনো আন্দোলনে নজরুলকে বেছে নিচ্ছে তরুণরা

প্রচার-প্রচারণায় আপনাকে সেভাবে পাওয়া যায় না। কেন? ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত জীবনকে আমি কখনো এক করতে চাইনি।...

 
রাজধানীতে দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন | কালের কণ্ঠ