• ই-পেপার

দুই মলাটে ম্যান্ডেলার স্মৃতিকথা

ট্রাম্পের প্রাইম টাইম ভাষণ বৃহস্পতিবার, নজর ইরান ও নির্বাচন

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের প্রাইম টাইম ভাষণ বৃহস্পতিবার, নজর ইরান ও নির্বাচন
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে একটি বিশেষ ভাষণ দেবেন। প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচারিত এ ভাষণে তিনি নির্বাচনের সুরক্ষা, ইরান পরিস্থিতিসহ নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। প্রেসিডেন্টের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভাষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ওই উপদেষ্টা বলেন, এটি মূলত বিভিন্ন বিষয়ের একটি মিশ্রণ হতে যাচ্ছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে সব সময় প্রস্তুত থাকলেও হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি ক্যামেরার সামনে এমন প্রাইম টাইম ভাষণ ট্রাম্প খুব একটা দেননি। তবে উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখন থেকে এই ধরনের সরাসরি ভাষণ আরো বেশি দিতে চান।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী বৃহস্পতিবার পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৯টায় তিনি ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ দেবেন। তবে হোয়াইট হাউসের ঠিক কোন স্থান থেকে তিনি কথা বলবেন এবং নির্দিষ্ট কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্পের মাথায় এখন দুটি প্রধান ইস্যু ঘুরপাক খাচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতি প্রতি মিনিটে পাল্টাচ্ছে, তবে এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে তিনি কথা বলতে চান। এছাড়া প্রেসিডেন্ট মূলত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করাতে চান, যা মূলত ভোটারদের কঠোর পরিচয়পত্র যাচাই সংক্রান্ত একটি আইন।

বর্তমানে আইনটি কংগ্রেসে আটকে আছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে তার প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পর্যালোচনার ফলাফলও তিনি উপস্থাপন করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে নিজের পরাজয় ট্রাম্প কখনোই স্বীকার করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা। গুজব ছড়িয়ে যে, প্রেসিডেন্ট জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ২০২০ সালের সিনেট নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন।  

ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা বলবেন, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তিনি মূলত জনগণের উদ্দেশে কথা বলতে চান এবং এটি আরো বেশি করার ইচ্ছা তার রয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা এই ধরনের ভাষণ নিয়মিত দেওয়ার একটি ধারা তৈরি করতে চাই। যখন আপনি প্রাইম টাইমে এমন ভাষণ দেবেন, তখন তা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে মানুষের কাছে আরো বেশি শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

হরমুজ এড়াতে নতুন বন্দরের পরিকল্পনা আমিরাতের

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ এড়াতে নতুন বন্দরের পরিকল্পনা আমিরাতের
সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালির বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বহুজাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফুজাইরাহ উপকূলে একটি নতুন বহুমুখী বন্দর নির্মাণ এবং একই আমিরাতের বিদ্যমান বন্দরে নতুন একটি কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফাইন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত দুই দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর ও লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ডিপি ওয়ার্ল্ড আমিরাতের অন্যতম বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে জেবেল আলি বন্দর প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা দুবাইকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে বন্দরের কিছু কার্যক্রম দুবাইয়ের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হলে তা আমিরাতের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন হবে।

ফাইন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর যে বৃহত্তর পরিকল্পনা আবুধাবি নিয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের এই উদ্যোগ তারই অংশ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নতুন বন্দর নির্মিত হলে ওমান উপসাগরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। এতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই দেশটিতে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হবে। পরে সড়কপথে ট্রাকে করে সেসব পণ্য দুবাই, আবুধাবি এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে পরিবহন করা যাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের শর্তাবলি নিয়ে বর্তমানে আমিরাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। তবে প্রকল্পের কাঠামো ও অর্থায়ন এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

নতুন প্রকল্পের বিস্তারিত নিশ্চিত না করলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলমান এই বিঘ্ন কাটিয়ে উঠতে কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফাইন্যানশিয়াল টাইমসকে জানান, নতুন বন্দর দেড় বছরের মধ্যেই নির্মাণ শেষ হতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর অঞ্চলটির বৃহত্তম কনটেইনার বন্দর জেবেল আলিতে কার্যক্রম ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমে যায়। এরপর থেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি।

সংঘাতের সময় ইরানের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমিরাত। দেশটির দিকে প্রায় তিন হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে জেবেল আলি বন্দরে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।

তবে উপসাগরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বন্দর নির্মাণের অর্থ এই নয় যে জেবেল আলি বন্দরের গুরুত্ব কমে যাবে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, জেবেল আলি জেবেল আলিই থাকবে। এর কার্যক্রম কখনও ছোট করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে নতুন স্থাপনাগুলো গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সক্ষমতার প্রয়োজন হলে সেগুলো আরও সম্প্রসারণ করা হতে পারে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি খারাপ হলে এটি হবে একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।

এক শর্তে হরমুজে ২০ শতাংশ ফি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
এক শর্তে হরমুজে ২০ শতাংশ ফি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চান তিনি। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে তার সর্বশেষ ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিবিসির লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনার সময়ও তিনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের বিষয়টি সামনে এনেছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে এবং নতুন কারখানা ও শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠবে। তবে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া যেসব উপসাগরীয় দেশকে তিনি এই বিনিয়োগের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাদের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের শেষ অংশটি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার দিন শেষ।’ তবে কীভাবে তিনি এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

পোস্টে তিনি আরও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরান ছাড়া সব ধরনের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের মিথ্যাবাদী, সহিংস, বিদ্বেষপূর্ণ নেতৃত্ব, তাদেরকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।’ ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ অবরোধ’ আরোপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ইতি ঘোষণা ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ইতি ঘোষণা ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির
সংগৃহীত ছবি

ইরানের ২৯০ সদস্যের পার্লামেন্টের ১৮০ জন আইনপ্রণেতাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক কার্যত সমাপ্ত বলে ঘোষণা করেছেন। হরমুজ প্রণালি ঘিরে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরা

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ নেওয়ার’ নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইরানের শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নতুন আইন দ্রুত পাসের আহ্বান জানান তারা।
 
আইনপ্রণেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা প্রতিশোধের পথে অঙ্গীকারবদ্ধ। পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো মুহূর্ত যেন নষ্ট না হয়।’ তারা আরো জানান, পার্লামেন্টের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিতে থাকবে দেশের প্রতিরক্ষা নীতি আরো শক্তিশালী করা এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত আইন পাস করা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতাকে সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন, তাই ইরানের সরকারের তিন অঙ্গের প্রধানদেরও এ বিষয়ে দৃঢ় ও ‘বিপ্লবী’ অবস্থান স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা উচিত।
 
এছাড়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এমপিরা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পার্লামেন্ট প্রস্তুত।

দুই মলাটে ম্যান্ডেলার স্মৃতিকথা | কালের কণ্ঠ