• ই-পেপার

মানবপাচার বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারকে আলোচনায় ডাকছে মালয়েশিয়া

ভারত

নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে নিহত ৩
সংগৃহীত ছবি

ভারতের কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ ধসে অন্তত তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরের এ দুর্ঘটনায় অন্তত আরও ৪০ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার  দিকে তিনতলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবনটির ছাদ হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল এবং বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন।

দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্যরা যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ছয় থেকে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ভবন নির্মাণে কোনো ত্রুটি বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ তদারকিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

খামেনির শেষ বিদায়ে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষ বিদায়ে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

আগামী জুলাই মাসে তেহরান ও মাশহাদে অনুষ্ঠিতব্য বহু-শহরভিত্তিক এই শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছে। দূতাবাসটি দুই দিন আগে আমন্ত্রণপত্রটি গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং তা চলবে ৬ জুলাই পর্যন্ত এবং ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শেষ হবে।

প্রসঙ্গত, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তার দাফন অনুষ্ঠান মার্চ থেকে পিছিয়ে জুলাইয়ে নির্ধারণ করা হয়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে চীন, রাশিয়া, কাতার, ফ্রান্স, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ গরমের কারণ কী

অনলাইন ডেস্ক
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ গরমের কারণ কী
সংগৃহীত ছবি

প্রতিবছরের মতো এবারও তীব্র গরম দেখা দিয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে। সাধারণত বছরের মে-জুন মাসে প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে তাপমাত্রা। তবে এবার ফ্রান্স ও স্পেনের তাপমাত্রার এ সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে।

এদিকে ইউরোপের বিশাল অঞ্চলজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ‘হিট ডোম বা তাপ বলয়’ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। অন্যদিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক গরমের পেছনে কাজ করছে ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এ সপ্তাহেও ইউরোপের বেশিরভাগ অংশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে বিভিন্ন দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গরমে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটনার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ওমেগা ব্লক

‘ওমেগা ব্লক’ নামটি এসেছে গ্রিক বর্ণমালার ‘ওমেগা’ (Ω) অক্ষরের আকৃতি থেকে। এ অবস্থায় উষ্ণ ও স্থিতিশীল উচ্চচাপ বলয় দুটি শীতল নিম্নচাপ বলয়ের মাঝখানে আটকে পড়ে, যা দেখতে ওমেগা চিহ্নের মতো লাগে।

সাধারণত জেট স্ট্রিম বা বায়ুমণ্ডলের শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবহাওয়া ব্যবস্থা সরিয়ে নেয়। কিন্তু ওমেগা ব্লকের সময় এই প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকে। ফলে কোনো এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। আকাশে মেঘ কম থাকে এবং সূর্যের তাপ সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়। এতে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে উচ্চচাপ বলয়ের দুই পাশে থাকা নিম্নচাপ অঞ্চলে তুলনামূলক শীতল ও বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়া দেখা যায়। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরম অনুভূত হলেও উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক ঠাণ্ডা ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর কারণ দেশটি উষ্ণ উচ্চচাপ ও শীতল নিম্নচাপ বলয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ওমেগা ব্লক সাধারণত তিন থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। তবে কখনও কখনো এটি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও থাকতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ওমেগা ব্লকের সংখ্যা বাড়ছে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য নেই। তবে তারা একমত যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপপ্রবাহের ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাস পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

২১ জুন সাধারণত উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন আয়ন বা সবচেয়ে বেশি তাপের দিন হয়। এদিন সূর্যালোকের সময় সবচেয়ে বেশি থাকে এবং সূর্য আকাশে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে থাকে। ফলে পৃথিবী ওই সময়ে সর্বাধিক সৌরশক্তি পায়, তাই গরম বাড়ার ভিত্তি তৈরি হয়। এতে ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। 

বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, এ বছর একই সময়ে সাহারা থেকে আসা উষ্ণ বায়ু একটি ‘হিট ডোম বা তাপ বলয়’ সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ তাপ বলয় পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর উষ্ণ বাতাস আটকে রাখছে এবং দিনের পর দিন তাপমাত্রা বাড়তে সাহায্য করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ সংস্থা কপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্যমতে, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড তাদের নিজস্ব আবহাওয়া কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে গত মে মাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। অন্যদিকে ফ্রান্সে জাতীয়ভাবে রেকর্ডকৃত উষ্ণতম মাস হিসেবে মে মাস চিহ্নিত হয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বারা পরিচালিত জলবায়ু সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট ডেটাসেট (সিডিএস) তথ্য অনুসারে, পশ্চিম ইউরোপের বিশাল অংশে অনুভূত তাপমাত্রা এখন ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে। যা অত্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

ওই সূত্রটি জানায়, স্পেনে মে মাসে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১০১ জনের মৃত্যু হয়, যা ২০১৫ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এছাড়া ফ্রান্সে সাত জন ও যুক্তরাজ্যে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। 

দেশে দেশে সতর্কতা জারি

রার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি বেশ কয়েকটি অঞ্চলে লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। কিছু অংশে ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

ফ্রান্সের রেল নেটওয়ার্ক প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা ওভারহেড পাওয়ার লাইন এবং ট্রাক প্রসারিত হয়ে ঝুঁকি তৈরি করছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণের জন্য ৩৫০০ কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ৭১টি আন্তঃনগর ট্রেন বাতিল করা হয়। প্যারিসের লুভোর জাদুঘরও কনসার্ট বাতিল করেছে।

জার্মানির বার্লিন ওপেন টেনিস ফাইনাল স্থগিত করা হয়। বার্লিনসহ পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলিতে তীব্র বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি হয়। বেলজিয়ামের নামুর শহরের কাছে পাখিসহ ১৫০টি প্রাণি তাপদাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ইতালির বোলোনিয়া, ফ্লোরেন্স, মিলান এবং তুরিনসহ আটটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা   বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি জলবায়ুর একটি বৃহত্তর পরিবর্তনগত প্রবণতার প্রতিফলন।

হিট ডোম বা তাপ বলয়

আবহাওয়াবিদদের মতে, যে ঘটনা আগে জুলাই মাসে ঘটত। তা এখন মে-জুনে ঘটছে। সিভিয়ার ওয়েদার ইউরোপের পূর্বাভাসকারীরা সতর্ক করেছেন,  গ্রিনহাউস গ্যাস ক্রমাগত পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তোলায় তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ুগত স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১২-১৬° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে।

পর্তুগাল, স্পেন এবং ফ্রান্সসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলগুলোতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফ্রান্সের বিশাল অংশে মাঝারি উচ্চ তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উত্তরের দেশগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা  ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স এই অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার জন্য একটি হিট ডোম বা তাপ বলয়কে দায়ী করেছে। সিভিয়ার ওয়েদার ইউরোপও একমত, পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের ওপর একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও শক্তিশালী হিট ডোম অবস্থান করছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী দিনগুলিতে অনেক দেশের জন্য বায়ুপ্রবাহ আরও উষ্ণ হবে, কারণ উপরের স্তরের হিট ডোম আরও তীব্র হবে।

স্বাভাবিক হয়ে উঠছে তাপপ্রবাহ?

এপি বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে, বিশ্বব্যাপী ও ইউরোপে ২০২৫ সাল ছিল এযাবৎকালের তৃতীয় উষ্ণতম বছর। বিগত তিন বছর যথাক্রমে ২০২৪, ২০২৩ এবং ২০২৫—বিশ্বব্যাপী এযাবৎকালের উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

গত বছর কয়েক ডজন দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা দেশগুলোকে খরার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দাবানলের সৃষ্টি করেছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা ৮৫৪টি ইউরোপীয় শহর পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, গত গ্রীষ্মে আনুমানিক ২৪ হাজার ৪০০ তাপজনিত মৃত্যুর ৬৮ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী ছিল। 

একক তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হলো রুমানিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রিস এবং সাইপ্রাস। যেখানে গত বছর ২১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা ছিল। ফলে আনুমানিক ৯৫০ জনের তাপজনিত মৃত্যু ঘটে। এর অর্থ হলো, প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১১ জনের মৃত্যু।

পরিচয় লুকাতে পরা হুডিই ধরিয়ে দিল কেতনের খুনিকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
পরিচয় লুকাতে পরা হুডিই ধরিয়ে দিল কেতনের খুনিকে
বাঁ থেকে কেতন আগরওয়াল, সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী।

ভারতের পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু সিনেমা না বাস্তব, দ্বন্দ্বে পড়ে যাবেন যে কেউ। বাগদত্তা সিয়া গোয়াল আর তার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরীর নিখুঁত পরিকল্পনায় কেতনের মৃত্যুর ঘটনা যেন থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়াল আর সিয়া গোয়ালের বাগদান হয়েছিল। প্রস্তুতি চলছিল জমকালো বিয়ে আয়োজনের। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য জয়পুরে ১৭ কোটি টাকায় একটি রাজপ্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল, অতিথিদের আনা-নেওয়ার জন্য দুটি বিমানও ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু সিয়া গোয়ালের এ বিয়েতে মন ছিল না। তিনি মন দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী চেতন চৌধুরীকে।

বিয়ের পরিকল্পনা এগিয়ে যেতেই সিয়া আর চেতন মিলে কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। প্রথমে সিয়া ভেবেছিলেন দেশের বাইরে কোনো নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে কেতনকে হত্যা করবেন। কিন্তু সিয়া একা এটা করতে সাহস পাননি। ট্র্যাকিং কেতনের খুব পছন্দ ছিল। সেই পছন্দকে কাজে লাগিয়েই সিয়া পাল্টে নেন হত্যা পরিকল্পনা। গত ৩১ মে কেতন আর সিয়া পুনের লোহাগড় দূর্গে ট্র্যাকিং করতে যান। কিন্তু সেবার লোকজনের ভিড়ে সিয়া হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাননি।

গত ৬ জুন তাদের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বালি যাওয়ার কথা ছিল। সঙ্গে আরো দুই বন্ধু ছিল বলে সিয়া বালি যেতে চাননি। তবে প্রকাশ্যে সেটা বলেনওনি। বালি যেতে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মুম্বাইয়ের একটি রেস্টুরেন্টে নাশতা খেতে থামেন তারা। এক ফাঁকে সিয়া কেতনের ব্যাগ থেকে তার পাসপোর্টটি চুরি করে ছিঁড়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশ করে দেন। মুম্বাই এয়ারপোর্টে পৌঁছে কেতন দেখেন তার পাসপোর্ট নেই। ফলে তাদের বালি ট্রিপ বাতিল করতে হয়। বালি যেতে না পারার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ১৪ জুন তারা আবারও লোহাগড় দুর্গে যান। সেদিনও সিয়া কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ট্র্যাকার কেতন ঝোপঝাড় ধরে পতন ঠেকান। সন্দেহ থেকে নিজেকে বাঁচাতে সিয়া ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করে কেতনকে জড়িয়ে ধরেন। সিয়া বলেন, সাপের হাত থেকে বাঁচাতেই তিনি কেতনকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেতনেরও সন্দেহ হয়নি।

১৯ জুন ছিল সিয়ার ২০তম জন্মদিন। জন্মদিনকে সামনে রেখে ১৮ জুন আবার তারা লোহাগড় দুর্গে যান। একা একা খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে সিয়া এবার আর কোনো ঝুঁকি নেননি। ডেকে নেন তার প্রেমিক চেতন চৌধুরীকেও। তারা দুজন মিলে প্রথমে কেতনকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করেন। তারপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ৪০০ ফুট গভীর খাদে।

ভেততে ভেতরে খুনের পরিকল্পনা করলেও ওপরে ওপরে সিয়া দারুণ প্রেমের অভিনয় চালিয়ে যান। তার ইনস্টাগ্রামজুড়ে ছিল হবু বরের প্রতি ভালোবাসার গদগদ প্রকাশ। বিয়ের প্রস্তাব, ফুল উপহার, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে নাচ, ‘অফিশিয়ালি টেকেন’ লেখা ট্যাগ- সিয়ার ইনস্ট্রাগ্রাম অনুসরণ করলে কেউ বুঝতেই পারবেন না, তার মনে কী আছে।

ফেব্রুয়ারিতে বাগদানের ঠিক এক মাস পর, সিয়া ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে মোমবাতি জ্বালানো কেকের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, ‘আমার মন তার ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার এক মাস পূর্তি উদযাপন’, সেই পোস্টে তিনি কেতনকে ট্যাগও করেছিলেন। মে মাসের আরেকটি পোস্টে দেখা যায় কেতন সিয়াকে ফুল দিচ্ছেন, যার ক্যাপশনে সিয়া লিখেছিলেন, ‘পছন্দ হ্যায় তুমহে' (তোমাকে পছন্দ করি)’। এরপর তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার প্রকাশ দেখান। সিয়া কেতনের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি রিপোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাকে (সিয়াকে) দেখানো হয়েছিল, যার ক্যাপশন ছিল ‘দ্যাট স্মাইল’ এবং সঙ্গে ছিল একটি হার্টের ইমোজি।

১৯ মে সিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তার জন্মদিনের ক্ষণগণনার পোস্ট দেন, যেখানে সিয়া ও কেতনকে একটি রোমান্টিক গানের তালে নাচতে ও ঘুরতে দেখা যায়।

লোহাগড় দুর্গে কেতনের পরে যাওয়াকে প্রথমে দুর্ঘটনা হিসেবে ভাবা হয়েছিল। সিয়া পুলিশ ও কেতনের পরিবারের সবাইকে বলেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন পরে গেছেন। কিন্তু পুলিশ ও পরিবার দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পারছিলেন না কিছুতেই। অনেকগুলো প্রশ্ন দুর্ঘটনাকে আড়াল করে সন্দেহকে সামনে আনে। বালিতে যাওয়ার পথে মূল্যবান সব কিছু রেখে শুধু কেতনের পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া, বারবার তাদের লোহাগড় দুর্গে যাওয়া, কেতনের মতো অভিজ্ঞ ট্র্যাকারের ৪ দিনের মধ্যে দুইবার পরে যাওয়া—এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিল পুলিশ। চার দিনের মধে দ্বিতীয়বার লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার কারণ হিসেবে সিয়া কেতনের পরিবারকে বুঝিয়েছিলেন, আগামী দিনগুলোতে বিয়ে ও ব্যবসার কাজে তাদের ব্যস্ততা বাড়বে তাই ১৯ জুন তার জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে একটু নিরিবিলিতে সময় কাটাতেই তারা ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে যান। এই যুক্তি অবশ্য সন্তানহারা পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে পাারেনি। তারা আরো গভীরভাবে সন্দেহ করতে থাকেন।

সন্দেহ হলেও প্রমাণ ছাড়া কাউকে ধরতে পারছিল না পুলিশ, কোনো সিদ্ধান্তেও আসতে পারছিল না। একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের সন্দেহকে নিশ্চিত করে। লোহাগড় দুর্গে সিয়া আর কেতন যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন ২০-৩০ ফুট পেছন থেকে শর্টস পরা এক যুবক তাদের অনুসরণ করছিলেন। সিয়া একবার পেছন ফিরে সে যুবককে দেখেনও। তখন সে যুবক চট করে বসে পড়েন, যাতে কেতন তাকে দেখতে না পান। সেই যুবক একটি হুডি পরেছিলেন, যাতে তার চেহারা দেখা না যায়। কিন্তু চেহারা আড়াল করতে পরা সে হুডিই খুনির চেহারা সামনে নিয়ে আসে।

৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমে ট্র্যাকিং ট্রেইলে কেউ হুডি পরে থাকবে কেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুলিশ পৌঁছে যায় খুনির কাছে।

সন্দেহকে নিশ্চিত করতে পুলিশ সিয়া ও চেতনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল কল রেকর্ড অনুসন্ধান করে। তখনই পুলিশ বুঝতে পারে, ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়।’ গত নভেম্বরে এক ব্যাবসায়িক বৈঠকে পরিচয়ের পর থেকে সিয়া আর চেতন সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। তারপর থেকে গত সাত মাসে তারা ২ হাজার ৪টি টেলিফোন কলে ২৩৮ ঘণ্টা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন। ২২ বছর বয়সী চেতন শুকনো ফলের ব্যবসা করতেন। পুনের একটি সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান সিয়াও একটি বেকারি চালাতেন। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনার ৫ দিন পর ২৩ জুন সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর দুজনই পুলিশেরে কাছে তাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

২৪ জুন পুনের একাট আদালত তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। 

কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল পুনের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী। পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাকসেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। পড়াশোনা শেষে বিদেশ থেকে ফিরে কেতনও পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন। কেতন ছিলেন সাকসেস গ্রুপের পরিচালক ও চিফ মার্কেটিং অফিসার। ২৬ বছর বয়সী ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বিশাল আগরওয়াল এ ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন। তার একটাই আফসোস, বিয়ে করতে না চাইলে বললেই হতো। এভাবে কেতনকে মেরে ফেললো কেন?

শুধু কেতনের বাবা নয়, এ প্রশ্ন এখন ভারতের মানুষের মুখে মুখে। বাগদত্তা ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছে মানুষের বিশ্বাসের ভিত।

মানবপাচার বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারকে আলোচনায় ডাকছে মালয়েশিয়া | কালের কণ্ঠ