রোগটা সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ায় ক্যান্সারের চিকিৎসা নেওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপ মাঠে টেনে এনেছিল মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গোনা মার্টিন ক্রোকে। উড়ে এসেছিলেন মেলবোর্নের ফাইনালেও, যদি ব্রেন্ডন ম্যাককালামরা তাঁর অন্তিম ইচ্ছাটা পূর্ণ করতে পারেনন। সেটি হয়নি, বাকি দিনগুলো হয়তো এই অতৃপ্তিও ক্যান্সারের মতো বাসা বেঁধে থাকবে নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা এই ব্যাটসম্যানের মনে। বয়স মাত্র ৫২, তবে অনেক আগেই ক্যান্সার ধরা পড়ে মার্টিন ক্রোর। চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। কিন্তু ইদানীং সেসব চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া না মেলায় ওষুধ নিচ্ছেন না তিনি। শরীর এতটাই বিগড়ে গিয়েছিল যে বিশ্বকাপের শুরুতে মাঠে বসে খেলা দেখার ব্যাপারেও খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। কিন্তু ম্যাককালামদের নৈপুণ্য তাঁকে দিয়েছিল জীবনীশক্তি, মাঠে এসেছেন নিয়মিত এবং প্রতি ম্যাচের আগেই শুভকামনা জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ১৯৯২ বিশ্বকাপের অধিনায়ক। ফাইনালের জন্য মেলবোর্নে উড়ে আসার আগে ম্যাককালামদের উদ্দেশ করে খোলা চিঠিতে মার্টিন ক্রো লিখেছিলেন, 'মৃত্যুর আগে এটাই আমার শেষ চাওয়া। সারাটা দিন চোখের পানি ধরে রাখব।' কাল মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রবেশের আগে একটি টিভি চ্যানেলকে ক্রো বলেছেন, 'এখনো আবেগ স্পর্শ করেনি আমাকে। মাঠের ভেতরে ঢোকার পর হয়তো আবেগ আক্রমণ করে বসবে! আমার বিশ্বাস একই আবেগে ডুবে যাবে পুরো নিউজিল্যান্ড।' তখনো তাঁর মনে আশা, 'নিউজিল্যান্ডের এই দলটা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে। মনে কোনো দ্বিধা নেই ছেলেগুলোর, মুক্ত মানুষের মতো খেলছে। কিভাবে আক্রমণ করছে, দেখছেন না!' নিউজিল্যান্ডের এই দলেরই রস টেলর ও মার্টিন গাপটিল তাঁর সাক্ষাৎ শিষ্য। সন্তানতুল্য এ দুজনের প্রতি ক্রোর পরামর্শ ছিল, 'শ্বাসপ্রশ্বাসটা স্বাভাবিক রেখে সহজ ক্রিকেট খেলো। বলের ওপর চোখ রাখবে।' কিন্তু সেসব তো আর হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় বলেই বোল্ড হয়ে যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। মাঝখানে টেলর আর গ্রান্ট এলিয়টের সম্মিলিত ইনিংস মেরামতের চেষ্টা বিফলে যায় বাকিদের ব্যর্থতায়। প্রায় একপেশেভাবে হারে নিউজিল্যান্ড। মেলবোর্নে উপস্থিত দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন কি টুইট করেছেন হতাশা ভুলে আশার আলো জ্বালিয়ে, 'দুর্ভাগ্যজনক যে দেশবাসী এমন ফল আশা করেনি। তবু বলব ব্ল্যাকক্যাপদের গত ছয় সপ্তাহের নৈপুণ্যে আমরা দারুণ গর্বিত।' দুর্দান্ত ক্রিকেটের জন্য গর্ব করতেই পারে কেউইরা। ১৪ দলের টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হওয়াও কম কিসে! শুধু আক্ষেপটা ছড়িয়ে দিচ্ছে মার্টিন ক্রোর শেষ ইচ্ছা। থ্রি টিভি