বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো আদর্শিক সম্পর্ক নেই। শুধু গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ। তবে জামায়াতকে বিএনপি যেকোনো সময় ছাড়তে পারে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিটল টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। আহমেদ আজম খান অনুষ্ঠানে বলেন, জোটবদ্ধ আন্দোলনে সব দল সব সময় একসঙ্গেই থাকে তা কিন্তু নয়। যেকোনো দল তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে এগিয়ে যাবে- এটাই বাস্তবতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের পর জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কি না সেটি এখনই বলা যাবে না। ভারতের একটি পত্রিকায় মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের যে তথ্য ফাঁস হয়েছে তা ঠিক না দাবি করে তিনি বলেন, দুই নেতার কেউই তাঁদের একান্ত বৈঠকের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। কোন সূত্রে তারা এসব কথা প্রকাশ করল, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সে যা-ই হোক, ভারতের ওই পত্রিকার সংবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে বক্তব্যের পর সারা দেশে আলোচনার ঝড় বইছে। অনেকে বলছেন, ওই বক্তব্যে মোদি এ সরকারের প্রতি যেমন আস্থার কথা বলেছেন, তেমনি আবার একটি দলকে লক্ষ্য করে জঙ্গিবাদ টলারেট করা হবে না বলে জানিয়েছেন। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন। জবাবে আহমদ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৪৪ বছরে অন্য সরকারগুলো যেটা করতে পারেনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর চৌকস নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ ছিনিয়ে এনেছেন। এ সরকারই পারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দেশের স্বার্থ আদায় করতে। তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি এখনো হয়নি, তবে আগামীতে হবে। যারা এই সরকারকে দেখতে পারে না, তারাই আসলে তিস্তা নিয়ে নানান কথা বলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেহেতু আমাদের আশ্বস্ত করে গেছেন, সে জন্য আমাদের আরো একটু অপেক্ষা করতে হবে। এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, মোদির সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে ২২টি চুক্তি, প্রটোকল বা সমঝোতা হলো, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু দেশের মানুষ জানে না। চুক্তিগুলো কি বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা করছে? জবাবে আহমেদ আজম খান বলেন, আওয়ামী লীগ কী চুক্তি করেছে তা তারাই ভালো বলতে পারবে। এ বিষয়ে দেশের মানুষকে জানানো দরকার ছিল। কিন্তু সরকার সেটি করেনি। তিনি বলেন, আমরা সরকারে থাকলে নিশ্চয়ই ভারতের সঙ্গে কী চুক্তি হবে, তা আগে সংসদকে জানিয়ে পাস করিয়ে নিতাম। আর এটাই ছিল সরকারি নিয়ম। কিন্তু সরকার ভারতকে খুশি করার জন্য অনেক কিছুই করছে। আলোচনার এ পর্যায়ে আহমদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ অন্য দলের রাজনীতি নিয়ে কথা বলে না। আমরা এখন সরকারে আছি জনগণের সেবা করার জন্য। সরকার সেটাই করবে যেটা করলে সরকারের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, জামায়াত ছাড়লে বিএনপি আবার তাদের আগের অবস্থান ফিরে পাবে বলে মনে করছি। কারণ বিএনপি নেতারা এখন জামায়াতের ওপর সওয়ার হয়ে আছেন। তিনি বলেন, সরকার জনগণের জন্য উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে, তার পরও অনেকের মনঃপূত হচ্ছে না। আসলে সারা বিশ্বে এখন কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতাকে সমর্থন করে না। আগামীতেও রাজনীতি করতে হলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে সন্ত্রাস করা যাবে না।