kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

মেঘনাদবধ কাব্য

   

২০ নভেম্বর, ২০১২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেঘনাদবধ কাব্য

সনেট কবিতার জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। হিন্দু পুরাণের মহাকাব্য রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে মেঘনাদবধ মহাকাব্যটি রচিত হয়েছে। ১৮৬০-১৮৬১ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। ১৮৬১ সালে মহাকাব্যটি দুই খণ্ডে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮৬৯ সালে ষষ্ঠ সংস্করণে সম্পূর্ণ কাব্যটি একত্রে প্রকাশিত হয়। এই মহাকাব্য রচনায় ভাবনার ক্ষেত্রে কবি বেশ আধুনিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উপকরণের সংমিশ্রণে বাংলা গতানুগতিক কাব্যের ধারায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে কবি মেঘনাদবধ মহাকাব্যটি রচনা করেন। বস্তুত এটি গ্রিক আদর্শে রচিত প্রথম সার্থক বাংলা মহাকাব্য। হিন্দু পুরাণের মহাকাব্য রামায়ণে দেবতা রামচন্দ্রকে নায়ক হিসেবে বর্ণনা করে রাবণকে অত্যাচারী রাক্ষস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু মেঘনাদবধ কাব্যে কবি রামায়ণের নায়ক দেবতা রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে অপহরণকারী রাক্ষস রাবণকে উল্লেখ করেছেন মহাবীর, স্নেহময় পিতা, ভাই এবং প্রজাপালক রাজা হিসেবে। আর রাবণপুত্র মেঘনাদকে উল্লেখ করেছেন অসম সাহসী বীর হিসেবে। দেবতা রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ এখানে রাবণের রাজ্য আক্রমণকারী ও অন্যায় যুদ্ধে লিপ্ত হত্যাকারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। মূলত লক্ষ্মণ কর্তৃক অন্যায়ভাবে মেঘনাদকে হত্যার ঘটনাটি এই কাব্যের মূল প্রতিপাদ্য। কবি এখানে রাবণের দিক থেকে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। আর সে দৃষ্টিকোণ থেকেই মহাকাব্যটি ভিন্নধারার রূপ পায়। মেঘনাদবধ কাব্য কবির প্রিয় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। ১৮৯৯ সালে উমেশচন্দ্র সেন ইংরেজি নষধহশ াবৎংব-এ সমগ্র কাব্যের আক্ষরিক অনুবাদ করেন। বাংলা সাহিত্যে মধুসূদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ মহাকাব্যটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা বিভাগে মহাকাব্যটি পড়ানো হয়। গ্রন্থনা : ফারজানা শ্রাবন্ত


সাতদিনের সেরা