শুধু রাজনীতির মাঠ নয়, খেলার মাঠেও এক আকর্ষণীয় চরিত্র ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিশোর বয়সে অন্যদের মতোই রাজনীতির মাঠের চেয়ে খেলার মাঠকেই বেশি ভালোবাসতেন। কৈশোরে ফুটবলার হিসেবে তাঁর খ্যাতিরও কোনো ঘাটতি ছিল না। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল আসরের নিয়মিত এক কুশীলব ছিলেন। ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে কৈশোরে পুরস্কারও পেয়েছেন। নিজে খেলতেন বলে ফুটবল খেলাকেই বেশি পছন্দ করতেন বঙ্গবন্ধু। গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় থেকেই তিনি ফুটবল ও ভলিবল খেলতেন। তৎকালীন মহকুমা টিমে খেলার রেকর্ডও তাঁর রয়েছে। ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট অনেকেই দাবি করেন, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগে খেলেছেন মুজিব। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য এ কথা ঠিক যে আজীবন এই ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এই ক্লাবের তিনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তৎকালীন মহকুমা টিমে খেলার রেকর্ডও তাঁর রয়েছে। ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট অনেকেই দাবি করেন, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগে খেলেছেন মুজিব ফুটবল এবং অপরাপর খেলাধুলার প্রতি তাঁর অনুরাগ তিনি নিজ সন্তানদের মধ্যেও সঞ্চারিত করতে সক্ষম হন। আজকের জনপ্রিয় ক্লাব আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল হলেও নেপথ্য প্রেরণাদাতা ছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছাতেই ’৭২ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে মজার একটি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে মুজিবনগর একাদশ নামে অংশগ্রহণ করে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। দলে ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু, শেখ আশরাফ আলী, কাজী সালাউদ্দিন প্রমুখ। অন্যদিকে যেসব খেলোয়াড় দেশে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল প্রেসিডেন্ট একাদশ। এ দলে মনোয়ার হোসেন নান্নু, গোলাম সারওয়ার টিপুসহ অন্য ফুটবলাররা ছিলেন। ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীনসহ অন্য নেতারা। এ ম্যাচে প্রেসিডেন্ট একাদশের কাছে হেরে যায় মুজিবনগর একাদশ।