kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গেম

যুদ্ধ মানেই মৃত্যু

মোহাম্মদ তাহমিদ   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুদ্ধ মানেই মৃত্যু

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকে ‘পৃথিবীর বুকে দোজখ’ বলে অবহিত করেছেন অনেক যোদ্ধা এবং ইতিহাসবিদ। যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই যত দূর সম্ভব বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে নির্মাতা ব্ল্যাক ম্যাটার প্রাইভেট লিমিটেড। ফলে তাদের গেমটির নাম ‘হেল লেট লুস’ ভালোভাবেই মানিয়ে গেছে।

ফার্স্ট পারসন শ্যুটার ঘরানার জন্মই হয়েছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ঘিরে তৈরি গেম উলফেন্সটাইনের মাধ্যমে। মজার বিষয় হচ্ছে, এর পরও হেল লেট লুস বর্তমানে আছে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, যার কারণ একটিই—এটি শুধু শ্যুটার নয়, এতে আছে কিছু স্ট্র্যাটেজি গেমের গন্ধ।

যুদ্ধের ময়দানে দৌড়ে গিয়ে শক্রর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া মানে সাক্ষাৎ মৃত্যু—এটাই গেমটিতে প্রবলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মাল্টিপ্লেয়ার এ গেমটিতে আছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ৯টি ময়দান। ভবিষ্যতে আরো অনেক ম্যাপ যুক্ত করার কথা রয়েছে। প্রতিটি ম্যাপে ৫০ জন করে দুটি দল মিলে সর্বোচ্চ ১০০ জন গেমার নামবে যুদ্ধে। প্রত্যেক গেমারকে বেছে নিতে হবে যোদ্ধার ধরন। গেমটিতে আছে অফিসার, মেডিক, মেশিনগানার, কমান্ডার, ক্রুম্যান, স্নাইপার থেকে শুরু করে সর্বমোট ১৪ রকমের যোদ্ধা। প্রতিটি ধরনের যোদ্ধাই গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি ক্রুম্যানও। তাদের প্রত্যেকের কাজ আলাদা, একে অন্যের সঙ্গে মিলে কাজ করতে না পারলে জেতা অসম্ভব।

গেম শুরুর আগেই স্কোয়াড তৈরি করে নেওয়ার থাকবে সুযোগ। ঠিকঠাকমতো স্কোয়াড তৈরি করার পর কমান্ডারের দায়িত্ব থাকবে কিভাবে কোথায় স্কোয়াড হামলা করবে তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করা। পরিকল্পনা তৈরি করে, সবার কাজ ভাগ করে না দিলেও গেমে জেতা অসম্ভব। এরপর শুরু হবে ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচেই গেমারদের লক্ষ্য থাকবে ময়দানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখলে নেওয়া। কিন্তু ব্যাটলফিল্ডের মতো দখল করে ঘাপটি মেরে থাকলে চলবে না, সেখানে গড়তে হবে নানা ধরনের প্রতিরক্ষা এবং রসদ তৈরি ও সাপ্লাই দেওয়ার সিস্টেম—এই জিনিসটির সঙ্গে স্ট্র্যাটেজি গেমাররা ভালোভাবে পরিচিত। যে দল বেশি পরিমাণ এলাকা দখল করে গড়তে পারবে প্রতিরক্ষা এবং সাপ্লাই সিস্টেম, সেই দল পাবে আরো বেশি গুলি, মেডিক্যাল প্যাক, বোমা এবং গড়তে পারবে প্রতিরক্ষামূলক ভারী অস্ত্র। এভাবেই ঘুরে যাবে যুদ্ধের মোড়।

এলাকা দখল করলেই চলবে না, এরপর আসবে সেটি রক্ষা করা এবং আরো অগ্রসর হওয়ার পালা। কারা থাকবে প্রতিরক্ষায়, আর কারা কিভাবে করবে হামলা—সেটার স্ট্র্যাটেজিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে গেমটিতে বলা যায় হেলথ সিস্টেমই নেই—একটি গুলি জায়গামতো লাগলেই গেমার মারা যাবে। প্রতিরক্ষামূলক ভারী অস্ত্রগুলোর সামনেও দৌড়ে যাওয়ার উপায় নেই। ফলে সঠিক প্ল্যানিংই একমাত্র খেলার উপায়।

এত কিছুর মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ বাস্তবসম্মত যুদ্ধযান। ট্যাংক, জিপ, যুদ্ধবিমান, কামান—কী নেই এতে। এই ইউনিটগুলোর সঠিক প্রয়োগও স্কোয়াড কমান্ডারের দায়িত্ব। হয়তো প্রতিপক্ষ একটি এলাকা দখল করে গড়েছে ভারী কামানসজ্জিত দুর্গ—কিন্তু গেমারের হাতে যদি থাকে বোমারু বিমানের নিয়ন্ত্রণ, তাহলে একটি স্কোয়াড দিয়ে প্রতিপক্ষকে মাটিতে ব্যস্ত রেখে ওপর থেকে বোমাবাজি করে তাদের প্রতিরক্ষা উড়িয়ে দেওয়া কোনো ব্যাপারই নয়।

 

খেলার জন্য যা যা লাগবে

অন্তত উইন্ডোজ ১০ ৬৪ বিট, ইন্টেল কোর আই৫ ৬৬০০ বা সমমানের এএমডি ১৩০০এক্স প্রসেসর, ১২ গিগাবাইট র‌্যাম, এনভিডিয়া জিটিএক্স ৯৬০ ৪ গিগাবাইট বা এএমডি আর৯ ৩৮০ ৪ গিগাবাইট জিপিউ, ৩০ গিগাবাইট জায়গা এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ।

 

বয়স

গেমটি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।



সাতদিনের সেরা