kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

গেম

লড়াই করুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যোদ্ধা হয়ে

মোহাম্মদ তাহমিদ   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লড়াই করুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যোদ্ধা হয়ে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে গেমের অভাব নেই। বিশ্বের প্রথম ফার্স্ট পারসন শ্যুটার গেম উলফেনস্টাইন থ্রিডিও ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনি নিয়েই তৈরি। এর পরও সে যুদ্ধ নিয়েই তৈরি নতুন ফার্স্ট পারসন শ্যুটার গেম ‘এনলিস্টেড’ বর্তমানে গেমারদের মধ্যে বেশ সারা জাগিয়েছে, অথচ এটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এনলিস্টেড প্রকাশ করেছে গাইজিন এন্টারটেইনমেন্ট। নামটি গেমারদের মধ্যে ‘ওয়ারথান্ডার’ গেমের জন্য বেশ পরিচিত। এনলিস্টেডও ওয়ারথান্ডারের মতো খেলা যাবে বিনা মূল্যে। তবে কিছু রিসোর্স প্যাক চাইলে সেগুলো কিনতে হবে, যদিও সেগুলো না থাকলেও খেলতে সমস্যা হবে না।

এনলিস্টেডের গ্রাফিকস, ইন্টারফেস থেকে শুরু করে সাউন্ড ইফেক্ট ও গেমের ধরন পুরোটাই ব্যাটলফিল্ড ওয়ান এবং ৫ এর মতো। কোনো সিঙ্গল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন অবশ্য এতে নেই, পুরোটাই মাল্টিপ্লেয়ার। ক্যারিয়ার মোডের কিছু অংশ অবশ্য গেমটিতে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা। গেমারকে তাঁর নিজের পছন্দ অনুযায়ী তৈরি করতে হবে চরিত্র, তাদের নিয়ে ম্যাচ খেলে বাড়াতে হবে অভিজ্ঞতা। একাধিক সেনা চরিত্র তৈরি করাও জরুরি, কেননা এক ঘরানার সৈনিক অন্য ঘরানার কাজ করতে পারবে না। এই যেমন মেডিক সৈন্য যুদ্ধে আহত সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে পারবে; কিন্তু চাইলেই রকেট লঞ্চার বা ট্যাংক চালাতে পারবে না। একাধিক সৈনিক চরিত্র তৈরি করার মাধ্যমেই শুরু হবে এনলিস্টেড।

এনলিস্টেডের মূল ম্যাচের ধরন ব্যাটলফিল্ডের কনকুয়েস্ট মোডের মতো। গেমারকে বেছে নিতে হবে একটি পক্ষ, মিত্র বা অ্যাক্সিস। এরপর তাঁকে একটি স্কোয়াডের অংশ হিসেবে নামিয়ে দেওয়া হবে যুদ্ধে। নামার সময় সৈন্যকে নানা ধরনের অস্ত্র দিয়ে সুসজ্জিত করতে হবে, না হলে গেমে জেতা সম্ভব নয়। গেমটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে গেমার তাঁর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেই স্কোয়াড তৈরি করেন। তবে একা খেলা যাবে না তা নয়, সে ক্ষেত্রে অন্যান্য গেমার বা কম্পিউটারচালিত এআই সৈন্যদের সঙ্গে তৈরি করে দেওয়া হবে স্কোয়াড।

যুদ্ধে নামার পর গেমারের কাজ থাকবে একটিই—অপর দলকে পরাজিত করে বেশ কিছু কৌশলগত পয়েন্ট দখলে রাখা। যে দল সবচাইতে বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ পয়েন্ট দখলে রাখতে পারবে, তারাই হবে জয়ী। সে লক্ষ্যে সম্মুখযুদ্ধ, গেরিলা ট্যাকটিকস, ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান—সবই ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া থাকছে ব্যাটলফিল্ডের রাশ মোডের মতো ম্যাচ, যেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অবজেক্টিভ শেষ করাই হবে গেমারের একমাত্র লক্ষ্য।

ফ্রি গেম হিসেবে এনলিস্টেডের গ্রাফিকস চমৎকার। বন্দুকের ডিটেইলস, যুদ্ধক্ষেত্রের গ্রাফিকস থেকে শুরু করে এর ফিজিকসও অত্যন্ত বাস্তব। তবে ইচ্ছা করেই গাইজিন গেমটিকে অতিরিক্ত বাস্তবমুখী করেনি, বলা যায় এটি ব্যাটলফিল্ড আর আর্মা সিরিজের গেমগুলোর মাঝামাঝি রয়েছে।

সমস্যা অবশ্য নেই, তা নয়। বর্তমানের পরীক্ষামূলক সংস্করণে আছে খুবই কম ম্যাপ, কিছু এনিমেশন রয়ে গেছে একেবারেই নিম্নমানের, বেশ কিছু ফিজিকসের বাগ রয়ে গেছে। ফলে গেমে দেখা যাচ্ছে গেমাররা আটকে যাচ্ছেন দেয়ালে, লাফাতে গিয়ে উড়ে যাচ্ছেন। সৈনিকদের মডেলের ডিটেইলেও রয়ে গেছে ঘাটতি। তবে পূর্ণাঙ্গ গেমে এসব সমস্যার সমাধান থাকার আশ্বাস দিয়েছেন নির্মাতারা।

 

খেলতে যা যা লাগবে

অন্তত উইন্ডোজ৭ ৬৪ বিট পিসি, ইন্টেল কোর আই৩ বা সমমানের প্রসেসর, ৮ গিগাবাইট র‌্যাম, এনভিডিয়া জিটিএক্স ৬৬০ বা এএমডি রেডিওন ৭৮০০ সিরিজের জিপিউ এবং ১২ গিগাবাইট জায়গা।

 

বয়স

১৮+