প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয় ২১ জুন, যেদিন তিনি একই সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন সফরের দ্বিতীয় ধাপে তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছেন এবং সেখানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে ২৪ জুন বিকেলে রেলযোগে বেইজিংয়ে পৌঁছেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ২৬ জুন বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ করেন।
দুই.
২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে বসেন। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়; যেমন—অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এবং খোলা মনে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ সহায়তা, জিডিআই, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা, চীনের ভাষাশিক্ষা এবং গণমাধ্যমের নানা পরিসরে সহায়তা। বিনিয়োগ সহযোগিতায় চারটি চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি, গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ ছাড়া গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের ডিফারেন্ট কো-অপারেশন প্ল্যান, বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি, চীনের ভাষা ম্যান্ডারিন স্কুল কারিকুলামে যুক্ত করা এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশন কো-অপারেশনে পৃথক দুটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
তিন.
প্রধানমন্ত্রী ২৬ জুন সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারি ইত্যাদি গুরুত্ব পায়। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন সব সময় বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে এবং উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়গুলোতে পরস্পরকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করতে চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চীনের সহযোগিতার কথা জানান। তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করার ব্যাপারে চীনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। ওই দিন তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি। তাঁদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি ছাড়াও রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে কথাবার্তা হয়।
২৫ জুন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী এসব বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গেও দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন। লিউ হাইশিং বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আরো কার্যকর অবদান রাখার আগ্রহ দেখান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে আরো দেখা করেন চীনভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান মেগা রিচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা অংশীদার কেভিন উ, দেশটির শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ও পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হান্ডা গ্রুপের চেয়ারম্যান হান চুন এবং শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান চেরি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইন টংইউয়ে।
চার.
সফরকালে তারেক রহমান ২৫ জুন বেইজিংয়ের একটি হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পপতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি চীনা কম্পানিগুলোকে এশিয়ার পরবর্তী বৃহৎ অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় যৌথ রূপকার হতে বাংলাদেশে তাদের মূল্যশৃঙ্খল সম্প্রসারণের আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধার বিস্তৃত বর্ণনা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তারা যথাযথ মূল্যায়ন পাবে এবং এ অঞ্চলের সম্ভাবনাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বেশি চীনা কম্পানিকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, সমমর্যাদার অংশীদারির ভিত্তিতে আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি।’
পাঁচ.
প্রধানমন্ত্রী ২৩ জুন সকাল ১০টায় চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সম্পর্কিত ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশসহ বদ্বীপ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে সহায়তা করার জন্য ফোরামকে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। ওই সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জুইংগির সঙ্গেও বৈঠক করেন। তিনি বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় তাঁর পরিকল্পনার কথা অবহিত করে বলেন, বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে কর প্রণোদনা চালু করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোইস জুইংগি জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে আশ্বাস দেন যে বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া তিনি ফোরামের পক্ষ থেকে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ। বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপন এবং রাজনৈতিক, ব্যাবসায়িক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাসহ উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ থেকে কাজাখস্তানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবসা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ওলজাস পানি কূটনীতি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার কাজাখস্তানের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সমর্থন চান।
ছয়.
সব বৈঠকেই উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীন ও বাংলাদেশ এবং তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো সম্প্রসারিত, জোরদার ও বহুমুখী করার অঙ্গীকার করা হয়। এই সফরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যেমন বাংলাদেশ ও তার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে বেগবান করার সুযোগ সৃষ্টি করবে, তেমনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত আলো দেখাবে। উভয় দেশ বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার পথগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে তা উভয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। দুই দেশের নেতাদের আলোচনাকে বাস্তবতায় রূপ দিতে পারলে গ্লোবাল সাউথ ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়বে, যা এশীয় শিল্প চেইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকে সহজতর করবে।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উভয় দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও চীনের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীন তার অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হবে না বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। এই সফরের ফলে কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তেমনটিই প্রত্যাশা করা যায়।
লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব





বিশ্বকাপ ফুটবল তো শুধু একটি বৃহৎ প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি আবেগ। একটি স্বপ্ন। মানবতার সপক্ষে ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় সামাজিক আন্দোলন। এই ফুটবলের মধ্যে মানবজাতির কল্যাণ ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য লুকিয়ে আছে শক্তিশালী অস্ত্র। কথা হলো কূট আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিপক্ষে লড়ার শক্তি ফিফার খুব কম। এই অবস্থায় মানবতার অপমানকে ফিফা রুখতে পারবে না। এটিই বাস্তবতা। ইরানের প্রতি স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দনীয় আচরণের পরও ইরান ফুটবলে অংশ নিয়েছে। ইরানের অংশগ্রহণ পুরো দুনিয়াকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ইরান যেভাবে বিশ্বের সহানুভূতি ও সমর্থন পেয়েছে, এটি খেলায় জেতার চেয়ে অনেক বেশি কিছু! এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।