শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন যে মমতার দক্ষিণ হস্ত, সেই মমতাজির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গের সর্বেসর্বা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের শাসনে এখন বিজেপির সরকার। আর সেই সরকারের তিনি মুখ্যমন্ত্রী। নবগঠিত এই বিজেপি সরকারের সামনে বর্তমানে একাধিক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে শুভেন্দুকেই। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে এখন একজন তেজস্বী রাজনীতিবিদ থেকে প্রশাসকে
রূপান্তরিত হওয়ার চাপের মুখোমুখি হতে হবে। এটিই বলছেন বিশ্লেষকরা।
তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং এমন একটি রাজ্য শাসন করা, যেখানে রাজনৈতিক মেরুকরণ অত্যন্ত গভীর। পুরো কর্মজীবনে শুভেন্দু অধিকারী এমন একজন নেতার ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন, যিনি তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচারশৈলীর জন্য সমর্থকদের কাছে প্রশংসিত, কিন্তু বিরোধীরা তাঁর সেই সব ভাষণকে রাজনৈতিক উসকানি বলে অভিযোগ করে থাকেন। সমালোচকরা বলে থাকেন শুভেন্দুর ভাষণগুলো রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজন আরো গভীর করেছে। মমতার তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমনে তিনি যে উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছেন, শাসক হওয়ায় সেই উত্তাপ এখন তাঁকেই প্রশমন করতে হবে। এরই মধ্যে তিনি এর মুখোমুখি হতেও শুরু করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছেন শুভেন্দু। সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনতে সল্ট লেকে দলের কার্যালয়ে জনতার দরবার বসালেন তিনি। সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমায় হাজার হাজার মানুষ। নিজেদের অভাব-অভিযোগ, দাবি ও সমস্যার কথা জানাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে আসে সাধারণ মানুষ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরাও।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সমীকরণে তৃণমূলের কাছে মুসলিম ভোট ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই মমতার তৃণমূলকে হারাতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ নামে এসআইআরের (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) খড়্গ চালানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৬০ লাখেরও বেশি নাম ভোটারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সামান্য কিছু ভোটার ফেরানো সম্ভব হয়। আবার অনুপ্রবেশকারী নাম দিয়ে ধরপাকড় ও সীমান্তে পুশ ব্যাক কাণ্ডও চালানো হয়। তৃণমূলের এই হারানো ভোটারের অনেক স্বজনই এতে শুভেন্দু সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। তাই শুভেন্দুকে তাঁদের রোষানলকে মোকাবেলা করেই চলতে হবে। অবশ্য এরই মধ্যে নবান্ন থেকে ধৃত অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সল্ট লেকের জনতার দরবারে দুর্নীতি রুখতে শিক্ষক নিয়োগ পলিসিতে স্বচ্ছতা আনার এবং তিন মাসের মধ্যে নিয়োগের আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, জনতার দরবারে হাজির হন পুলিশের চাকরিপ্রার্থীরাও। বিশেষ করে মহিলা প্রার্থীরা নিয়োগে উচ্চতার নির্ধারিত মাপকাঠি নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে যে উচ্চতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গের বহু মেয়ের নাগালের বাইরে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে উচ্চতার নিয়মে পরিবর্তন আনা হোক, যাতে আরো বেশিসংখ্যক মহিলা পুলিশে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন। এতে তাঁরা আশাবাদী, এই জনতার দরবারে তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে। বলা যায়, এভাবে শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট তৎপর হয়ে উঠেছেন। কোরবানির ঈদে তাঁর সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে কোরবানির বিধি-নিষেধ ও ধর্মীয় বিতর্ক। রাজ্যে গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর নতুন বিধি-নিষেধ জারির পর ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে বড় ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। বিধি-নিষেধ অমান্য করার ঘোষণায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে তাঁকে বড় পরীক্ষায় পড়তে হয়। হকার উচ্ছেদেও তৈরি হয় জনরোষ। বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন ও ব্যস্ত এলাকায় হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ বাস্তবায়নে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে তীব্র বিরোধিতা ও জনরোষের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এক দিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা এবং অন্যদিকে ভোটে তাঁরা হারেননি, হারানো হয়েছে—এমন দাবিতে সরব রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। নিজের ভাবনীপুর কেন্দ্রেও জোর করে হারানোর অভিযোগ ফের তুলেছেন মমতা। এক ভিডিও বার্তায় মমতা আবার বললেন, ‘হারের জায়গায় জেতা, জেতার জায়গায় হারা—এই পাশাটাই উল্টেছে প্রায় ১৫০ আসনে। তা না হলে আমরা ২২০ থেকে ২৩০ আসন পেতাম।’ ভবানীপুরে তাঁর হার প্রসঙ্গে মমতার বক্তব্য, ‘আপনারা এজেন্টদের পরিচয়পত্র কেড়েছেন। আমি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম।’ এই সূত্রেই ভবানীপুরের বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘যিনি এখন গদিতে বসেছেন, তাঁর নাম করতে আমার ভালো লাগে না। তাঁকে আমরা অনেক দিন থেকে চিনি। তিনি নিজে বসে লুট করছিলেন। আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিতে দিতে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, ‘যিনি এখন চেয়ারে বসেছেন, তাঁর তো ওই চেয়ারে বসারই কথা নয়। ভোট লুট করে রাজশাসনে বসেছেন। তিনি কী করে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন? এঁরা বাংলার লোক নন, বহিরাগত। ক্ষমতায় এসে বুলডোজার চালিয়ে মানুষের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছেন! পুলিশকে সামনে রেখেই সন্ত্রাস চলছে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর নানা অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এসেছে।’
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় ২০১২ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালু রয়েছে এখনো। অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যঃসাবেক অধ্যাপক এবং হক কথা সোচ্চারে বলতে গিয়ে তিনি রাষ্ট্রের রোষানলে। তাঁর প্রতিবাদী মনন ও অদম্য সাহস। তিনি আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসেন। এ কারণে তিনি তৃণমূল সরকারের চোখের বালি হন। কিন্তু শত লাঞ্ছনা ও শাস্তির মুখে দাঁড়িয়ে আজও তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারেরই সমালোচনায় মুখর। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সামনে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অম্বিকেশ মহাপাত্র তাঁর দেওয়া পোস্টে ১৭টি জিজ্ঞাসা তুলে ধরেন—১. পিসি-ভাইপোর জেলযাত্রা হয় কি না; ২. অভয়ার বিচার মেলে কি না; ৩. সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারির বিচার হয় কি না; ৪. নারদ স্টিং অপারেশনে অভিযুক্তদের কোনো শাস্তি হয় কি না; ৫. চাকরি বিক্রয়কারীরা শাস্তি পায় কি না; ৬. সুপ্রিম নির্দেশে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হয় কি না; ৭. সব সরকারি শূন্যপদে স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ হয় কি না; ৮. কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়া যায় কি না; ৯. বন্ধ স্কুলগুলো আবার খোলে কি না; ১০. কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসে কি না; ১১. কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয় কি না; ১২. সংবিধানসম্মত আইনের শাসন ফিরে আসে কি না; ১৩. স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত থাকে কি না; ১৪. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা হয় কি না; ১৫. বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি সুরক্ষিত থাকে কি না; ১৬. রামমোহন-বিদ্যাসাগর-ডিরোজিও-রবি-নজরুল-স্বামীজি-নেতাজি...নির্দেশিত পথে বাংলা থাকে কি না; ১৭. বিশ্ববন্দিত খ্যাতনামা মনীষীদের শ্রদ্ধার আসন বজায় থাকে কি না।
অম্বিকেশ মহাপাত্রর পোস্টে প্রদত্ত জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে গিয়ে যা জানা যায়—পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের রাজনীতিতে ‘পিসি-ভাইপো’ বলতে মূলত তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানো হয়। কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ‘অভয়া’ (তিলোত্তমা)-এর বিচারের বিষয়টি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। মামলার শ্লথগতি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার ও চিকিৎসকসমাজ। সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায় প্রায় ১৪ বছর ধরে জেলে আছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বহু মামলা বিচারাধীন। নারদ স্টিং অপারেশনে অভিযুক্ত কোনো নেতাই এখনো আদালতের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হয়ে শাস্তি পাননি।
২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে একাধিক মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাকে ঘুষ নিতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি মামলাটির তদন্ত শুরম্ন করে। ২০২১ সালের মে মাসে সিবিআই ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের গ্রেপ্তার করে। তবে নিম্ন আদালত ও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তাঁরা সবাই জামিন পেয়ে যান।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভূমিধস জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচনের ফল শুধু সরকারবদলের ঘটনা নয়, বরং মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন থাকায় ব্যাপক হারে অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। তবে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই কারণে মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিবর্তন বাস্তবে কতটা উন্নয়ন এনে দিতে পারবে। তবে নতুন সরকারকে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বিজেপির এই বিপুল জয় প্রমাণ করেছে যে রাজ্যের বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর দলটির সামনে এখন একের পর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে।
এই নির্বাচনের ফল দেখিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চায়। তাই এখন মূল বিষয় হলো কর্মক্ষমতা। সরকার কত দ্রুত কাজ করতে পারে, কতটা স্বচ্ছভাবে প্রশাসন চালাতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিই আগামী দিনের রাজনীতি নির্ধারণ করবে। বিজেপির জন্য এখন আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জয়ের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখা। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন তারা উন্নয়ন, শান্তি, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের বাস্তব ফল দেখতে চায়।
ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দেন অনেকেই, তা পূরণ করাটাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ৯ মে ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ করার পর থেকেই দফায় দফায় বৈঠক করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। নজর দিয়েছেন প্রায় সব দপ্তরে। মাস কয়েক আগেও যিনি বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসতেন, তিনিই আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সাবেকের পাড়ায় গিয়ে বিজয় মিছিলও করে এসেছেন তিনি। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের সামনে থাকা এতসব চ্যালেঞ্জ কী করে মোকাবেলা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী, সেটিই এখন দেখার।
লেখক : কবি, কলামিস্ট ও সাংবাদিক



সবাই যে তোফায়েল আহমেদকে চেনেন, আমরা সেই তোফায়েল আহমেদকে অনেক আগে থেকেই চিনতাম। সেদিন বলেছিলাম, ১৯৬২ সাল থেকে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। সেদিন বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক সাক্ষাৎকারে বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রামের স্কাউট জাম্বুরিতে তাঁর সঙ্গে দেখা। ১৯৬২ নয়, ওটা ১৯৫৮ সালই হবে। সেই স্কাউট জাম্বুরির পর তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে লতিফ ভাইয়ের শত শত চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে। তখন সবারই চিঠি লেখার অভ্যাস ছিল। আমি বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় প্রায় ৬০ হাজার চিঠি পেয়েছি। আমিও তার উত্তর দিয়েছি। হয়তো দু-এক হাজারের উত্তর না-ও দেওয়া হতে পারে। আগের দিনে চিঠি ছিল ভাব আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম। এখন মোবাইলের জামানায় কে চিঠি লেখে? দরকারি চিঠিও লেখা হয় না। সবাই ফোনে ফোনে। উনসত্তরের ছাত্র গণ-আন্দোলনে প্রথম যেদিন হঠাৎই তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বের কথা শুনে হৃদয় ময়ূরের মতো নেচে উঠেছিল। বড় ভালো লাগে, ভীষণ উৎসাহ পাই। একের পর এক আন্দোলনকারী ছাত্র, যুবক, সাধারণ মানুষ আহত-নিহত হতে থাকে। পুরান ঢাকায় মতিউর রহমান শহীদ হন। আন্দোলন আরো বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত আসাদের লাশ কাঁধে নিয়ে মিছিল হয়। আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের অঞ্চলও উত্তাল হয়ে ওঠে। লতিফ ভাই ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে। আমরা আন্দোলন করছি তো করছিই। এর মধ্যে উনসত্তরের পয়লা ফেব্রুয়ারি হঠাৎই আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আবু আহমেদ আনোয়ার বক্স, শামীম আল মামুন ও আমাকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ কারাগারে প্রেরণ করা হয়। টাঙ্গাইলে যে ছোট্ট কারাগার, তাতে রাজবন্দিদের তেমন রাখা হতো না। দু-তিন দিন পর সা
