kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ইকরামউজ্জমান

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি সপ্তম ওমেন্স টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতের বিপক্ষে পার্থে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ নারী দলের এটি চতুর্থবারের মতো অংশগ্রহণ। অনেকেরই মনে আছে, ২০১৪ সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ ছিল বাংলাদেশ। সেবার বাংলাদেশ নারী দল শ্রীলঙ্কাকে তিন রানে পরাজিত করেছিল। এরপর স্থান নির্ধারণী খেলায় পরাজিত করেছিল আইরিশ নারী দলকে। এরপর অবশ্য ২০১৬ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আর কোনো জয় নিশ্চিত করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে জয় এসেছে দুটি খেলায়।

চলমান অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপে এবার অংশ নিচ্ছে ১০টি দল। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে। ‘এ’ গ্রুপে আছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ। আর ‘বি’ গ্রুপে—ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড।

বাংলাদেশের গ্রুপটি তুলনামূলক বিচারে শক্তিশালী। এই গ্রুপে আছে অস্ট্রেলিয়া, যারা চারবার নারী বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড প্রথম দুইবারের বিশ্বকাপে রানার্স-আপ। সংগতভাবেই বাংলাদেশকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরায়। বাকি দুটি ম্যাচ যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ মেলবোর্নে।

বাংলাদেশ এর আগে ২০১৮ সালে এশিয়া কাপ নারী টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ সময় দলটি পাকিস্তানকেও হারিয়েছে। কিছুদিন আগে চারদলীয় খেলায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। যেখানে ভারতের এ ও বি দল অংশ নিয়েছিল। ছিল থাইল্যান্ড দলও। খেলা হয়েছে ভারতের মাটিতে।

বাংলাদেশ কখনো অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের নারী দলের বিপক্ষে খেলেনি। খেলেনি অস্ট্রেলিয়ান উইকেটে। কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য নারী দল তিন সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়ায় গেছে। করেছে ১০ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে। বৃষ্টির কারণে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ রানের রোমাঞ্চকর জয় পায় সালমা খাতুনের দল। নারী দলকে চিত্তাকর্ষক এবং রোমাঞ্চকর দল হিসেবে চিহ্নিত করার সময় অবশ্য এখনো হয়নি। এটাই বাস্তবতা। তবে এটা ঠিক, খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সাহস, মানসিক বল, প্রয়োগ ক্ষমতা এবং জয়ের জন্য লড়াই করার ক্ষুধা ক্রমেই বাড়ছে।

২০১৮ মহিলা টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ভারতকে দুইবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশ আজ লড়বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপে জয় হতে পারে আজকের ম্যাচের অনুপ্রেরণা। 

নারী ক্রিকেট দল বাস্তবতায় বিশ্বাসী। অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেছেন, ‘আমরা আমাদের দলগত সামর্থ্য সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। অযথা স্বপ্নের কথা শুনিয়ে হতাশা ডেকে আনার কোনো মানে নেই। দলের ব্যাটিং সাইডে যথেষ্ট দুর্বলতা আছে। বোলিং মোটামুটি ভালো হচ্ছে। ফিল্ডিংয়ে আরো উন্নতি করতে হবে। বিশ্বাস করি, এই দলটি ক্রমেই উন্নতি করবে। বিশ্বকাপে আমরা একটি দল হিসেবে খেলব। লক্ষ্য একটি—একটি বা দুটি খেলায় জয়। দলের সেই সামর্থ্য আছে—দিনের খেলায় ভালো খেলতে হবে। জয় নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেবে।’

নারী ক্রিকেটচর্চা এবং ইতিহাস খুব একটা পুরনো নয়।

তা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরের মধ্যে নারী ক্রিকেটের সাফল্যও খুব একটা কম নয়। ২০১০ এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল রৌপ্যপদক জিতেছে। ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে স্বর্ণপদক লাভ করেছে।

নারী ক্রিকেট ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে লড়াই করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য এবং এই ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করে এগিয়ে চলার জন্য দেশের ক্রিকেট চত্বরে যে ধরনের পরিবেশ কাম্য তার কিছুই নেই নারী ক্রিকেটে। অথচ নারীরা কিন্তু পুরুষদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। ক্রিকেট অনুরাগীদের অজানা নয় যে এশিয়া কাপে নারীরা পুরুষদের আগে ভারত ও পাকিস্তানকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশের জন্য এটি একটি বিশাল অর্জন। নারীরা যে দেশে ক্রিকেট চত্বরে পুরুষদের তুলনায় অবহেলিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে, এটি স্বয়ং বোর্ড প্রেসিডেন্টও স্বীকার করেছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে দলের জন্য শুভকামনা।

 

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা