kalerkantho

নির্বাচন জয়ের ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তন

জে ইন্সলি

১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচন জয়ের ইস্যু জলবায়ু পরিবর্তন

পেশাজীবনজুড়ে পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিক পরামর্শকদের কাছ থেকে আমি শুনে এসেছি, ‘যদি নির্বাচনে জিততে চান, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মুখ বন্ধ রাখুন।’ অতীতের জন্য এই পরামর্শ হয়তো বাজে ছিল; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ পরামর্শ জঘন্য। একটি পরিবর্তন আসছে। আমেরিকার মানুষ তাদের রোজকার জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের আঁচ পেতে শুরু করেছে। এখন তারা তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে পরিবর্তন চাইছে।

প্রচার চালাতে গিয়ে আমি দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব; যেমন—কয়লা, তেল ও গ্যাস শিল্প পরিস্থিতিকে চরম সংকটে ফেলেছে। বহু পরিবারকে ব্যক্তিপর্যায়ে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে এই সমস্যা।

প্রচারে গিয়ে আমার পরিচয় হয় মারশা মাউসের সঙ্গে। ক্যালিফের আগৌর হিলসে তাঁর বাড়ি ছিল। দাবানলে পুরো শহরের সঙ্গে তাঁর বাড়িটিও আগুনের পেটে গেছে। পড়ে আছে অ্যালুমিনিয়ামের একটি স্তূপ। কথা হলো রিজিনা হ্যাডোকের সঙ্গে। পারিবারিক সহিংসতার শিকারদের সহায়তা করেন তিনি। আইওয়ার ডাভেনপোর্টে তাঁর একটি আশ্রয়শিবির ছিল। গেল বছরের বন্যায় তা ভেসে গেছে। ফিলাডেলফিয়ার একটি তেল শোধনাগারের পাশে থাকেন শামার পিটস। সদ্যোজাত কন্যাকে এই দূষিত পরিবেশের মধ্যে কী করে মানুষ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবস্থান স্পষ্ট—আগামী দশকের মধ্যে আমাদের অবশ্যই কার্বন নির্গমন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আমাদের সন্তান ও সম্প্রদায় ভয়াবহ এবং অপরিবর্তনীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অর্থনীতি বিনির্মাণে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে, নাকি আমরা আমাদের সম্প্রদায়কে নৈরাজ্য আর ধ্বংসের মুখে রেখে যাব, তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্টকেই। গত দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ২৪ হাজার কোটি ডলার লোকসান গুনেছে। আগামী ১০ বছরে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৬ হাজার কোটি ডলার। এত লোকসান মেনে নেওয়ার সাধ্য আমাদের নেই।

কাজেই পরিবেশ নিয়ে কথা বলার অর্থই নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি বলে যে কথা প্রচলিত রয়েছে, তা ডেমোক্র্যাটদের অগ্রাহ্য করার সময় চলে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে করা রাজনীতি এখন পাল্টে গেছে। আর এর সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আমাদের সামনে এনেছেন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিস্ময়কর একটি সূত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। এ মাসের গোড়ার দিকে অদ্ভুত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর এবারের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বায়ু ও পানির ব্যবস্থা করা, যদিও তাঁর এর আগের অবস্থান পরিবেশের জন্য খুব একটা ভালো কিছু ছিল না। তিনি জানেন, জলবায়ু পরিবর্তন তাঁর দুর্বলতা। এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা যায়, মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান মনে করে, জলবায়ু নিয়ে সঠিক পথেই আছেন ট্রাম্প। ৬২ শতাংশের ধারণা ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে।

তারা জানে, আমরা জ্বালানিব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং পরিবার পরিচালনার মতো লক্ষাধিক চাকরির ক্ষেত্রও সৃষ্টি করতে পারব। তারা জানে জাতি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম।

জলবায়ু নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভীতি কাটাতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যপন্থা নয়। যেকোনো সময়ের তুলনায় আমেরিকানরা এখন জলবায়ু পরিবর্তন সংকটের স্পষ্ট ও জোরালো সমাধান চায়। এই ইস্যু নিয়ে লড়তে সক্ষম যথার্থ প্রার্থী দিতে পারলে আমরা ট্রাম্পকে পরাজিত করতে পারব।

আমার প্রার্থিতা অন্যদের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বলেননি যে জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের প্রধান ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে আমার। ৮০ লাখ চাকরির সুযোগ তৈরি করব। জীবাশ্ম জ্বালানির প্রতি আমাদের আসক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাব। শুধু জীবাশ্ম জ্বালানির কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র পাল্টে দেওয়া হবে। সাহায্য করা হবে এই সংকটে বিপর্যস্ত সম্প্রদায়কে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকব আমি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটিই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া না হলে প্রশাসনের পক্ষে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটনের গভর্নর হিসেবে কাজ করতে আমি পছন্দ করি। জীবনের শেষ দিনটিতে আমি আমার নাতি-নাতনিদের চোখে চোখ রেখে বলতে চাই, জলবায়ু সংকট নিরসনে আমি আমার সাধ্যের সবটুকু করেছি।

এই ইস্যুকে এড়িয়ে নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের ব্যর্থতাগুলোর সমালোচনা করেই তাঁকে নির্বাচনে পরাজিত করব আমরা। 

  

লেখক : ওয়াশিংটনের গভর্নর এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য