kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ফুটবলে মুক্তির আলোর সন্ধানে কিরণ

বিদেশিদের ভিড়েও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন এই মৌসুমে। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কালের কণ্ঠ বাছাই করেছে পাঁচ প্রতিভাবান ফুটবলারকে। তাঁদের সামর্থ্য আছে, সঙ্গে নিজেদের চেষ্টা ও স্বপ্ন যোগ করতে পারলেই হয়ে উঠবেন তারকা। তাঁদের নিয়েই সনৎ বাবলার ধারাবাহিকে আজ শেষ পর্বে থাকছেন মাহমুদুল হাসান কিরণ।

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটবলে মুক্তির আলোর সন্ধানে কিরণ

নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন বাঁকে দাঁড়িয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেন বড় কিছুর। খেলার ওপরই নির্ভর করছে তাঁর জীবনের অনেক অঙ্ক, ‘দেশের সেরা ক্লাবে যাচ্ছি, সেখানে লড়াই করে একাদশে জায়গা করতে হবে। এ লড়াইয়ে জিততেই হবে আমাকে। নইলে ঢাকায় একটা বাসা নিতে পারব না, মা-বাবা ও দুই বোনকে নিয়ে আমার ভালো থাকা হবে না।

বিজ্ঞাপন

বড় ছেলে হিসেবে অনেক দায়িত্ব আমার। সত্যি বললে, আমার খেলতে হবে নিজের জন্যই। ’

নিজের জীবনকে রাঙাতে রহমতগঞ্জের ডিফেন্ডার মাহমুদুল হাসান কিরণ নতুন মৌসুমে যাচ্ছেন বসুন্ধরা কিংসে। কিন্তু দেশের সেরা ক্লাবের সেরা একাদশে ঢোকার চ্যালেঞ্জও তো বেশ বড়!

ফুটবলার হিসেবে কিরণ বেড়ে উঠেছেন ধাপে ধাপে। ১২ বছর আগে ইরানে এক কিশোর ফুটবল উৎসব থেকে ফিরে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে তাঁর ফুটবলের স্বপ্ন শুরু। এর মধ্যে কিশোর দলের হয়ে ঘুরে এসেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, খেলেছেন সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ দলে। এই স্বপ্নযাত্রায় ২০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এখন প্রিমিয়ার লিগে দাঁড়িয়ে। ২০১৭ সালে প্রিমিয়ারে কিরণের অভিষেক হয় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের জার্সিতে। দুই মৌসুম রহমতগঞ্জে কাটিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই ফুটবলারের উপলব্ধি, ‘ছোট ক্যারিয়ারে অনেক বড় বড় কোচের সান্নিধ্য পেয়েছি, শিখেছি। ডিফেন্ডার হিসেবে রক্ষণের সব পজিশনেই খেলেছি। কিন্তু ছোট দলে খেলার কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে; যেমন উইং ধরে ওপরে উঠলে আমার জায়গাটা কাভার করার কেউ থাকে না। সব সময় রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়। সুবিধা হলো, বেশির ভাগ সময় বিদেশি ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে লড়ে নিজের সক্ষমতা ও সাহস বাড়ানো যায়। ’

কোচ মারুফুল হকের পরামর্শে নিজের অভ্যস্ত পজিশন লেফট ব্যাক হলেও রহমতগঞ্জে গিয়ে বেশির ভাগ সময় খেলেছেন রাইট ব্যাক হিসেবে। এমনটি সেন্টার ব্যাকেও খেলেছেন কয়েকটি ম্যাচ। এখন তাঁর দুই পা-ই সমান চলে। ওভারল্যাপ করে ভালো ক্রস ফেলতে পারেন দুই প্রান্ত থেকে, তাতে শেষ মৌসুমে হয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট। আগের মৌসুমে অবশ্য অ্যাসিস্ট ছিল পাঁচটি। এটাকেও কিরণ সেরা পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যায় রাখতে চান না, ‘মনে হয়, আমার সেরাটা এখনো বাকি আছে। কিছু জিনিস পারি, কিছু তো ঘাটতি আছে। অন্যদের তুলনায় আমি একটু ধীরগতির, এটা আমার খেলার নেতিবাচক দিক। তাই এখন গতি বাড়ানোর ট্রেনিং করছি। নিজেকে তৈরি করছি চ্যাম্পিয়ন দলের নিয়মিত একাদশে থাকার জন্য। ’

বসুন্ধরা কিংসে সব সেরাদের মেলা, একাদশে ঢুকতে গেলেই হয় এক দফা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিন ফুলব্যাক বিশ্বনাথ, রিমন ও ইয়াসিন আরফাতের সঙ্গে লড়েই তাঁকে জায়গা করতে হবে দলে। কোচের পছন্দ-অপছন্দেরও একটা ব্যাপার থাকে। সব কিছু মাথায় নিয়ে এই রাইট ব্যাক বলছেন, ‘কারো সঙ্গেই আমার লড়াই নেই। লড়াইটা আমার নিজের সঙ্গে। প্রতিদিনই নিজেকে প্রশ্ন করি, পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আমার যেরকম পারফরম করার কথা, সেটা কি আমি পারছি?’

দেশের বর্তমান ফুটবলের প্রেক্ষাপটে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আত্মজিজ্ঞাসা। এই প্রশ্ন যত দিন মনে উঁকি দেবে, তত দিন ফুটবলারের নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ও নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়না থাকবে। এ ছাড়া কিরণের সামনে যেন অন্য কোনো পথ খোলাও নেই, ‘পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে হলে আমাকে ভালো খেলতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা