kalerkantho

মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচের জন্য জিম্বাবুয়ের অপেক্ষা

মাসুদ পারভেজ    

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচের জন্য জিম্বাবুয়ের অপেক্ষা

অবসর নিয়ে একের পর এক বিব্রতকর প্রশ্নে তবু সেদিন ওলটপালট হতে থাকা ভেতরটা লুকিয়ে যথাসম্ভব স্বাভাবিকই থাকার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। গত ২০ জুলাই বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার আগের দিন বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা শুধু এটুকুই নিশ্চিত করেছিলেন যে, ‘শ্রীলঙ্কায় অবশ্যই শেষবারের মতো (খেলতে) যাচ্ছি।’

সেদিন সন্ধ্যার ইনজুরি অবশ্য তাঁর শেষবারের মতো শ্রীলঙ্কায় খেলতে যাওয়ায় বাদ সাধে। যদিও শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে অবসর বিষয়ে সময় নিয়ে ভাবারই পরিকল্পনা ছিল তাঁর। চোটের কারণে দেশেই রয়ে যাওয়ায় বাড়তি সময়ও পেয়েছেন। তবে দায়িত্বশীল কারো সঙ্গে নিজের ভাবনার আদান-প্রদানের কোনো খবরও এখন পর্যন্ত নেই। সেটি যেমন নেই, তেমনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচ আয়োজনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও নেই। পরিচালনা পর্ষদের সবশেষ সভায় প্রসঙ্গটি ক্ষণিকের জন্য উঠলেও উপসংহারে পৌঁছার মতো কিছু হয়নি বলেই জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত এক পরিচালক, ‘সামান্য একটু আলোচনা হয়েছে যে মাশরাফিকে ভালোভাবে বিদায় দিতে হবে। তবে সিরিয়াস কোনো আলোচনা নয়।’

অথচ নাজমুল বিশ্বকাপ থেকে ফেরার আগেই ইংল্যান্ডে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, দেশের মাটিতে সিরিজ আয়োজন করেই বিদায় দেওয়া হবে মাশরাফিকে। কিন্তু সেটি কবে ও কখন? একেই আগামী বছরের মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরের আগে কোনো ওয়ানডে নেই বাংলাদেশের। তার ওপর আগামী নভেম্বরের ভারত সফর দিয়ে জাতীয় ক্রিকেটারদেরও দীর্ঘস্থায়ী ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাবে। ডিসেম্বরে বিপিএল খেলে আবার তাঁদের ছুটতে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি খেলতে। মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচ আয়োজনের ‘উইন্ডো’ তাহলে কিভাবে বের করা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী যা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে সে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য সময়কাল আসছে সেপ্টেম্বরই। তবে কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান না হওয়ার কারণ জিম্বাবুয়ের জন্য অপেক্ষাই বলে জানিয়েছেন তিনি।

সেপ্টেম্বরেই দেশে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের বন্দোবস্ত করেই রেখেছে বিসিবি। ওই আসরে আফগানিস্তানের সঙ্গে তৃতীয় দল জিম্বাবুয়ে হলেও আইসিসির নানা বিধি-নিষেধের কারণে আফ্রিকান দেশটির অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তাদের জন্য আশার কথা হলো, বাংলাদেশের এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই তাদের। তাই ত্রিদেশীয় সিরিজ ত্রিদেশীয়ই থাকার সুযোগ এখনো আছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও খেলার বিষয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটও (জেডসি) কম আগ্রহী নয়। কিন্তু অর্থ সংকটও তাদের পথের কাঁটা হয়ে আছে। এই অবস্থায় তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আরো কিছুদিন সময়ও চেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী, ‘গত পরশু দিনও (বুধবার) জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত মত জানানোর জন্য তারা আরো কিছুদিন সময় নিয়েছে।’

তারা সময় নেওয়াতেই মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ থমকে আছে বলে মনে হলো নিজাম উদ্দিনের কথায়, ‘মাশরাফির বিদায়ি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে এর আগে আমরা জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছি। সেটি নিশ্চিত হলেই আমরা মাশরাফির বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারব।’ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে মাশরাফির শেষ ওয়ানডে ম্যাচকে জড়িয়ে নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘এই ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজটি কিন্তু আইসিসির ফিউচার ট্যুরস প্রগ্রামের (এফটিপি) অন্তর্ভুক্ত নয়। কাজেই আমরা চাইলে এর সঙ্গে বাড়তি কিছু ম্যাচও যোগ করে নিতে পারি।’ বাড়তি ম্যাচ বলতে যে ওয়ানডেও হতে পারে, তাও বলেছেন নিজাম উদ্দিন, ‘হ্যাঁ, এ রকমও হতে পারে যে টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডেও হচ্ছে।’

সেই ওয়ানডে যে ‘বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের’ই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, জিম্বাবুয়ের জন্য বিসিবির অপেক্ষাই সে কথা বলে দিচ্ছে। তাহলে ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট দিয়ে অভিষিক্ত মাশরাফির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ পথপরিক্রমাও শেষ হবে সেই একই দলের বিপক্ষে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা