kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

লেখার ইশকুল

নিজের কবিতার বই পুড়িয়ে ফেলেন নিকোলাই গোগল

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের কবিতার বই পুড়িয়ে ফেলেন নিকোলাই গোগল

রুশ কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার নিকোলাই গোগলের জন্ম ১৮০৯ সালে। তাঁর শিকড় ইউক্রেনে। গল্প সংকলন ‘দিকান্তা খামারের কাছে কাটানো সন্ধ্যাগুলোর’ মতো প্রথম দিকের লেখা তাঁর ইউক্রেনে বেড়ে ওঠার সময়ের কথা বলে। ইউক্রেনের সংস্কৃতি ও লোককথা ছড়িয়ে আছে এসব লেখায়। শেষের দিকের লেখা প্রধানত রুশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক পচনের সমালোচনা করে। যেমন—‘দ্য গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর’ কিংবা ‘দ্য ডেড সৌল’ এ রকম রচনা। উপন্যাস ‘তারাস বুলবা’, নাটক ‘ম্যারিজ’, গল্প সংকলন ‘ডায়েরি অব আ ম্যাড ম্যান’, ‘দ্য পোর্ট্রেট’, ‘দ্য ক্যারিজ’ তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর অন্যতম।

গোগলের বাবা ছিলেন ইউক্রেনীয়। তিনি রুশ ভাষায় কবিতা লিখতেন, ইউক্রেনীয় ভাষায় নাটকও লিখতেন। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় ভদ্রসমাজে ইউক্রেনীয় এবং রুশ ভাষার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। গোগলের বাবার বংশের মানুষেরাও এ দুই ভাষায় কথা বলতেন। চাচার হোম থিয়েটারে ইউক্রেনীয় ভাষার নাটক মঞ্চায়নে ছেলেবেলায় অংশ নিতেন গোগল। ১৮২০ সালে গোগল নেঝিনের শিল্প-স্কুলে ভর্তি হন। বর্তমানে সে স্কুলটির নাম নেঝিন গোগল স্টেট ইউনিভার্সিটি। ১৮২৮ সাল পর্যন্ত গোগল ওই স্কুলে পড়াশোনা করেন। নির্বাচিত দু-চারজন ছাড়া অন্যদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। এ জন্য অন্যরা তাঁকে ‘রহস্যময় বামন’ বলে ডাকতেন। সে বয়সেই তাঁর মধ্যে গভীর আত্মসচেতনতা ও সীমাহীন উচ্চাভিলাষও তৈরি হয়। অন্যদের নকল করার মতো গুণ তখনই তাঁর মধ্যে জাগতে থাকে। এভাবে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকতে থাকেন তিনি। স্কুল পর্ব শেষ করার পর সেইন্ট পিটার্সবার্গে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন জার্মানির স্বর্গীয় জীবন সম্পর্কিত রোমান্টিক কবিতা সংকলন ‘হান্স কুচেলগার্টেন’। নিজের টাকায় প্রকাশ করেন এই কাব্যগ্রন্থ। যেসব পত্রিকায় তিনি এই কাব্যগ্রন্থের কপি পাঠিয়েছিলেন সেগুলোতে মারাত্মক বিরূপ মন্তব্য ছাপা হয়। দোকান থেকে নিজের কবিতার সব বই কিনে তিনি নষ্ট করে ফেলেন এবং প্রতিজ্ঞা করেন আর কোনো দিন কবিতা লিখবেন না। তবে সাহিত্যমহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন তিনি। আন্তন দেলভিগের ‘নর্দার্ন ফ্লাওয়ার্স’ পত্রিকায় গল্প প্রকাশ করেন। ভাসিলি ঝুকোফস্কি এবং পিওতর প্লেতনিয়ভের সুদৃষ্টি লাভ করেন। ক্রমান্বয়ে পুশকিনের সঙ্গেও পরিচয় হয় তাঁর।

রুশ সাহিত্যে গোগলের প্রভাব গভীর। আঁদ্রেই বেলি বলেন, তাঁর লেখা শৈলীর দিক থেকে অবশ্যই সাহসী। নবোকভ মনে করেন, গোগল রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়ে ওঠেন তাঁর ‘দ্য ডেড সৌল’, ‘দ্য গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর’ ‘দ্য ওভারকোট’-এর মতো সৃষ্টির মাধ্যমে। অন্য সমালোচকরাও মনে করেন, ‘দ্য ওভারকোট’ মানবতাবাদী বাস্তবতার শ্রেষ্ঠ রচনা।

দস্তয়েভস্কির ‘পুওর হাউস’ এবং ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’-এ বেশ কয়েকবার গোগলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গোগলের লেখার ওপর ভিত্তি করে ১৩৫টির বেশি চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের চলচ্চিত্রটির নাম ‘দ্য গার্ল ইন দ্য হোয়াইট কোট’। ঝুম্পা লাহিড়ির ২০০৩ সালের ‘দ্য নেইমসেক’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম গোগল। কারণ তাঁর বাবা ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হয়েও বেঁচে থাকে গোগলের বইয়ের একটি কপি আঁকড়ে ধরে।

১৮৫২ সালের ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি রাতে গোগল তাঁর কয়েকটি পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, শয়তান তাঁর ওপরে রূঢ় কৌতুক করেছে। এর পরই তিনি শয্যা গ্রহণ করেন। খাওয়াদাওয়া বাদ দেন এবং ৯ দিন পর মারা যান।

                  ► দুলাল আল মনসুর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা