বিশ্বজুড়ে ফুটবলকে জনপ্রিয় করেছে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকা। এ দুই অঞ্চলের ফুটবল ঘরানা দুই ধরনের। ইউরোপে যেখানে শারীরিক শক্তির প্রাধান্য লক্ষ করা যায়, লাতিন আমেরিকার ফুটবল সেখানে গতির ওপর নির্ভরশীল। লাতিন আমেরিকায় ফুটবল খেলার প্রচলন শুরু হয় গত শতকের প্রথম দিকে। এরপর এর জনপ্রিয়তা এতটাই শিখরস্পর্শী হয়ে ওঠে যে সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্র—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য প্রভাব লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলের প্রায় সব প্রধান কবি, লেখক ও কথাসাহিত্যিক ফুটবল নিয়ে কমবেশি সাহিত্যচর্চা করেছেন।
আমি এই ছোট্ট লেখায় লাতিন আমেরিকার ফুটবল সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য কবিতা নিয়ে আলোচনা করব। সেই সূত্রে এই অঞ্চলের জাতিসত্তা ও প্রাণস্পন্দনের বড় অংশ যে ফুটবলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, সেটা বোঝা যাবে।
লাতিন আমেরিকায় ইউরোপীয় সংস্কৃতি শুধু ফুটবলের মাধ্যমে প্রবেশ করেনি। ইউরোপীয় সাহিত্যের দিকেও ঝোঁক তৈরি হয়েছিল এই অঞ্চলের কবি ও কথাসাহিত্যিকদের। তাঁরা খুঁজছিলেন সাহিত্যের স্বতন্ত্র পথ। বেশি আকর্ষণ ছিল ফরাসি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতি। তবে দ্বন্দ্বও ছিল— নিজেদের স্থানীয় ঐতিহ্যের স্থান তাঁদের সাহিত্যে কিভাবে ঘটবে, তা নিয়ে তাঁরা দ্বিধান্বিত ছিলেন। তবে পশ্চিমের নান্দনিক চর্চা ও নিরীক্ষাকে গ্রহণ করেছেন তাঁরা। শুধু বিতর্ক ওঠে ‘সভ্যতা’ ও ‘বর্বরতা’র পরিসর ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে। পশ্চিম লাতিন মহাদেশকে বর্বর বলতে চাইলেও লাতিন লেখকরা তা মেনে নিতে পারেননি। স্থানীয় জনজীবন ও ঐতিহ্যকে নিরীক্ষার মাধ্যমেই সাহিত্যে স্থান দিয়েছেন। সেই নিরীক্ষার প্রকাশ ঘটেছে লাতিন আমেরিকার লেখকদের লেখায়। নিরীক্ষাধর্মী লেখালেখির দিকে এই সময় যুক্ত হয়েছেন এই এলাকার প্রায় সব প্রধান লেখক। কবিতায় রীতিমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঢেউ বয়ে গেছে। এর প্রভাব কবিতাকেও ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সনাতন ভঙ্গি বদলে আধুনিক ও আঁভাগার্দধর্মী হয়ে উঠেছে। আঁভাগার্দের অর্থ হচ্ছে বিপ্লবাত্মক হয়ে ওঠা। ফুটবলকেন্দ্রিক কবিতায়ও এই নিরীক্ষা ঘটেছে বেশ সফলভাবে। বিশ শতকের শুরুর দিকে, বিশেষ করে দ্বিতীয় দশকে এই অঞ্চলের কবিতা আধুনিক আঁভাগার্দ ও ফিউচারিজমকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছে। এই ধরনের কবিতার জন্য সেই সময়ে খ্যাতি অর্জন করেন খুবই তরুণ এক কবি—হুয়ান পাররা দেল রিয়েগো। আমি এই লেখায় তাঁর ফুটবলকেন্দ্রিক একটি এপিকপ্রতিম কবিতা নিয়ে আলোচনা করব। রিয়েগোর কবিতা শুধু নতুন ধরনের প্রকাশরীতি ও ভাষাভঙ্গির জন্য নয়, বিষয়-আশয়ের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে। এককথায় রাজনৈতিক-সামাজিক দিক থেকে এই কবিতাটি বেশ গভীর ও ভাবসম্পদে ঋদ্ধ।
রিয়েগো ১৮৯৪ সালে পেরুতে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু কবিতাচর্চার লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর উরুগুয়ে চলে যান। উরুগুয়ের রাজধানী লিমা ছিল তখন পুরো অঞ্চলের পরীক্ষা-নিরীক্ষাধর্মী সাহিত্যচর্চার মূল কেন্দ্র। আঁভাগার্দ ও আধুনিকতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং অচিরেই লাতিন আমেরিকাজুড়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে যুদ্ধের বিভীষিকা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তাঁকে উদ্দীপ্ত আধুনিক কবিতা রচনায় অনুপ্রাণিত করে।
যুদ্ধের একটা মারাত্মক দিক হচ্ছে, মানুষ এর দ্বারা শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়। মানুষের শরীরে ও মনে তৈরি হয় ক্ষত। বিশ্বসাহিত্যে সেই যুদ্ধ-পরবর্তী দিনগুলোতে মানুষের শরীর ও মন তাই বেশ ভালো করে স্থান করে নিয়েছে। সামাজিক-রাষ্ট্রিক বিপর্যয় তো ছিলই। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, যেকোনো খেলার মতো ফুটবল হচ্ছে শারীরিক, বিশেষ করে পায়ের কাজ, দৌড়ের গতি, শরীরের শক্তি ও সঞ্চালন, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিপক্ষকে কৌশলে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হওয়ার খেলা। অর্থাৎ এই খেলায় শরীরের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রিয়েগোর কবিতায় এই শরীরের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে ফুটবল নিয়ে তিনি যে কবিতাগুলো লিখেছেন তাতে এই শরীরের প্রাধান্য লক্ষ করা যাবে। শরীরের সূত্রেই তিনি বেশ কিছু সামাজিক-ব্যক্তিক সমস্যাকে তুলে ধরেছেন। দেল রিয়েগো ফুটবলবিষয়ক দুটি কবিতার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন এবং আজও সমাদৃত হন ফুটবল কবিতার পুরোধা হিসেবে। এই দুটি কবিতার শিরোনাম হচ্ছে ‘ফুটবলের স্তবগাথা’ এবং ‘বহুমাত্রিক ছন্দোময় ফুটবলার গ্রাদিন’। আমি আলোচনা করছি দ্বিতীয় কবিতাটি নিয়ে।
ইসাবেলিনো গ্রাদিন (১৮৯৭-১৯৪৪) ছিলেন উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দিকের কৃষ্ণাঙ্গ তারকা ফুটবলার। এই গ্রাদিনকেই ‘বহুমাত্রিক ছন্দোময় ফুটবলার গ্রাদিন’-এর বিষয়বস্তু করেছেন তরুণ কবি দেল রিয়েগো। ১৯১৬ সালে কোপা আমেরিকার প্রথম টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। তিনি সেই টুর্নামেন্টে ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। চিলির বিরুদ্ধে উরুগুয়ে যে ৪-০ গোলে জয়ী হয়, তার দুটি গোলই করেছিলেন গ্রাদিন। গ্রাদিন কৃষ্ণাঙ্গ বলে উরুগুয়ে দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি তোলে চিলি। আপত্তিটা কী? চিলি জানায়, গ্রাদিন তো কৃষ্ণাঙ্গ, তাঁর রক্তে বইছে আফ্রিকার জাতিগত রক্ত; লাতিন অঞ্চলের নয়। এই আপত্তির অবশ্য কোনো কারণ ছিল না। গ্রাদিনের পূর্বপুরুষ আফ্রিকার হলেও তাঁর জন্ম লাতিন আমেরিকায়। চিলি আসলে এই আপত্তির মধ্য দিয়ে ‘সভ্যতা’ বনাম ‘বর্বরতা’র বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু লাতিন আমেরিকায় ফুটবল শুরুর দিনগুলোতে দর্শকরা ধারণা করতে থাকে, কৃষ্ণাঙ্গরা ফুটবলকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। এতে শুধু ফুটবলে নয়, একদিন হয়তো সামাজিক-রাষ্ট্রীয় জীবনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যও খর্ব হবে।
পাররা দেল রিয়েগোর কবিতাটি লাতিন আমেরিকার ফুটবল সাহিত্যের প্রথম দিকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা। কবিতাটি শুরু হয়েছে উল্লাস আর উদযাপনের অনুষঙ্গ দিয়ে। গ্রাদিনকে তুলনা করা হয়েছে একজন বিমানচালকের উড্ডয়ন দক্ষতার সঙ্গে। এই তুলনাটা ছিল আধুনিক কবিতার রূপক। অনেকটা প্রথাগত পুরনো কবিতার কাঠামো অনুসরণ করে কবিতাটি শুরু করেছেন রিয়েগো। পরে সেই রীতি বর্জন করে তিনি আধুনিক প্রকাশ কাঠামোর আশ্রয় নিয়েছেন।
কবিতাটিতে গ্রিক পুরাণের প্রভাবও লক্ষ করা যাবে। এতে যে ডানার উল্লেখ আছে তা গ্রিক পুরাণকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। ডানার চিত্রকল্পটি ক্লাসিক্যাল, কিন্তু ফিউচারিজমে উদ্দীপ্ত কবি রিয়েগো অন্য নানা ধরনের উপমা ও চিত্রকল্প ব্যবহার করে কবিতাটিকে আধুনিক করে তুলেছেন। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আধুনিক ও ধ্রুপদি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তিনি খেলাধুলাকেন্দ্রিক উদযাপনকে মিলিয়ে দিয়েছেন।
আধুনিককালে শরীরের নানা ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো। তাঁর মতে শরীরের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় হয়ে ওঠে রাজনীতিতে। শরীরকে, অর্থাৎ শরীরী মানুষকে স্বৈরাচারী শাসকরা কারাগারে আটক রেখে অনেক সময় দেশ শাসন করে। শরীরকেন্দ্রিক বিদ্রুপও হাতিয়ার হয়ে ওঠে রাজনীতির। নারীর ক্ষেত্রে এটা ঘটে সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে আমাদের মতো দেশগুলোতে। বর্ণবাদ তো পুরোপুরি শরীরী বিষয়। রিয়েগো সেই বিশ শতকের শুরুতে গ্রাদিনের মহিমাকীর্তনের মধ্য দিয়ে এই বর্ণবাদকে অগ্রাহ্য করেছেন। ভেঙে দিয়েছেন দাসত্বের গণ্ডি। এ জন্যই কবিতাটিতে বিমানচালকের উপমা ব্যবহার করেছেন রিয়েগো। গ্রাদিন বলের সঙ্গে ওড়েন, লাফান, চাঁদ ছুঁয়ে দেন। আকাশে উড্ডীন দেখা যায় তাঁকে। আবার মাটিতেও ফিরে আসেন তিনি। ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভেদ করে গোল করেন। গ্রাদিনের এই যে অদম্য রূপের পরিচয় কবি তুলে ধরেছেন, এই পরিচয়ের মধ্যেই রাজনীতি রয়েছে। সেই রাজনীতি যেমন শরীরী, তেমনি বর্ণবাদবিরোধী, দাসত্ববিরোধী। গ্রাদিন দাস হয়ে থাকেন না এই কবিতায়। তিনি আপন মহিমায় ছাড়িয়ে যান সবাইকে। তাঁর সঙ্গে পেরে ওঠে না কেউ।
ফুটবলারের শরীর যদি সময়কে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা স্থানকেও অতিক্রম করতে পারে, এ রকমই ভাবতেন রিয়েগো। লক্ষণীয়, এ কারণেই আকাশের উল্লেখ দিয়ে শুরু করার পর কবিতাটি মাটির দিকে নেমে আসে। সেই সময় মাঠে গ্রাদিনের দক্ষতা সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। এরপর কবিতাটি আকাশ অভিমুখী হয়ে পড়ে, যখন গ্রাদিন বলটিকে হেড দিয়ে ওপরের দিকে ভাসিয়ে দেন এবং নিজে একটি বেলুনে পরিণত হন। এরপর বলের সঙ্গে গ্রাদিনও আবার মাটিতে ফিরে আসেন, যখন তিনি প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে বল নিয়ে বেরিয়ে যান এবং কবিতার মূল ফোকাসটি গোল করাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। পরবর্তী স্তবকগুলোতে আমরা সমুদ্রের দিকে চলে যাই, যেখানে গ্রাদিন হলেন অ্যাক্রোব্যাট মাছ, যিনি সবচেয়ে সহিংস আক্রমণের তীব্রতা থেকে পিছলে যান, বাঁক নেন, বাতাসে ভেসে থাকেন। কেউ তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও দেখতে পায় না, কিন্তু একটি সাবমেরিনের মতো গ্রাদিন ওপাশে বল নিয়ে ভেসে ওঠেন! শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপট মহাশূন্যে স্থানান্তরিত হয়। গ্রাদিনের নাম চাঁদের উদ্দেশে ঘোষণা করা হয় ‘টুপির উজ্জ্বল অভিবাদনের’ মাধ্যমে।
সামাজিক-রাজনৈতিক মাত্রাটিও এই কবিতাকে অনন্য করে তুলেছে। কবিতাজুড়ে রঙের ধারাবাহিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রিয়েগো। এর বেশির ভাগই কালো-সাদা বা অন্ধকার-আলোর বাইনারি বা বিপ্রতীপ বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে তাই দেখা গেল শ্বেতাঙ্গ কবির আত্মা হচ্ছে ‘অন্ধকার’, অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারের দক্ষতাই ওই শ্বেতাঙ্গদের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আলোকোজ্জ্বল পরম অনুভূতির স্বাদ দিয়েছে। একইভাবে কবিতার শেষ স্তবকে, দর্শকসারি—যা মূলত শ্বেতাঙ্গদের আধিক্যে পূর্ণ ছিল—গ্রাদিনের গোলের আবেগে আপ্লুত হয়ে ‘কর্কশ কালো তরঙ্গে’ পরিণত হয়।
শরীর ও জাতির এই প্রশ্নগুলোর সঙ্গে আরেকটি বাড়তি মাত্রা যোগ হয় গ্রাদিনকে কামনার অনুষঙ্গ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে। গোল হওয়ার পরবর্তী মুহূর্তে কবি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন : ‘আমি নিতম্ববিশিষ্ট নারীদের তিনজনকে দেখেছি / তারা আবেগে কেঁপে উঠত ও শিহরিত হতো!’ এই বর্ণনায় একজন অভিজাত পুরুষ ফুটবলারের প্রতি বিপরীত লিঙ্গের নারীদের আকর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট। উরুগুয়ের সেই সময়ের ফুটবল ম্যাচগুলোতে উপস্থিত দর্শকদের কথা বিবেচনা করলে (যা ছিল মধ্যবিত্তদের একটি সামাজিক অনুষ্ঠান), এটি বেশ নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যায় যে, সেই নারীরা শ্বেতাঙ্গ ছিলেন। এই বর্ণনা তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় শ্রেণি ও জাতিগত বিভেদকে ছাড়িয়ে যৌন আকর্ষণ এবং সম্পর্কের মতো একটি বিতর্কিত বিষয়কে সরাসরি স্পর্শ করে। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এই ভাবনা একদিকে যেমন ছিল অভিনব, অন্যদিকে দুঃসাহসী।
এই কবিতার গঠনকাঠামো ও নির্মাণশৈলী মূল বিষয়বস্তুগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যের নিরিখে সংক্ষেপে বিবেচনা করার মতো। ছোট ছোট শব্দ দিয়ে বেশ কিছু পঙক্তি রচনা করে কবিতাটিকে ফুটবলের মতো গতিময় করে তুলেছেন কবি। ছন্দ বা অন্ত্যমিলের কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস নেই। তবে কবিতাটি গ্রাদিনের মতোই সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়, আবার পুরোপুরি প্রথার দাসও নয়। কাঠামোগত এই বাধ্যবাধকতা এবং একে অগ্রাহ্য করার মধ্য দিয়ে ফুটবল মাঠে একজন জাতীয় নায়ককেই প্রতিষ্ঠা করেছেন রিয়েগো। লাতিন আমেরিকার সমকালীন সমাজের এক অবদমিত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে গ্রাদিনের অবস্থান এই কবিতায় চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে ফুটবলের মহিমা ও জনপ্রিয়তাও তুলে ধরেছেন কবি রিয়েগো।




