‘হার্ভি ওয়াইনস্টিন কাণ্ড’র পর হলিউডে রীতিমতো ঝড়! বলিউডেও এসে লেগেছে তার ধাক্কা। এর মধ্যেই বাংলাদেশের মডেল-অভিনেত্রী ফারিয়া শাহরিন দাবি করলেন, কাজ পাওয়ার বিনিময়ে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ পেয়েছিলেন তিনি। ফল ভালো হয়নি, হলিউডের মতো বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের বাসিন্দারা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। কেন? উত্তর খুঁজেছেন দাউদ হোসাইন রনি কয়েক দিন আগেও অভিনেত্রীরা ফোন করে বলতেন, “ভাইয়া, জানেন তো ‘অমুক’ নায়িকা কিভাবে এত কাজ পায়! আমরা বাপু এসব করতে পারি না বলেই আমাদের কিছু হয় না।” দেখা গেল, অভিযুক্ত নায়িকাই ফোন দিলেন পরদিন, একই অপবাদ অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে, ‘কেউ তো ধোয়া তুলসীপাতা না। সে কী কী করে বেড়ায়, আমি তো জানি। আপনারা নিউজ করেন না কেন? সব খবর আমিই দেব।’ এমন অভিজ্ঞতা কম-বেশি সব সংবাদকর্মীরই আছে। ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে এখন যখন সেসব অভিনেত্রীর মুখোমুখি হলো ‘রঙের মেলা’, হঠাৎ করেই বদলে গেল দৃশ্যপট! সবাই যেন আকাশ থেকে পড়লেন! প্রসূন আজাদ ছাড়া আর কেউই সরাসরি কিছু বললেন না। অনেকে জানেনই না, শোবিজে এমন কিছুর অস্তিত্ব আছে! একজন তো বলেই দিলেন, কোনোভাবেই যেন এ ধরনের সংবাদে তাঁর নাম না থাকে। তবে কিছু পরামর্শ দিলেন, ‘এ ধরনের খবর সংবাদপত্রে না আসাই ভালো। আমাদের কাজের খবর ছাপেন। এসব ছাপতে হবে কেন?’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন বললেন, সব প্রফেশনেই কিন্তু এমনটা হয়, শোবিজেরটাই কেন হাইলাইট করতে হবে। এতে হিতে বিপরীত হয়, সবাই ভাবে শুধু শোবিজেই এসব হয়। ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে এ মুহূর্তে বলতে না চাওয়ার নেপথ্যে আছেন ফারিয়া শাহরিন। এই মডেল-অভিনেত্রী মুখ খোলার পর রোষানলে পড়েছেন অন্যদের। অবশ্য তার কারণও আছে। ফারিয়ার অভিযোগটা অসম্পূর্ণ। এই মডেল-অভিনেত্রীকে কে বা কারা কুপ্রস্তাব দিয়েছে, সেটা তিনি খোলাসা করে বলেননি। বলেছেন, ‘এসব’ মানতে পারেননি বলেই তাঁর কাজের সংখ্যা কম। মুখ ফুটে তিনি কুপ্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, সেটা অবশ্য অনেকেই করেন না। তবে আরেকটু সাহস তিনি দেখাতেই পারতেন, নামধাম বলতে পারতেন। যাঁদের কাছ থেকে কুপ্রস্তাব পেয়েছেন তাঁদের নাম না বললেও এমন এক চলচ্চিত্র তারকার নাম নিয়েছেন যাঁর সঙ্গে তিনি কখনো কাজই করেননি। তিনি শুনেছেন, সেই তারকার সঙ্গে কাজ করলে নাকি ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে হয়। শোনা কথায় তিনি ছবি ছেড়ে দিলেন! ফারিয়া খুব বেশি অভিনয় করেননি। হাতে নেই তেমন কোনো কাজও। তাঁর সহকর্মীরা বলছেন, আলোচনায় আসার জন্যই কথাগুলো বলেছেন ফারিয়া। কারণ তিনি জানেন, কিভাবে আলোচনায় আসা যায়। এই ইস্যুতে একাত্তর টিভি লাইভে এসেছিলেন অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, বন্যা মির্জা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদুল হক। ছিলেন ফারিয়া শাহরিনও। ফারিয়াকে তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তাঁর অভিযোগটা অসম্পূর্ণ। এভাবে ঢালাও অভিযোগ করা ঠিক নয়। এতে মনে হবে, যাঁরা নিয়মিত অভিনয় করছেন তাঁদের সবাই এসব মেনে নিয়েই করছেন। বিষয়টা তো আসলে তা নয়। তবে শহীদুজ্জামান সেলিম ও বন্যা মির্জা মেনে নিয়েছেন, সব প্রফেশনের মতো শোবিজেও এমন ঘটনা ঘটে। পার্থক্যটা হলো, অন্য পেশার মানুষ অভিযুক্ত হলে ব্যক্তিটি নিন্দিত হন, শোবিজের কেউ অভিযুক্ত হলে পেশাটাকেই অভিযুক্ত করে ফেলেন কিছু মানুষ। কথাগুলো মিথ্যা নয়। তবে শোবিজ-সংশ্লিষ্টরা নিজেদের পেশার সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যক্তি অধিকার ক্ষুণ্ন করছেন কি না সেটাও দেখতে হবে। ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে বহির্বিশ্বের অভিনেত্রীরা যখন একের পর এক ‘কাস্টিং কাউচ’-এর খবর ফাঁস করে দিচ্ছেন, তখন আমাদের অভিনেত্রীরা বিষয়টাকে রেখেঢেকে রাখতে চাইছেন। অনেক অভিনেত্রী আছেন, যাঁরা হয়তো কখনোই ‘কাস্টিং কাউচ’-এর শিকার হননি; কিন্তু অন্যজন যখন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে হাজির হবেন তাঁকে যেন কটূক্তির মুখে না পড়তে হয়। কিছুদিন আগে অভিনেত্রী প্রসূন আজাদ বলেছেন, ‘শোবিজে কেউ ধর্ষিত হয় না, যা হয় পারস্পরিক সম্মতিতেই হয়।’ সম্মতি ও বাধ্য হওয়া—দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এই পার্থক্যটা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। ‘বাধ্য হওয়া’র বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হলে বরং শোবিজেরই লাভ হতো। ইস্যুটার একটা রফা হয়ে যেত। ফারিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্কে না গিয়ে এটাকে সুযোগ হিসেবে নেওয়া যেত। হার্ভি ওয়াইনস্টিন বা কেভিন স্পেসির মতো অভিযুক্তরা চিহ্নিত হতেন, বাকিরা তখন বুক ফুলিয়ে বলতে পারতেন, ‘দেখো, আমি নেই এই তালিকায়।’ যে পেশাটার মর্যাদা নিয়ে সবাই চিন্তিত সেই পেশাটাও হতো কলঙ্কমুক্ত। নতুন যাঁরা শোবিজে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাঁদের জন্যও সুবিধা হতো। অফিসে বা বাসায় যা হয়, তাই হচ্ছে শোবিজে ‘কাস্টিং কাউচ’ বিতর্ক নিয়ে কলম ধরেছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা ‘গোল্ডেন গ্লোব’ থেকেই তো এ বিতর্ক জোরেশোরে চলছে। হলিউডের সব শিল্পী কালো কাপড় পরে আন্দোলন শুরু করেছেন। ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে নাম মেনশন করে বড় বড় প্রডিউসার-ডিরেক্টর, এমনকি সহশিল্পীদের দিকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি বলব, হলিউড আমাদের থেকে ১০০ বছর এগিয়ে। তাদের ক্ষেত্রে এটা স্মার্টনেস। আমাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমরা যদি এ রকম আঙুল তুলে বলতে পারি, সে কথা আলাদা। কিন্তু আমাদের কেউ যদি ঢালাওভাবে বলে, আমি এসব করতে পারিনি বলেই কাজ করতে পারিনি, তাহলে যাঁরা অভিনয় করে বড় তারকা হয়েছেন তাঁরাও কি এসব মেনে নিয়েই হয়েছেন! আমরা নারীরা যারা কাজ করছি, শুধু শোবিজ নয়, যেকোনো জায়গায়— ছোটবেলা থেকেই বাসায় কিংবা যেকোনো জায়গায় এমন অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আমাদের পড়তে হয়েছে। যেটা আমি অনেক সময় বুঝেও উঠতে পারিনি। এর মধ্যেই আমাকে বড় হতে হয়েছে। যখন শোবিজে কাজ শুরু করেছিলাম, তখনই শুনতাম শোবিজে এটা হয়-ওটা হয়। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি এ রকম কিছু করতেই হয় তাহলে শোবিজে থাকব না। এগুলো কিন্তু ‘গোল্ডেন গ্লোব’ বা বাইরে থেকে কেউ এসে আমাকে শিখিয়ে দেয়নি। ফ্যামিলি থেকে শিখেছি। আমাদের প্রফেশন নিয়ে কিন্তু যুগের পর যুগ মানুষের মাথাব্যথা। কারণও আছে। একটা সময় ছেলেরা মেয়ে সেজে অভিনয় করত। কারণ তখন মেয়েরা বাড়ির বাইরে যেতে পারত না। তারপর এলো বাইজিরা। অনেক পরে শিক্ষিত মেয়েরা অভিনয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষের মনে এখনো রয়ে গেছে, অভিনয় করে বাইজিরাই। সাধারণরা তাই এখানটার ফ্যান্টাসি অনেক এনজয় করে। এই মানসিকতা বদলাতে সময় লাগবে। অনেকেই বাইরে থেকে বলে, এখানকার মেয়ে তো খারাপই! দশজনের মধ্যে একজনকে নিয়ে খারাপ কোনো সংবাদ হলে সবাইকে এক পাল্লায় তুলে আনে। আমার সংসার যখন সুন্দরভাবে চলেছে, তখন কজন আমার সংসার নিয়ে প্রশংসা করে নিউজ করেছে? যখন আমার ডিভোর্স হয়ে গেল, তখন কিন্তু ‘অপবাদ’ দেওয়া নিউজের অভাব হলো না। আমরা কিন্তু মঙ্গলগ্রহের না, এই সমাজেরই মানুষ। একটা অফিসে যা হচ্ছে, একটা বাসায় যা হচ্ছে—সেটাই হচ্ছে আমাদের শোবিজে; যদিও অনেক গৃহিণী নারী হয়েও কথা প্রসঙ্গে আমাদের নিয়ে বাজে বলেন! সেটারও কারণ আছে, আমরা অনেকেরই ঈর্ষার কারণ। শোবিজে আমাকে কম্প্রোমাইজ করতে হয় না। তবে এটা নিয়ে যখন কথা উঠছে, নিশ্চয়ই কাউকে না কাউকে করতে হয়। অনেক পলিসি, অনেক রাজনীতি বা গডফাদারের আনাগোনা থাকতেই পারে। আমি বলতে পারি, আমার ১০টা সিনেমা আছে। গডফাদার থাকলে হয়তো ২০টা হতো। আমি কিন্তু ১০টাতেই হ্যাপি। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম। প্রচণ্ড দুষ্টু ছিলাম। ফাইনাল পরীক্ষার সময় ছেলেদের আলাদা রুমে আর মেয়েদের আলাদা জায়গায় বসতে হতো। আমার একটা ছেলেবন্ধু কোনোভাবে প্রশ্ন ম্যানেজ করে ফেলেছিল। এমসিকিউ প্রশ্নটার পাশে সে সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দিয়ে রেখেছিল। আমরা হৈ-হুল্লোড় করে ওর কাছ থেকে প্রশ্নপত্রটা নিলাম। আমাদেরই ক্লাসের আরেকটা মেয়ে, অনেকক্ষণ ধরে ‘আমাকে দাও আমাকে দাও’ করছিল; কিন্তু পায়নি। এবিসিডি দেখে আমরা সঠিক উত্তর দিচ্ছিলাম, মেয়েটা রুমে ঢুকে কেঁদেই যাচ্ছে। পরীক্ষা শেষে ওর মা আমাদের যা-তা বলছিলেন। আমি গিয়ে বললাম, ওর হাত দেখেন। সেখানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর লেখা। ও চেষ্টা করছিল কিন্তু নিতে পারেনি। সেটা কি আমাদের দোষ! শোবিজেও এখন তাই হচ্ছে, কেউ চেষ্টা করে না পেয়ে পরে আঙুল তোলে তাদের দিকে যারা সফল হয়েছে। আরেকটা কথা, কেউ যদি চিন্তা করে একটা নাটক প্রডিউস করলে নায়িকাকে সহজে পাওয়া যায়, সেটা ভুল। যদি কাউকে পাওয়াও যায় সে ‘তথাকথিত’ নায়িকা, নম্বরি নয়। যাদের প্রতিভা থাকে তাদের এসব করতে হয় না। আসলে সব কিছু নিয়ে কথা বলাও ঠিক নয়। মুদি ব্যবসায়ী আর মাছের আড়তদার কী করল তা নিয়ে আমি কেন বলব! আমি সোহানা সাবা, তাকে নিয়েই কথা বলব, যাকে নিয়ে আমার কথা বলা মানায়। তাঁদের ভাষ্য কথা বললেই বোঝা যায় কে প্রফেশনাল, কে মতলববাজ বিদ্যা সিনহা মিম খুব কমই ফেস করেছি এসব। আজ পর্যন্ত আমাকে কেউ সরাসরি এমন কিছু বলার সুযোগ পায়নি। তার পরও যদি কেউ কখনো কিছু বলে অথবা আমি আকার-ইঙ্গিতে বুঝি, হয়তো সে ক্লিয়ার করে বলেইনি, আমার কাছে যদি মনে হয়, আচ্ছা সামথিং ইজ রং। তখন কাজটা করি না এবং সেখান থেকে সরে আসি। আমি তো সিনেমাও করছি। অনেক সময় অনেকে বলেন, আমাদের কাছে টাকা কোনো ফ্যাক্টর না, এই সেই সুযোগ-সুবিধা দেব। কথা বললেই বোঝা যায় কে প্রফেশনাল কে মতলববাজ। মিডিয়ার বাইরের লোকজন ফোন করে বাজে প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করে বেশি। এক কথা দুই কথা বলেই আমতা আমতা করতে থাকে। তখনই বুঝতে পারি এবং লাইন কেটে দিই। কাউকে সুযোগই দিইনি মৌসুমী হামিদ বিকৃত প্রস্তাব শুধু যে মুখেই দিতে হবে এমনটা নয়। সরাসরি কেউ বলবে না তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে, আমি এটা চাই-ওটা চাই। এসব কিন্তু মানুষের চোখ দেখেই বোঝা যায়। একজন পুরুষ যখন কারো দিকে বাজে চোখে তাকায় সেটা যে কেউই বুঝে যায়। তাকানোটা দেখেই যদি আপনি প্রটেস্ট করতে পারেন তাহলে দ্বিতীয়বার লোকটা আপনাকে কোনো বাজে প্রস্তাব দেওয়ার সাহস করবে না। আমি যখন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় গিয়েছি তখনো বাইরে থেকে অনেকে অনেক কিছুই বলেছে। এই-ওই ডিমান্ড পূরণ না করলে পজিশন পাওয়া যায় না। আমি একদম মফস্বলের মেয়ে। রক্ষণশীল পরিবারে বড় হয়েছি। বিষয়গুলো সব সময় মাথায় ছিল। আমি ডিটারমাইন্ড ছিলাম যদি এমন কিছুর সম্মুখীন হতে হয় তাহলে সেদিনই কুইট করব। আমি জোর গলায় বলতে পারি, লাক্স প্রতিযোগিতার কোনো মেয়ে বলতে পারবে না, প্রতিযোগিতায় থাকার সময় তাদের এমন কিছুর সম্মুখীন হতে হয়েছে। যদি সে কোনো ঝামেলায় পড়েও সেটা প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়ে আসার পর। আমি যে অনৈতিক প্রস্তাব পাইনি এমন নয়, কিন্তু সেটা সরাসরি না। আমি কাউকে সে সুযোগই দিইনি। আমার সঙ্গে এমন হয়নি শবনম ফারিয়া আমি কখনোই এ রকম কোনো ঘটনার সম্মুখীন হইনি। এ ব্যাপারগুলো আমার অ্যাটিচ্যুডের ওপর নির্ভর করে। আমি যদি কাউকে সুযোগ দিই তাহলে সে করবে না কেন! শোবিজে কাজ করতেই হবে, না করলে মারা যাব—এ ব্যাপারটা আমার মধ্যে কখনোই ছিল না। আমি শুনেছি, অনেকেই কাস্টিং কাউচের শিকার হয়েছে। কিন্তু আমার সঙ্গে এমন হয়নি। আগের জেনারেশনের অভিনেত্রীদের কাছে শুনেছি, তাঁদের সময় নাকি এ রকম হতো। আমার জেনারেশনের কারো কাছে শুনিনি। নতুন প্রজন্মের যারা আছে তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই তো আমার ভালো রিলেশন। ওদের যদি এ রকম কেউ প্রস্তাব দিত, আমি শুনতাম। এ রকম সরাসরি প্রস্তাব আগে পাইনি প্রসূন আজাদ লোকটার নাম জয়, সে নাকি নাটকের পরিচালক। ফোন করে বলল, তারা বেশ কিছু নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করবে; যার সব কটিতে আমাকে কাস্ট করা হবে। আমি বললাম কেন? বলে, ‘প্রডিউসার ডিমান্ড।’ আপনার পারিশ্রমিক যা সেটা তো দেওয়া হবেই, এর বাইরে আপনি কত নেবেন? মেজাজ গরম হয়ে গেল! বললাম, আপনার প্রডিউসারের মাকে আগে জিজ্ঞাস করেন, উনি কত করে নেন। এই পরিচালককে আমি চিনি না। কখনো কাজ করেছি কি না তাও জানি না। সে বলল, আমি নাকি দেখলেই তাকে চিনব। আসলে কি জানেন—রেগুলার যারা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে, তারা কখনোই এভাবে বলবে না। এরা প্রডিউসার ধরে কোনো রকমে কাজ করে তাদের ভাঙিয়ে খায়। প্রথম দিকে যখন শোবিজে এসেছি তখন কিন্তু এমন হয়নি। ইদানীং এটা খুব হচ্ছে। আগে অনেকেই আকারে-ইঙ্গিতে বোঝাত, এ রকম সরাসরি প্রস্তাব আগে পাইনি। এগুলোর প্রটেস্টের জন্য আমাদের মিডিয়া পরিবারের বন্ডিংটা আরো ভালো হওয়া উচিত। আমাদের পরিবারে যেটা হয়, একটা মেয়েকে কেউ খারাপ কিছু বললে তার ভাই বাবা বোনরা এগিয়ে যায়। শোবিজেও এই বন্ডিংটা বাড়ালে হয়তো এ রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না কেউ।