গানের প্রতি ভালোবাসা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। দাদি চিত্রা রক্ষিত ছিলেন উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী। বাবা পেশায় প্রকৌশলী হলেও সংগীতানুরাগী, শখের তবলিয়া। মা-ও ভালো গাইতেন। বলা চলে, সংগীতের আবহেই বড় হয়েছেন। জীবনসঙ্গী হিসেবে যাকে বেছে নিয়েছেন, তাঁর সঙ্গেও গাইতে গিয়েই পরিচয়। সংগীতচর্চায় হৈমন্তীর অন্যতম প্রেরণা স্বামী অসীম দাশ। হৈমন্তী নামটা রেখেছিলেন তাঁর চাচা। সংগীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লার ভক্ত ছিলেন তিনি। বড় হয়ে ভাতিজি যেন হৈমন্তী শুক্লার মতো শিল্পী হতে পারে, সে কারণেই এই নাম। জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। ছয় বছর বয়সে বাবার বন্ধু বাণী কুমারের কাছে গানের তালিম নেওয়া শুরু। আট বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে ওঠেন, চট্টগ্রাম মুসলিম হলের এক অনুষ্ঠানে। ছোট হলেও গেয়েছিলেন সব ‘বড়দের গান’। ‘অনেকেই বলেন, আমার কণ্ঠের নাকি খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। বরং ছোটবেলায় অনেকেই আমার গান শুনে মনে করতেন বড় কেউই গাইছে। গানের শিক্ষকরাও বলতেন, বয়সের তুলনায় অনেক পরিপক্ব ছিল আমার কণ্ঠ’—বললেন হৈমন্তী। মুসলিম হলের সেই আসরে দর্শকের অনুরোধে পর পর ২১টি গান গাইতে হয়েছিল তাঁকে। সেদিনের ঘটনায় উৎসাহ পেলেন, পুরোদমে গান চর্চায় মনোনিবেশ করলেন। ১৯৯৩ সালে নতুনকুঁড়ি প্রতিযোগিতার ‘ক’ শাখায় নজরুলসংগীতে প্রথম হন। একই বছর পান জাতীয় শিশু পুরস্কার। পরের বছরই প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘ডাকপিয়ন’। এরপর আরো ১২টি অ্যালবাম বেরিয়েছে। এর মধ্যে সলো অ্যালবাম হলো—‘মনে পড়ে তোমাকে’ [১৯৯৭], ‘প্রেমের ছোঁয়া’ [১৯৯৯], ‘অন্তরে আছো তুমি’ [২০০০], ‘স্মৃতির ক্যানভাস’ [২০০৫] ও ‘ফিরে দেখা’ [২০০৮]। সর্বশেষ ২০১০ সালে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের সঙ্গে প্রকাশ হয় দ্বৈত অ্যালবাম ‘স্বপ্ন দেখি’। এ ছাড়া বেশ কিছু মিক্সড অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্লেব্যাক করেছেন ২০টির বেশি চলচ্চিত্রে। ৯ বছর পর এই রোজার ঈদে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর একক অ্যালবাম ‘প্রথম প্রেম’। কথা ও সুর প্রিন্স মাহমুদ। সংগীতায়োজনে টিংকু আজিজুর রহমান। সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ করেছেন অ্যালবামের ‘অজস্র রাত’ গানটির ভিডিও। ভিডিওতে হৈমন্তীর সঙ্গে মডেল হয়েছেন আদর। হৈমন্তী বলেন, ‘প্রিন্স মাহমুদ আমার কাছে পরম শ্রদ্ধেয় মানুষ। তাঁর সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে কর্মশালার মতোই।’ কোরবানির ঈদে ‘দেয়াল কাহিনি’ নামে আরো একটি অ্যালবাম প্রকাশ করবেন। এটির সুর ও সংগীত করেছেন বাপ্পা মজুমদার। কথা লিখেছেন স্বপ্নীল। এই অ্যালবামের একটি গানের ভিডিও নির্মাণ করছেন। প্রকাশ করবেন ঈদের ঠিক আগে আগে। ‘এই দুটি অ্যালবাম অনেক বছর সময় নিয়েই করেছি। নানা কারণে শেষ হচ্ছিল না। এবার ঠিক করেছি প্রকাশ করবই। বাপ্পাদা আর প্রিন্স ভাইদের সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য ভীষণ গর্বের’—বললেন হৈমন্তী। এই গায়িকা শুদ্ধ সংগীতের চর্চা চালিয়ে যেতে চান আজীবন। গান দিয়ে মানুষের মনে বেঁচে থাকতে চান অনেক দিন।