ঢাকার পকেটমার দেখি অস্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছে! সাজু খাদেম, অভিনেতা শুরু থেকেই ‘অলসপুর’-এ অভিনয় করছি। নিঃসন্দেহে দর্শকপ্রিয় একটা ধারাবাহিক। এখানে আমার চরিত্রটিও অনেক জনপ্রিয়। বাংলাদেশের যেখানেই যাই এই নাটকের কথা মানুষ আমাকে বলবেই। এর কারণ দুটো। প্রথমত, এটা কমেডি নাটক, দ্বিতীয়ত, নাটকটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত হচ্ছে। এই কারণে নাটকটির প্রতিটি চরিত্র দর্শকের মুুখস্থ। নাটকে আমার চরিত্রটি একজন পকেটমারের। অনেকে আমাকে দেখলেই পকেটমার বলে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও নাটকটির জনপ্রিয়তা টের পেয়েছি। মুরব্বি গোছের একজন আমাকে দেখেই বললেন, ওরে বাবা, ঢাকার পকেটমার দেখি অস্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছে। আমি বললাম, জ্বি! তিনি বললেন, ‘আপনি তো ভাই পকেট মারেন। আপনাকে দেখলেই সাবধানে থাকতে হয়। পকেটমারা শেখাবেন নাকি?’ প্রতি পর্বেই তুলে ধরা হয় সমসাময়িক বিষয় আনিসুর রহমান মিলন, অভিনেতা ধারাবাহিকটি এত দূর আসার পেছনে অন্যতম একটা কারণ, অভিনয়শিল্পীদের ভালো লাগা। আমরা যাঁরাই অভিনয় করছি, কাজটি সবাই এনজয় করছি। নাট্যকার মুহাম্মদ-অর-রশিদকে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ দেশের আলোচিত ঘটনাগুলো তিনি প্রতি পর্বেই তুলে ধরেন। দেশে, এমনকি দেশের বাইরেও এ কারণে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। নাটকটিতে আমার দুটি চরিত্র—টার্গেট ও সনেট। যেখানেই গেছি অনেকেই কাছে এসে জানতে চেয়েছেন, ভাই আপনি সনেট ও টার্গেট না? আমি কিন্তু আপনার ‘অলসপুর’ দেখেছি। ওই দেখ, উনি অলসপুর নাটকের সেই দজ্জাল বউটা মৌসুমী হামিদ, অভিনেত্রী আমি এখানে অভিনয় করছি দজ্জাল এক বউয়ের চরিত্রে। আমার ভয়ে স্বামী সব সময় তটস্থ থাকে। গ্রামীণ পটভূমির এই নাটকটির লোকেশনে গিয়ে প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। এত সুন্দর একটা গ্রাম! মনে হয়েছিল সেখানেই থেকে যাই। একবার শুটিং শেষ করে বাসায় যাচ্ছিলাম। পথে গার্মেন্ট থেকে ফেরা নারী কর্মীদের সঙ্গে দেখা। আমাকে দেখে ওরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল, ওই দেখ, উনি অলসপুর নাটকের সেই দজ্জাল বউটা! অনেকে এখন আমাকে প্রতিবাদী নারী হিসেবেই জানে শামীমা তুষ্টি, অভিনেত্রী ‘অলসপুর’ নাটকে অভিনয় করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। অনেক দিন ধরেই অভিযোগ, আমাদের নাটক দর্শক দেখে না। ‘অলসপুর’ এই অভিযোগ ভুল প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ নাটক দেখে বলেই ‘অলসপুর’ এত দূর আসতে পেরেছে। নাটকটার গল্পটাও অনেক মজার। শুটিং করতে গিয়ে অনেক মজাও করেছি আমরা। ইউনিটের সবাই একটা পরিবারের মতো হয়ে গেছি। নাটকে অলসপুর গ্রামে আমার স্বামীকে খুঁজতে আসি। সেখানে এসে গ্রামের সবাইকে নিয়ে অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ করতে শুরু করি। অনেকে এখন আমাকে প্রতিবাদী নারী হিসেবেই জানে। যখন কোথাও শুটিংয়ে যাই, অনেকেই এসে নাটকটিতে আমার চরিত্রের কথা বলে। এই নাটকটি আমাকে আলাদা একটা পরিচিতি দিয়েছে। অলসপুর আরো অনেক দূর যাক, এটাই প্রত্যাশা।