kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ওঁরা আসছেন আইসক্রিম নিয়ে

কাল মুক্তি পাবে রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’। ছবির প্রধান চরিত্রে আছেন নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ ও কুমার উদয়। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৮ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওঁরা আসছেন আইসক্রিম নিয়ে

রেদওয়ান রনির প্রথম চলচ্চিত্র ‘চোরাবালি’ মুক্তি পায় ২০১২ সালে। সে বছর পাঁচটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয় ছবিটি। প্রায় চার বছর পর কাল মুক্তি পাবে তাঁর ‘আইসক্রিম’। এই সময়ের তরুণদের ভালোবাসার গল্প। প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিন নবাগত—তুষি, রাজ ও উদয়। দুই বছর আগে লাক্স-চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছিলেন তুষি। রেদওয়ান রনির সঙ্গে পরিচয়টা তখনই। “প্রতিযোগিতার সেরা আটে আমি। একটা নাট্যাংশে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের উপন্যাসের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। পরিচালক ছিলেন রনি ভাই। আমার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তখনই তাঁর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। যাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের নায়িকা জয়া আহসান, তিনি কিনা আমাকে নায়িকা বানাবেন! প্রতিযোগিতা শেষে তিনি যোগাযোগ করতে বললেন। ‘আইসক্রিম’-এর কাজ শুরু হলে আমাকে অডিশনে ডাকেন। তারপর তো এক বছরেরও বেশি সময় এই ইউনিটের সঙ্গেই আছি”—বললেন তুষি।

ত্রিভুজ প্রেমের এই গল্পে তুষির নায়ক দুজন—উদয় ও রাজ। দুজনই র‌্যাম্প মডেল। উদয় মডেলিং করছেন সাত বছর ধরে। বাংলাদেশের নামি প্রায় সব ব্র্যান্ডের মডেল হয়েছেন। ক্যারিয়ার গড়তে একটা সময় দিল্লিতে যান। দেশে এসে জানতে পারেন, চলচ্চিত্রের জন্য নায়ক খুঁজছেন রনি। উদয়ের এক বন্ধু রনির সহকারী। তাঁর মাধ্যমেই অডিশন দিলেন। ‘আমার একটাই স্বপ্ন—বড় পর্দায় অভিনয়। রনি ভাই সেটা পূরণ করলেন। সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি তাঁর আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে’—বললেন উদয়।

রাজও মডেলিংয়ে ছয় বছর ধরে। দেশের প্রথম সারির র‌্যাম্প মডেল। তবে অভিনয়ে একেবারেই নতুন। ‘মনে আছে, রনি ভাইয়ের নম্বর সংগ্রহ করেছিলাম ছয়-সাত বছর আগে। যখন শুনলাম তিনি নতুন চলচ্চিত্রের জন্য নায়ক খুঁজছেন, অডিশন দিয়ে দিলাম’—বললেন রাজ।

শুটিংয়ের আগে তিন মাস চলল গ্রুমিং, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এই সিনেমা ছাড়াও বিভিন্ন সিনেমার বিভিন্ন চরিত্র করে দেখাতে বলতেন রনি। কিভাবে আরো ভালো করা যায়, সেটা দেখিয়ে দিতেন অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীরা। তুষি বলেন, ‘শুরুতে বিরক্ত লাগত। একটা সময় মনে হলো, এটা শুধু অভিনয় প্রশিক্ষণই নয়, এটা আমাদের ধৈর্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোরও একটা কৌশল। তার ফলও পেয়েছি। শুটিংয়ে আমরা একটা পরিবারের মতো একসঙ্গে ছিলাম। তবে আমার দুই সহশিল্পী আমার পেছনে লেগে থাকতেন সারাক্ষণ।’

তুষির কথার প্রতিবাদ করলেন রাজ, ‘আমরা লেগে থাকি! উনি বুঝি কম? সাজতে ওনার দুই ঘণ্টা সময় লাগে। কোনো একটা অনুষ্ঠানে প্রমোশনের জন্য যাব, ওনার বাসায় গিয়ে বসে থাকি আমরা। আর উনি দুই ঘণ্টা পর সেজেগুজে তারপর বের হন। এ জন্যই তো ঝগড়াটা বেশি হয়।’

দুজনের ঝগড়া থামানোর উদ্যোগ নিলেন উদয়। দুজনকেই চুপ থাকার পরামর্শ দিয়ে বললেন, ‘এই এক বছরে আমাদের তিনজনের মধ্যে দারুণ একটা সম্পর্ক হয়েছে, এটা বলে বোঝানো যাবে না।’ ছবির প্রচারণায় তিনজনই হাজির হচ্ছেন রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা অফিসে। যাচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবখানেই চলে তিনজনের এই খুনসুটি।

শুটিংয়ের একটা ঘটনা শোনালেন রাজ, ‘সাভারে গিয়েছিলাম শুটিং করতে। লোকেশনে গিয়ে দেখি সাতটা মৌচাক। এর একটাও যদি ভেঙে যায় বা কেউ ঢিল ছোড়ে, কী যে অবস্থা হবে! শুটিং করার সাহস হয়নি কারো। পরে লোক ডেকে চাকগুলো ভাঙা হলো। এ জন্য দুই দিন শুটিং বন্ধ ছিল।’

আরেকটি দুর্ঘটনার গল্প শোনালেন উদয়, ‘সূর্যাস্তের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা হবে। দুপুর থেকে ক্যামেরা সাজিয়ে বসে আছেন পরিচালক। সূর্যাস্তের ঠিক আগে আগে লোকেশনের পাশের বাড়িতে আগুন ধরে গেল! সেই বাড়ির লোকজন আবার আমাদের শুটিংয়ে সহযোগিতা করছিল। এ সময় সূর্যাস্তের দৃশ্য ধারণ করব, নাকি আগুন নেভাতে যাব! আগুনে অনেক ক্ষতি হয়েছিল বাড়ির মালিকের।’

তুষি শোনালেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা, ‘প্রথম শুটিংয়ের আগের দিন স্থানীয় একটা পার্লারে সেজেছিলাম। শুটিংয়ের দিন সকালে উঠে দেখি, সারা মুখ ব্রনে ভরে গেছে। একটু পর শুটিং, অথচ আমার এই অবস্থা! আর ছবির শেষ শুটিংয়ের দিনে খুব মনখারাপ হয়েছিল। সেদিন অভিনয়ও করেছি ইমোশনাল দৃশ্যে। এত দিনের একটা জার্নি শেষ হতে যাচ্ছে, মনখারাপ তো হবেই।’

‘আইসক্রিম’ নিয়ে কতটা আশাবাদী? তিনজনের কণ্ঠে প্রায় একই কথা, ‘একটা সময় খুব উত্তেজিত ছিলাম। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ভয় হচ্ছে। পরক্ষণেই মনে হয়, ভয়ের কিছু নেই। পরিচালক, গল্প, নির্মাণশৈলী— সবই ভালো; শুধু শুধু ভয় পাব কেন?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা