'স্যার তো কথা দিয়েছিলেন আমাকে নিয়ে টানা পাঁচ বছর কাজ করবেন। আমাকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন। কিন্তু...' কথা শেষ করতে পারলেন না আলিশা প্রধান। কথা হচ্ছিল গত সপ্তাহে, চাষী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে। 'অন্তরঙ্গ'র গল্পে দ্বৈত চরিত্রে আলিশা। একজন পুরুষশাসিত সমাজে 'খাঁচায় বন্দি' আরেকজন স্বাধীনচেতা নারী। ছবিতে তাঁর নায়ক ইমন। আলিশা বলেন, 'একটি দৃশ্যের পর আরেকটি দৃশ্য এত যৌক্তিকভাবে এগিয়েছে, কেউ ছবির শেষ দেখার আগে বুঝতেই পারবে না যে কী হতে যাচ্ছে।' বিজ্ঞাপনচিত্র ও টিভি নাটকে বেশ কিছু কাজ করলেও সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা আগে থেকেই। সিনেমার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অনেক দিন ধরেই। শিখেছেন নাচ, কুংফু-কারাতেও। 'একসময় বাংলায় ঠিকমতো কথা বলতে পারতাম না। অনেকে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। পরে ছয় মাস তিনজন শিক্ষকের কাছে বাংলা বলা শিখেছি।' শুধু বাংলা বলা নয় 'বাংলাদেশের ছবি'তে অভিনয়ের জন্য গত তিন বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রায় সব ছবিই দেখেছেন। কারণ তাঁকে অনেক শুনতে হয়েছে-'বাংলা সিনেমা করতে এসেছ, বাংলা বলতে পারো না। বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে জানো না। জেনে তারপর এসো।' জানালেন ছবিটির জন্য আট কেজি ওজন বাড়িয়েছিলেন। একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেখে তাঁকে সিনেমায় কাস্ট করেছিলেন চাষী। চাষীকে নিয়ে অনেক স্মৃতি আলিশার। 'অন্তরঙ্গ' ছবির শুটিং শুরুর এক সপ্তাহ পরের ঘটনা। আলিশার ভাষ্যে, "কঠিন বাংলায় কিছু সংলাপ। আমি ঠিকমতো বলতে পারছিলাম না। ৩০ বার টেকে নেওয়ার পরও না পারায় চাষী স্যার রেগে বললেন-'তোমার মতো বড়লোকের মেয়েকে নায়িকা বানানোই উচিত হয়নি। রাস্তা থেকে কাউকে তুলে আনলে ভালো হতো।' শুটিং পেকআপ। পরদিন সকালে স্যার আমার রুমে এসে স্যরি বললেন। তিনি আমাকে দৃশ্য সম্পর্কিত একটা গল্প ইংরেজিতে শোনালেন। পরে শুটিংয়ে প্রথমবারে না পারলেও দ্বিতীয়বারে টেকটি ওকে করলাম। এ ঘটনায় চাষী স্যার এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে পরের ছবি 'কোথায় আছো কেমন আছো'তেও আমাকে নায়িকা করার ঘোষণা দিলেন।" চাষীর শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার আগে ছবির প্রায় ৯৫ শতাংশ শুটিং শেষ হয়। পরে কিভাবে শেষ হলো? 'উনার সহকারী আর আমরা মিলে শেষ করেছি। আমার বোন ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করেছে ভারতে। এডিটিং করেছে সে-ই।' নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা কার্নিভাল মোশন পিকচার্স থেকে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে চারটি ছবির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আপাতত 'প্রেমের কাজল'টাই করছেন। এরপর সোহানুর রহমান সোহানের 'তুমি নেই কিছু নেই' প্রযোজনা করবেন কলকাতার সঙ্গে যৌথভাবে। অবহেলিত নারীদের নিয়ে অনেক পরিকল্পনা তাঁর। পাঁচ বছর পর অভিনয় ছেড়ে দেবেন। তা না হলে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।