kalerkantho

পৃষ্ঠপোষকতায় বসুন্ধরা গ্রুপ

ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ২১ অক্টোবর

আজিজুল পারভেজ   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড ২১ অক্টোবর

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের সঙ্গে আলমগীর হোসাইন, সারাহ বেগম কবরী ও ইমদাদুল হক মিলন

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথমবারের মতো আয়োজন হচ্ছে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান। আগামী ২১ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার নবরাত্রি হলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এতে দুই দেশের ২০১৮ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রকে পপুলার, টেকনিক্যাল ও রিজিওনাল—এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট ২৪টি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষে বসবে দুই দেশের চলচ্চিত্র শিল্পী, প্রযোজক, কলাকুশলীদের মিলনমেলা। ভারত থেকে যোগ দেবেন ১২৫ জনের মতো শিল্পী। ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে হোটেল র‌্যাডিসনের বলরুমে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, দুই দেশের চলচ্চিত্রের পুরস্কারের জন্য আলাদা দুটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ দেশের চলচ্চিত্রের পুরস্কার নির্ধারণ করবেন। বাংলাদেশের জুরি বোর্ডে রয়েছেন চিত্রনায়ক আলমগীর হোসাইন, নায়িকা সারাহ বেগম কবরী, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু ও পরিচালক হাসিবুর রেজা কল্লোল। ভারতের জুরি বোর্ডে রয়েছেন পরিচালক গৌতম ঘোষ, নির্মাতা-অভিনেতা ব্রাত্য বসু, চলচ্চিত্র সমালোচক গৌতম ভট্টাচার্য, প্রযোজক অঞ্জন বোস ও অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী। পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশের ৪১টি এবং ভারতের কলকাতার ১৬টি সিনেমা জমা পড়েছে। এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হচ্ছে এটিএন বাংলা ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ।

সংবাদ সম্মেলনে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ফিরদৌসুল হাসান, নায়ক আলমগীর, নায়িকা কবরী, ইমদাদুল হক মিলন, খোরশেদ আলম খসরু, হাসিবুর রেজা কল্লোল, বর্তমান প্রজন্মের নায়ক সাইমন ও বাপ্পী বক্তব্য দেন। এই আয়োজন দুই দেশের বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দুই দেশের বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িতদের সম্মাননা জানানোর জন্য একটি বিশাল আয়োজন হচ্ছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শিল্পপরিবার বসুন্ধরা গ্রুপ। এটি একটি স্মরণীয় আয়োজন হবে।

কবরী বলেন, দুই দেশের শিল্পীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে দুই দেশের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে একটি সুবাতাস বইবে। তিনি বলেন, আমরা যখন চলচ্চিত্র করি তখন এক ঝাঁক ব্যবসায়ী এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। এখন কোথা থেকে কোন ব্যবসায়ী আসে, টাকা নিয়ে চলে যায়, ফিল্পের উন্নয়নে কোনো কাজে আসে না। তিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে ধন্যবাদ জানান। আলমগীর বলেন, ১৯৭২ সালে যখন চলচ্চিত্রে যুক্ত হন তখন দেশে সিনেমা হল ছিল ৩৫০টি, আশির দশকে তা ১২০০তে পৌঁছাল। কিন্তু এখন ১৫০টিতে এসে ঠেকেছে। আগে যেখানে বছরে শতাধিক চলচ্চিত্র মুক্তি পেত, সেখানে গত বছর মুক্তি পেয়েছে মাত্র ৩৪টি। ভারতেও একই অবস্থা, যেখানে ১২ হাজার হল ছিল সেখানে এখন আছে আট হাজার। কিন্তু চীনে উল্টো চিত্র। সেখানে আগে ছয় হাজার হল থাকলেও এখন আছে ৩০ হাজার। তিনি বলেন, আগে শিল্পের সঙ্গে বাণিজ্য যোগ করে ছবি হতো, এখন শুধুই বাণিজ্য লক্ষ্য করে ছবি হচ্ছে। এটা বদলাতে হবে। চলচ্চিত্রে এখন অন্ধকার সময় চলছে, ভোর আসবে।

মন্তব্য