ঈদের ছুটিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত নোয়াখালীর মুছাপুর ক্লোজার। ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে সকাল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে এলাকাটি। স্থানীয়রা বলছে, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে এখানে প্রচুর দর্শনার্থী আসে। ঈদের ছুটিতে ভিড় যেন উপচে পড়ছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে এই মুছাপুর ক্লোজার ও ছোট ফেনী নদীর অবস্থান। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের কাছে পছন্দের পর্যটন গন্তব্য হয়ে ওঠা স্থানটি পরিচিতি পেয়েছে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে। সবুজ অরণ্য আর সমুদ্রের মাখামাখিতে এক নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে দর্শনার্থীরা। নীল পানির নৈসর্গিক দৃশ্য আর তটরেখায় আছড়ে পড়ে ছোট বড় ঢেউ। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং তিন কিলোমিটার প্রস্থের সমুদ্রসৈকতের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। নৌকা ভ্রমণের অসাধারণ অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। বাড়তি আনন্দ দেবে অরণ্যের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানো। প্রতিদিনই মাইক্রো, সিএনজি, অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যানসহ মোটরবাইকে হাজারো মানুষ বন্ধুবান্ধবসহ বা সপরিবারে এখানে ঘুরতে আসে। কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই যেন ভ্রমণ আনন্দ উপভোগ করা যায়। এঁকে-বেঁকে যাওয়া ছোট ফেনী নদীর তীরে মাছ ধরার নৌকার সারি, ঘুরে বেড়ানো গরু-মহিষের দল, ভেড়ার পাল, পাখির কলকাকলি এবং দীর্ঘ পথযাত্রায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের অক্লান্ত ছায়া অন্য রকম এক অনুভূতি এনে দেবে। তবে যাতায়াতের কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। সমুদ্রসৈকতে আসার পথে কয়েক কিলোমিটার রাস্তাই ভাঙাচোড়া, যা দর্শনার্থীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় দুর্ঘটনার ভয়ও রয়েছে। স্পটে গাড়ি পার্কিংয়ের ভালো ব্যবস্থা নেই। ফলে যত্রতত্র গাড়ি-বাইক রাখা হচ্ছে, যা হাঁটাচলায় সমস্যা তৈরি করে। সিএনজিচালক রফিক মিয়া বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকেই এ পথে যাত্রী নিয়ে আসি। এ রাস্তাটি কয়েকবারই সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু দ্রুত ভেঙে যায়। আমার মতে এটি আরো প্রশস্ত এবং টেকসই করে মেরামত করা প্রয়োজন।’ ঈদের তৃতীয় দিন মুছাপুর ক্লোজারে ঘুরতে আসা প্রবাসী শিক্ষার্থী সালসাবিল লগ্ন বলেন, ‘আমার বান্ধবীদের মুখে শুনেই জায়গাটিতে ঘুরতে এলাম, ভালো লাগছে। তবে সূর্যাস্ত দেখার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সন্ধ্যা হওয়ার আগেই চলে যেতে হচ্ছে। কারণ এখানে প্রচুর লোক সমাগম, তার ওপর বাইকে ও পিকআপে অনেক ছেলেরা আসছে, যাদের অনেকের মধ্যেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ দেখা যাচ্ছে। তাই নিরাপত্তাগত উদ্বেগ থেকেই সন্ধ্যার আগে চলে যাচ্ছি।’ ঢাকায় একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাজিব আরেফিন বলেন, ‘পর্যটন বলতে যা বোঝায় জায়গাটির অবকাঠামোগত এখনো ঘাটতি রয়েছে, তবে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে সড়ক প্রশস্তকরণ, অবকাঠামোগত আরো উন্নয়ন ও নিরাপত্তাগত দিক যদি দেখা হয় তবে এটি শুধু নোয়াখালীর জন্য বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্পট হতে পারে, যা এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অনেক বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে।’ মুছাপুর ক্লোজারে সমুদ্র স্নান উপভোগ করার পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানো যায় বাগানে। এই ফরেস্ট বাগানে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া, পিটালী, খেজুর, লতাবল, গেওয়া, শনবলই, বাবুলনাটাই, আকাশমনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। এখানে রয়েছে ঘুঘুসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির পাখির অভয়স্থল।