kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

যশোর

৩০ কোটি টাকার সোনা নিয়ে হেলাফেলা

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩০ কোটি টাকার সোনা নিয়ে হেলাফেলা

ফাইল ছবি

ভারতে পাচারের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জব্দ করা ৩০ কেজি সোনা আর ১৫ কোটি টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি বেনাপোল কাস্টম কর্তৃপক্ষ। জরাজীর্ণ একটি ভবনে ও প্রহরীবিহীন একটি কক্ষের সিন্দুকে এসব রাখা হয়েছিল। ৮ থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে কোনো কিছু না ভেঙে সিন্দুক খুলে ১৯ কেজি ৩৮৫ গ্রাম সোনা নিয়ে পালিয়েছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র। এক সপ্তাহ পার হলেও চাঞ্চল্যকর এই সোনা চুরির কোনো কিনারা হয়নি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোনা চুরির এই মামলাটি তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা ভারতে পাচার হচ্ছে। বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থা পাচারের সময় সোনা উদ্ধার করে তা কাস্টম কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রাখে। এভাবেই ৩০ কেজি সোনা আর ১৫ কোটি টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা কাস্টম কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রাখা হয়েছিল। অজানা কারণে কর্তৃপক্ষ তা নতুন ভবনে সুরক্ষিত না রেখে জরাজীর্ণ ভবনে দোতলার একটি কক্ষে রেখেছিল। কিন্তু সোনা যে সিন্দুকে ছিল তার দায়িত্বে নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। আবার কক্ষটির পাহারার দায়িত্বেও কেউ ছিলেন না।

পুলিশ বলছে, সব কিছু রহস্যজনক। কেননা ৮ থেকে ১০ নভেম্বর ছুটির তিন দিন সিসিটিভি বন্ধ ছিল। সিসিটিভির তার ছেঁড়া পাওয়া গেছে। সিন্দুকের দুটি চাবি থাকলেও একটি চাবির হদিস মেলেনি। চোরেরা ৩০ কেজি সোনা থাকলেও নিয়ে গেছে ১৯ কেজি ৩৮৫ গ্রাম। রেখে গেছে ১৫ কোটি টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা। ১১ নভেম্বর সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। সোনা চুরি যাওয়ার ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস পাড়াজুড়ে তেলপাড় সৃষ্টি হয়।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও সিপাহি পারভেজ খন্দকারকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের কয়েকজন সহকারীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সোনা চুরি যাওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য মেলেনি। কাস্টম কর্তৃপক্ষ যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এ ব্যাপারে যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিন্দুকটি নতুন ভবনে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন ছিল। নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা সিন্দুকের দায়িত্বে ছিলেন না। সিসিটিভি বন্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোনা চুরির কোনো কিনারা হয়নি। এটি সংঘবদ্ধ একটি চক্রের কাজ। মনে হয় এই চুরির পেছনে কয়েক মাসের পরিকল্পনা ছিল। জরাজীর্ণ ভবনের কক্ষে প্রহরীবিহীন সিন্দুক রাখা রহস্যজনক। কর্তৃপক্ষের বিপুল পরিমাণ জব্দ করা সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ব্যাপারে আরো গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা