kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

[ সুপ্রভাত বাংলাদেশ ]

বিয়ের আগেই কেন ডিভোর্সের চিন্তা করতে হবে?

এ পর্যন্ত ৬৫৮ জন প্রসূতিকে স্বাভাবিক প্রসবে সাহায্য করেছেন। রক্ত জোগাড় করে দিয়েছেন প্রায় আট হাজার মানুষকে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালের মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সানজানা শিরিন। কয়েক দিন আগে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি

পিন্টু রঞ্জন অর্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিয়ের আগেই কেন ডিভোর্সের চিন্তা করতে হবে?

বিয়ের পর সানজানা-ইসমাইল। ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মেয়ে সানজানা। ২০১৭ সাল থেকে কাজ করছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে। আশপাশের ১৭টি চা-বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা দেয় হাসপাতালটি। রোগীর সেবা করাই সানজানার কাজ, তবে পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও কাঁধে তুলে নিয়েছেন কিছু বাড়তি দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

প্রসূতি মাকে সাহায্য করা, জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে রক্ত জোগাড় করে দেওয়াসহ যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ান। ‘পুঁচকো নম্বর ৬৫৮, ছেলে। ওজন তিন কেজি। মা ও বাচ্চা ভালো আছে। ’ ফেসবুকে এভাবেই বিবরণ লিখে রাখেন সানজানা। এই নম্বরগুলো হলো অস্ত্রোপচার ছাড়া স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া নবজাতকের। আর এই স্বাভাবিক প্রসবে মাকে সহায়তা করেন সানজানা। তিনি যে হাসপাতালে কাজ করেন সেখানে স্বাভাবিক প্রসবে কোনো টাকা লাগে না। তাই আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এ পর্যন্ত সানজানার হাতে জন্ম হয়েছে ৬৫৮টি শিশুর। প্রতিটি শিশু কান্নার মাধ্যমে পৃথিবীতে তার উপস্থিতি জানান দেয়। আর কাপড়ের পুঁটলিতে নিয়ে সানজানা হাসিমুখে ছবি তুলে পোস্ট দেন। জরুরি রক্তের প্রয়োজনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমাধান মেলে। কারো রক্তের প্রয়োজন পড়লে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তাঁর আহ্বানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাড়া দেন। এখন পর্যন্ত প্রায় আট হাজার মানুষকে রক্ত জোগাড় করে দিয়েছেন। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। ‘তুই আমার ভগমান মা’ শিরোনামে সানজানার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল অবসরে পাতায়।

 

কাবিন মাত্র পাঁচ হাজার টাকা

সেই সানজানা আবারও আলোচনায় এসেছেন বিয়ে করে। বর বাগেরহাটের ইসমাইল শিকদার। দেনমোহর মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। ২০২১ সালে ইসমাইলের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সানজানার। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হয় ৭ জানুয়ারি। সানজানা বললেন, ‘বেশি টাকা দেনমোহর নিয়ে ডিভোর্স হলে বসে বসে খাওয়ার মতো দুর্ভাগা হতে চাই না। তাই ওকে (ইসমাইল) বলেছি, আমাদের বিয়ের কাবিন হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। ’ ‘কিন্তু বিয়ের দিন বাদ সাধলেন মুরব্বিরা। পাঁচ হাজার টাকা দেনমোহরের কথা শুনে শোরগোল শুরু করে দিলেন তাঁরা। ’ এমনকি কয়েকজন তো বলেই বসলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনা করিসনি। পরে হায় হায় করবি। ’ যোগ করেন ইসমাইল। এক পর্যায়ে সানজানা কাজিকে ডেকে পাঠালেন। বুঝিয়ে বললেন, ‘তথাকথিত সামাজিক রীতির বাইরে বের হতে চাই। আমরা কম কাবিনেই বিয়ে করব। ’ কাজি বললেন, ‘তোমরা রাজি হলে আমার সমস্যা নাই। ’ শুধু তা-ই নয়, নিজের জমানো ৭০ হাজার টাকায় বিয়ের পুরো আয়োজন সম্পন্ন করেছেন।

বিয়েতে তাঁর অতিথি ছিল মাদরাসার ছাত্র আর আশপাশের নিম্নবিত্ত পরিবারের বাচ্চারা, যারা কোরবানি ঈদ ছাড়া গরুর মাংস চোখে দেখে না। এ রকম ৩০০ শিশুকে পেটপুরে খাইয়েছেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো গয়নাও নেননি। বললেন, ‘পড়াশোনা শেষে চাকরি করার সময় ঠিক করলাম, যদি বিয়ে করি নিজের টাকায় করব। বাপের কাছ থেকে এক টাকাও নেব না। ’

 

কন্যা মানেই অভিশাপ নয়

সানজানা বলেন, আমরা ছয় বোন। আশপাশের মানুষ বলত, ‘বাপ রে, সৈয়দ আলীর ছয়টা পুরি (মেয়ে)। এক লাখ করে দিলেও ছয় লাখ টাকা লাগব। ইতা খালি খাইবার লাগি আইছে দুইন্নাত। কেমনে বিয়া দিব ইতারে। ’

পাঁচ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে করে আমরা সমাজকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছি, কন্যা মানেই অভিশাপ নয়। অনেকে বলেছিল, ‘এত অল্প টাকা কাবিন নিচ্ছিস। ডিভোর্স হলে কী করবি?’ কিন্তু বিয়ের আগেই কেন ডিভোর্সের চিন্তা করতে হবে? 



সাতদিনের সেরা