প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় গত ৫৫ বছরে আমরা চরমতম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশকে রীতিমতো হত্যা করে ফেলেছি। এই হত্যার উৎসবে বিচার বিভাগ থেকে রাজনীতিবিদ সবাই সংযুক্ত ছিলেন। পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন আমাদের অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে প্রতিনিয়ত ধাবিত করছে।’
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে ইটভাটার সংখ্যা সাত হাজার ৮৯৭। এর মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই পাঁচ হাজার ৯২টির।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, তবে এ দেশে কতটি নদী আছে তা জানে না কেউই। বর্তমানে এক হিসাবে দেশে নদীর সংখ্যা দুই হাজার ৪১০। তবে সরকারি হিসাবে ৪০৫টি, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই সংখ্যা এক হাজার ৪১৫ বললেও তা গেজেটভুক্ত হয়নি। ৫৫ বছর লেগে গেল শুধু নদীর সংজ্ঞা নির্ধারণে।’
লেখক ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘নদী নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের যে সনদটি আইনে পরিণত করা হয়েছে, তাতে আমরা অনুস্বাক্ষর না করলে পাশের দেশের সঙ্গে নদী আলোচনায় পিছিয়ে পড়ব। আমাদের পরিবেশ আইনটিও অসম্পূর্ণ। একে যুগোপযোগী করতে হবে।’
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘বায়ু ও শব্দদূষণ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। ফলে আমাদের গড় আয়ু কমছে। যে মাত্রায় শব্দদূষণ হচ্ছে তাতে নিকট ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের একটা বড় অংশ শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক অধ্যাপক ছায়েদুল হক বলেন, ‘বায়ু ও শব্দদূষণের ফলে দেশের শতভাগ মানুষ এখন পালস ও প্রেসারের রোগী। এ দুই দূষণের ফলে স্ট্রোক, হার্ট, ঘুমজনিত রোগ এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের রোগী দিন দিন বাড়ছে।’
সংগঠনটির মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ রানার সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন দেলোয়ার হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক সবুর আহমেদ, তাহমিনা রহমান ও অধ্যাপক আব্দুল জলিল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরিফুল ইসলাম।