kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অমিত হাবিব স্মরণে ‘অনির্ণীত অমিতদা’

স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অমিত হাবিব স্মরণে ‘অনির্ণীত অমিতদা’

বরেণ্য সাংবাদিক অমিত হাবিব স্মরণে গতকাল রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘অনির্ণীত অমিতদা’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাংবাদিক হিসেবে অমিত হাবিব কোনো একটি দলীয় মতাদর্শে লীন হয়ে যাননি। শত প্রলোভন, সুযোগ ও আমন্ত্রণের মধ্যেও সাংবাদিকতার মর্যাদা আজীবন ধরে রেখেছিলেন। তিনি অনেকটা নিভৃত ও অন্তর্মুখী জীবন যাপন করে গেছেন। কোনো কিছুতেই ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব রাখতেন না।

বিজ্ঞাপন

সবার সঙ্গে তাঁর ছিল স্বার্থশূন্য সম্পর্ক। অমিত হাবিব ছিলেন একজন আধুনিক মানুষ এবং সংবাদপত্রের নেপথ্যজন।

বরেণ্য সাংবাদিক ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক অমিত হাবিব স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে এভাবেই স্মরণ করেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশনসের আয়োজনে ‘অনির্ণীত অমিতদা’ শিরোনামে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অমিত হাবিবকে কথামালায় স্মরণ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ইতিহাসবিদ প্রফেসর সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহা, কালের কণ্ঠের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমীন, সাংবাদিক মশিউল আলম, হেড অব স্পোর্টস (অনলাইন) উৎপল শুভ্র, সুমন কায়সার, দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন, সাংবাদিক মাহবুব আজিজ, মাহবুব মোর্শেদসহ সংবাদকর্মীরা। অমিত হাবিবের পারিবারিক জীবন নিয়ে বলেন তাঁর ছোট ভাই ফয়জুল হাবিব রাঙা।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সাংবাদিক উৎপল শুভ্র ও মুন্নী সাহা ছিলেন অমিত হাবিবের সহকর্মী ও বন্ধু। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জানালেন, আজ সবাই জড়ো হয়েছেন অমিত হাবিবের জীবনকে উদযাপন করতে। অমিত হাবিবের অনির্ণীত জীবনকে উন্মোচন করতে। অনুষ্ঠানে ‘আজকের কাগজ-ভোরের কাগজ’ প্রজন্মের সাংবাদিকরাসহ বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে কাজ করা সাংবাদিকরা তাঁকে নিয়ে তাঁদের স্মৃতি তুলে ধরেন।

শুরুতে আয়োজক আবিদ এ আজাদ বলেন, ‘অমিত দার সঙ্গে আড্ডায় অনেক সময় কেটেছে। তাঁর হঠাৎ চলে যাওয়াটা এখনো মেনে নিতে পারিনি। তিনি সবার খোঁজখবর রাখতেন খুব সযতনে। সাংবাদিক হিসেবে তাঁর সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা অতুলনীয়। এ রকম একজন সাংবাদিককে আমরা সব সময় স্মরণ করতে চাই। ’

অমিত হাবিবের ছোট ভাই ফয়জুল হাবিব রাঙা বলেন, ‘ভাই ছিলেন আমাদের পরিবারের অভিভাবক। বাবা ভাইকে ডাকতেন খোকা। এই খোকাই একসময় আমার বাবার পিতা হয়ে উঠেছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি হলেন আমাদের অভিভাবক, তাও পিতার মতো। আবার আমার দুই সন্তানকেও তিনি পিতৃস্নেহ দিয়ে গেছেন। তাই তিনি আমাদের পরিবারের তিন প্রজন্মের পিতা। ’

প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অমিত হাবিব স্বাধীনতার কথা বলতে চেয়েছেন। স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করতেন। তিনি অমিত সম্ভাবনার মানুষ ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অমিত হাবিবকে আমরা স্মরণ করব তাঁর কাজে। ’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘অমিত হাবিবের সঙ্গে আমার পরিচয় তাঁর ভোরের কাগজে থাকার সময়। অমিত বেঁচে থাকবেন। কারণ অমিত অনেককে তৈরি করে গেছেন। তাঁর প্রতি সুবিচার হবে তাঁর আদর্শ বাঁচিয়ে রেখে তাঁর মতো কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। ’

সুমনা শারমীন বলেন, ‘১৯৯১ সালে আমরা একসঙ্গে কাজ শুরু করি। পুলক গুপ্ত, অমিত হাবিবদের মতো সাংবাদিকদের কাছ থেকেই এত কিছু শিখেছি। আমাদের তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অনেক। অমিত হাবিব ছিলেন টোটাল নিউজম্যান। ’

কালের কণ্ঠের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘সংবাদকর্মীদের কাছে অমিত হাবিব ছিলেন একজন প্রকাশ্য মানুষ। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করে গেছেন। দৈনিক কালের কণ্ঠও তাঁর হাতে তৈরি। আমরা চাইব সাংবাদিকতা নিয়ে তাঁর প্রত্যাশাকে সম্মান দিতে। ’

স্মরণ অনুষ্ঠান ‘অনির্ণীত অমিতদা’ উপলক্ষে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।



সাতদিনের সেরা