kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ত্রিশালে দুজন গ্রেপ্তার নিয়ে ডিবি

প্রতারণার টাকায় একাধিক পাঁচতলা বাড়ি, খামার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকসহ আপনার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এভাবে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে ফোন দেওয়া হয় এক মাকে। ছেড়ে দিতে তাৎক্ষণিক সমঝোতার মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চাওয়া হয় টাকা। পেশায় চিকিৎসক মা ছেলেকে বাঁচাতে কোনো যাচাই না করেই পুলিশ পরিচয় দেওয়া ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার করে মোট ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। শুধু এই মা নন—এভাবেই প্রতারিত হয়েছেন ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ প্রকৌশলী মা-বাবা।

বিজ্ঞাপন

টার্গেট ব্যক্তি ছেলে হলে মাদকের কথা আর মেয়ে হলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আটক করার কথা বলে অভিভাবকের কাছে দাবি করা হতো টাকা। অভিভাবকরা টাকা পাঠানোর পর প্রতারকরা বলতেন, ঘটনাটি সাংবাদিক ভিডিও করেছে। পরে ম্যানেজ করার কথা বলে আরো টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি।   এমনই একটি প্রতারকচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন আলামিন ওরফে আমিন ওরফে বিন ইয়ামিন (২৭) ও তাঁর সহযোগী শরিফুল ইসলাম (২১)।

গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে দুজনকে চার দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। গতকাল শুক্রবার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। রিমান্ডে তাঁরা প্রতারণার নানা তথ্য দিচ্ছে।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি, সিসি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর, নগদ ২০ হাজার টাকা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা করতেন বলে পুলিশ জানায়, সপ্তাহের ছয় দিনই চক্রটি ‘অভিযান’ চালাত। প্রতিদিন তারা হাতিয়ে নিত দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। আলামিনের বিকাশ ও নগদ নম্বরে গত ১৪ মাসে এক কোটি ১৬ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা। প্রতারণার টাকায় আলামিন গ্রামে দুটি পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি বানিয়েছেন। ১০ বিঘা জমিতে করেছেন ফিশারিজ। দুজনের নামে ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় রয়েছে এক ডজন মামলা।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতারকচক্রের এই দুই সদস্যকে খুঁজছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। ময়মনসিংহের ত্রিশালে আলামিন তাঁর নির্মাণাধীন পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের আশপাশের খেজুর, নারকেল ও কাঁঠাল গাছে লাগিয়ে রেখেছিলেন ১৭টি সিসিটিভি। বাসা থেকে সেগুলো মনিটর করা হতো।

রাস্তায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাউকে দেখলেই বিকল্প পথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতেন আলামিন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত এপ্রিল থেকে চারবার অভিযান চালিয়েছে ত্রিশালের ওই গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বারবারই পালিয়ে যান তাঁরা।



সাতদিনের সেরা