kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

৭৮ পরিবার আকাশের নিচে পাঁচ দিন

নীলফামারী ও রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৭৮ পরিবার আকাশের নিচে পাঁচ দিন

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার হারইল গ্রামে ঝড়ে ঘরের চালা উড়ে গেছে। গতকাল উন্মুক্ত স্থানে রান্না করছেন গৃহবধূ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ওপর দিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। এতে গ্রামগুলোর ১৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৭৮টি পরিবারের সদস্যরা এখনো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের কামতা, হারইল হিন্দুপাড়া ও বিশা গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ওই ঘূর্ণিঝড়।

বিজ্ঞাপন

হারাইল গ্রামের ভারত চন্দ্রের স্ত্রী আতশি রানী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ভেঙে আমার ঘরের ওপর পড়ে। অল্পের জন্য আমরা প্রাণে রক্ষা পাই। আমার পুরো ঘরবাড়ি এখন লণ্ডভণ্ড। আমরা গরিব মানুষ। ঘরবাড়ি এখনো মেরামত করতে পারিনি। তাই খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে। ’ একই গ্রামের রাখাল চন্দ্রের ছেলে নিমাই চন্দ্র বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। ঘর মেরামত করার মতো সামর্থ্য আমাদের নাই। সরকারি সহযোগিতা পাইলে আগের অবস্থায় ফিরতে পারতাম। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছি। পুরো তালিকা হাতে পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা নেব। ’

এদিকে ঝড়ে নীলফামারী জেলা সদরে এক বাড়ির ওপর একটি সরকারি গাছ ভেঙে পড়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটির মুক্তি মেলেনি আট দিনেও। গাছটি অপসারণ না হওয়ায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

গত ১৭ মে উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কিষামত গোড়গ্রামে নজরুল ইসলামের বাড়ির ওপর ঝড়ে ওই আমগাছটি ভেঙে পড়ে। সরকারি গাছ হওয়ায় পরিবারটি বা এলাকাবাসী তা অপসারণ করতে পারছে না। ফলে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে গাছচাপায় ভেঙে পড়া ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে বাস করতে হচ্ছে শিশুসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে।

এ নিয়ে গত সোমবার কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌখিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এতে কোনো কাজ না হওয়ায় গত ২২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়। এর পরও গাছটি সরানো হয়নি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে গাছটি অপসারণ করতে বলেছি। তিনি এখনো সেটি না করার কারণ জানি না। গাছটি অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ’



সাতদিনের সেরা