kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

মতবিনিময়সভা

ক্ষমতায় গেলে নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করবে বিএনপি

‘বিএনপি অনেক অঙ্গীকার করেছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আশ্বস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি’

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘গণতন্ত্র হত্যায় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ আইন, প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় বক্তারা বলেছেন, মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধাগুলো দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মত প্রকাশে আওয়ামী লীগ সরকারের মতো যেন বাধা তৈরি করা না হয়। এর জবাবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল করবে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড সব গণমাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির উদ্যোগে এই মতবিনিময়সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার ঘোষণা, আমরা সরকার গঠন করলে মুক্ত গণমাধ্যমের অন্তরায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল করব। গণমাধ্যমে প্রকাশিত যেকোনো বিষয় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সংস্থা প্রেস কাউন্সিলে ফায়সালা না করে কোনোভাবেই যেন আদালতে মামলা করতে না পারেন, সেটা নিশ্চিত করা হবে। ’

গণমাধ্যমকে স্বাবলম্বী করার জন্য বিএনপি বিজ্ঞাপনের সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুনির্দিষ্টসংখ্যক প্রকাশনা, প্রচারণা কিংবা টিআরপির ভিত্তিতে গণমাধ্যমগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। দেশের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে দেশীয় গণমাধ্যমগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়, সেটি নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মূল প্রবন্ধে ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’ প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে গত এক বছরে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬২তম হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, এর পেছনে নিবর্তনমূলক আইন ও অধ্যাদেশগুলো দায়ী।

সভায় প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, বিএনপি অনেক অঙ্গীকার করেছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আশ্বস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারই সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমবান্ধব ছিল না, এখনো নেই।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক মাহবুব কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে অসংখ্য আইন আছে, যা আমাদের দেশে স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী। প্রতিটি আইন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের জন্য পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে হুমকিস্বরূপ। ’

বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগ আমলে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়েরসহ সারা দেশে ‘সাংবাদিকদের নির্যাতনের’ চিত্রও তুলে ধরেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, দিনকালের সম্পাদক রেজোয়ান সিদ্দিকী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, এম এ আজিজ, কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, শহীদুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, মুরসালিন নোমানী প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা