kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

১৯ বছর পর সম্মেলন কাল

পুরনোরাই থাকবেন, নাকি নতুন নেতৃত্ব

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৯ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সকাল ১০টায় শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরই মধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে আসা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বহু তোরণ এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে শুভেচ্ছা বিলবোর্ড ও ব্যানার। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

তবে দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে উৎসব ডিঙিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে। শীর্ষ দুই পদে পুরনো নেতারাই থাকছেন না নেতৃত্ব পাচ্ছেন নতুনরা, চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা-উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে এ আলোচনা।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালের ২৯ জুন। ওই সম্মেলনে তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক সভাপতি এবং টঙ্গী পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৩ বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সম্মেলন ছাড়াই বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে পুনরায় সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন সবুজকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে। এরপর আর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। মন্ত্রী মোজ্জাম্মেল হক গাজীপুর-২ এবং ইকবাল হোসেন সবুজ গাজীপুর-৩ আসনের এমপি। আসন্ন সম্মেলনে তাঁরা আবারও স্বপদে বহাল থাকবেন—নেতাকর্মীদের একটি অংশ এমন ধারণা করছে।

এদিকে আসন্ন সম্মেলন ঘিরে সভাপতি পদে প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীর তৎপরতা না থাকলেও বেশ জোরেশোরে আলাচিত হচ্ছে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ডাকসুর সাবেক ভিপি-জিএস মো. আখতারুজ্জামানের নাম। এর আগে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর-৫ আসনের এমপি এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছেন কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আমানত হোসেন খান, মো. জামিল হাসান দুর্জয় ও শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল।

আমানত হোসেন খান, ১৯৯৩-৯৮ সময়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের হামলার শিকার হন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসায় সুস্থ হন। ২০০৪ সালের সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক, ২০১৭ সালের কমিটিতে সহসভাপতি হন।

জামিল হাসান দুর্জয় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং গাজীপুর-৩ আসন (শ্রীপুর) থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলীর ছেলে।

আবদুল জলিল ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। পরে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম ও পরে আরো দুইবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ২০০৯ সালে বিপুল ভোটে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নির্বাচিত হন। তরুণদের মধ্যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।   

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু জানান, সভাপতি-সম্পাদক পদের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ আগ্রহ প্রকাশ করেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো কারো পক্ষে সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণা করেছেন। প্রার্থী নিজে প্রচার না করলে প্রার্থী বলা যায় না। সম্মেলনের দিন দ্বিতীয় অধিবেশনে আগ্রহী প্রার্থীদের নাম চাওয়া হবে। তখন জানা যাবে কারা প্রার্থী।



সাতদিনের সেরা