kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেই মাকে সংবর্ধনা দেবে ঢাবির জগন্নাথ হল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই মাকে সংবর্ধনা দেবে ঢাবির জগন্নাথ হল

মা বাসনা রানী পালের সঙ্গে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ছেলে অমিত কুমার পাল। ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসনা রানী পালকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হল। বাসনা রানীর সুবিধাজনক সময়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ  অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা।

প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘বাসনা রানী পাল আমাদের জগন্নাথ হলের প্রাক্তন ছাত্র অমিত কুমার পালের মা। এই মা বাংলাদেশকে তিনটি সন্তান উপহার দিয়েছেন, যাঁদের একজন শিক্ষা ক্যাডারে আছেন, অন্যজন চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন

মেয়েটিও সরকারি কর্মকর্তা। রত্নগর্ভা এই মাকে স্যালুট জানাই। কালের কণ্ঠে এই সংবাদটি পড়ে মনে হয়েছে হলের প্রভোস্ট হিসেবে এই মাকে সম্মাননা জানানো আমার দায়িত্ব। সে কারণে এমন উদ্যোগ। ’

স্বামী উত্তম কুমার পালের সঙ্গে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তিন সন্তানকে মানুষ করেছেন বাসনা রানী পাল। বড় ছেলে অমিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সান্তাহার সরকারি কলেজে। তিনি ১৬৪তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে দেশসেরা হয়ে ‘চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। অন্যদিকে রংপুর প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন মেজো ছেলে মৃণাল কুমার পাল। একমাত্র মেয়ে মিতা রানী পাল সম্প্রতি সরকারি অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানিতে জুনিয়র অফিসার পদে যোগ দিয়েছেন। তিন সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে অবর্ণনীয় লড়াই করতে হয়েছে বাসনা রানী পালকে। মাত্র দুটি কাপড়ে বছর পার করেছেন। এক বেলা খেয়েও দিন পার করেছেন। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ঋণগ্রস্ত হয়েছিলেন। একসময় পাওনাদারের ভয়ে বাড়ি থেকে দূরে দূরে সরেও থাকতে হয়েছে।

 

আরো পড়ুন : এক ছেলে বিসিএস ক্যাডার, অন্যজন ডাক্তার মেয়েটাও সরকারি চাকুরে

 

বাসনা রানীর সেই সংগ্রাম নিয়ে গত ১০ মে কালের কণ্ঠের ‘অবসরে’ পাতায় একটি ফিচার ছাপা হয়। শিরোনাম, ‘এক ছেলে বিসিএস ক্যাডার, অন্যজন ডাক্তার, মেয়েটাও সরকারি চাকুরে’। সেদিন কালের কণ্ঠ অনলাইনে সর্বাধিক পঠিত প্রতিবেদন ছিল এটি। অসংখ্য মানুষ প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে এই মা ও তাঁর সন্তানদের অভিনন্দন জানিয়েছে।

বাসনা রানী পালের স্বামী রাজশাহী আড়ানী পৌর বাজারের মিষ্টি বিক্রেতা উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের কখনো ভালো পোশাক, খাবার কিংবা ঘুমানোর ভালো জায়গা দিতে পারিনি। আজ ওরা নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। ওদের নিয়ে আমরা গর্বিত। ’

এই দম্পতির বড় ছেলে প্রভাষক অমিত কুমার পাল বললেন, ‘হলের (জগন্নাথ হল) প্রভোস্ট স্যার সেদিন ফোন করে মা ও আমাদের ভাই-বোনদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমার নিজের হল থেকে মা সংবর্ধনা পাবেন; সন্তান হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে! মা কখনো আমার হলে যাননি। এই সুযোগে মাকে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরিয়ে দেখাব। ’



সাতদিনের সেরা