kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

সৌদিতে পাকিস্তানিদের হাতে বাংলাদেশি যুবক খুন

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছেন সেখানে কর্মরত কয়েকজন পাকিস্তানি শ্রমিক। ওই যুবকের নাম বশির আহমদ (২৪)। বশির কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌর এলাকার তুলাতলী গ্রামের মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। গত রবিবার রাতে সৌদি আরবের আল কাসিম শহরের বুরাইদা এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাতে বশিরের গ্রামের বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছে।

বশিরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বছর পাঁচেক আগে কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট বশির আহমদ। সেখানে একটি কম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। ওই কম্পানিতে পাকিস্তানি কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় তাঁর। বন্ধুত্বের সুবাদে কম্পানির একটি ক্যাম্পে তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন। রবিবার রাতে পাকিস্তানি বন্ধুরা কভিড টিকা দেওয়ার কথা বলে ওই শহরের কোনো এক নির্জন জায়গায় নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে তাঁকে। রাতে ক্যাম্পে না ফেরায় কাছের থানায় যোগাযোগ করেন সৌদিতে থাকা বশিরের স্বজন ও বন্ধুরা। পরে পুলিশ এ ঘটনায় এক পাকিস্তানি যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বশিরকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। বশির হত্যার ঘটনায় পুলিশ এক বাঙালিসহ দুই পাকিস্তানি যুবককে আটক করেছে।

বশিরের বড় ভাই সৌদিপ্রবাসী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘রবিবার রাতে পাকিস্তানি কয়েকজন শ্রমিক বশিরকে কভিড টিকা দেওয়ার কথা বলে রুম থেকে ডেকে নেয়। রাতে পাকিস্তানিরা রুমে ফিরলেও আমার ভাই ফেরেনি। রুমে থাকা অন্যরা আমার ভাই সম্পর্কে জানতে চাইলে পাকিস্তানিদের কেউ বলে হাসপাতালে আছে, কেউ বলে বন্ধুর রুমে আছে। তাদের কথায় গরমিল থাকায় পরদিন সোমবার বিকেলে রুমের অন্যরা পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ দুই পাকিস্তানি ও এক বাঙালি যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তারা বশিরকে হত্যার কথা স্বীকার করে। ’

মোজাম্মেল আরো বলেন, ‘আমার ভাই কয়েক মাস বাড়িতে টাকা পাঠায়নি। তার কাছে অনেক টাকা ছিল। ওই টাকার লোভে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। ’

বশিরের বাবা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার ছেলে প্রতিদিন কয়েকবার বাড়িতে ফোন করত। রবিবার রাত থেকে ফোন করেনি। সোমবার আমরাও ফোনে কথা বলার জন্য চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সংযোগ পাচ্ছিলাম না। মঙ্গলবার রাতে জানতে পারি আমার ছেলেকে পাকিস্তানিরা হত্যা করেছে। ’



সাতদিনের সেরা