kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

অ্যাম্বুল্যান্স বসে আছে, ওষুধও নেই

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট প্রকট। ফলে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। তা ছাড়া হাসপাতালে ওষুধেরও বেশ সংকট রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সচালক না থাকায় জরুরি সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট রয়েছে। ফলে জরুরি বিভাগে সব সময় চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসা সহকারীরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। অথচ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। অক্টোবর মাসে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে আট হাজার ১৪০ জন রোগী। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে আড়াই শর মতো রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালের সাত-আটজন চিকিৎসক নির্ধারিত কয়েক ঘণ্টা সময়ে ওই রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খান। অবশ্য ওই চিকিৎসকদের সবাই হাসপাতালে দায়িত্বরত নন। তাঁদের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে এনে হাসপাতালে সংযুক্ত করে সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সরেজমিনে গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকদের ছয়টি কক্ষেই রোগীদের ভিড়। ১০১ নম্বর কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনুসন্ধান ও অভ্যর্থনা কক্ষ থেকে জানা যায়, চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন রোগী টিকিট কেটেছে। ১০১ ছাড়াও ১০২, ১০৪ ও ১০৬ নম্বর কক্ষে রোগীরা ভাগ হয়ে চিকিৎসক দেখানোর অপেক্ষায় আছে। তবে চিকিৎসকের ১০৩ নম্বর কক্ষটি বন্ধ পাওয়া যায়। সকাল সোয়া ১১টায়ও ১০৯ নম্বর কক্ষের চিকিৎসককে চোখে পড়েনি।

তবে জনবল সংকট থাকলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বেশ পরিপাটি। হাসপাতালের পুরো ভবনে ঝকঝকে তকতকে মেঝে। তৃতীয় তলায় রোগী ভর্তির কক্ষটিও বেশ পরিচ্ছন্ন। হাসপাতালের ওয়াশরুমগুলো তুলনামূলক ভালো। নিচতলার রান্নাঘরটিও পরিচ্ছন্ন।

প্যাথলজি বিভাগে গেলে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মো. সাবিকুন্নাহার জানান, গত রবিবার ৯ জন রোগী বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ দুজন পরীক্ষা করিয়েছে। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনও চালু আছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘আউটডোর সামলাতে আমাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়। ’ চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকট থাকায় সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরুপ পাল জানান, একজন মেডিক্যাল অফিসার, বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা