kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

কঠোর লকডাউনের ১৫তম দিন

ঢাকায় যেন এক স্বাভাবিক শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর মূল সড়কগুলোতে অন্য দিনের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়িসহ যানবাহন চলাচল কম ছিল। ফুটপাতে পথচারীর আনাগোনাও তেমন ছিল না। তবে পাড়া-মহল্লার সড়ক আর গলি-উপগলি ছিল জমজমাট। সড়কে পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থানও দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ঢিলেঢালা ছিল তল্লাশি চৌকিগুলোর কর্মতৎপরতা। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের টহল দলও ছিল অনেকটাই অনুপস্থিত।

গতকাল শুক্রবার বলতে গেলে রাজধানীজুড়েই ছিল এমন চিত্র। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নগরীতে বরাবরই এমন চিত্র দেখা যায়। তবে গতকাল ছিল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান বিধি-নিষেধের ১৫তম দিন। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এর প্রভাব তেমন

একটা দেখা যায়নি। তবে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া নগরবাসীকে এদিন রিকশায় গন্তব্যে পৌঁছতে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া, পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি।  

আজিমপুর, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান ও জিগাতলা এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে তেমন বাড়তি গাড়ির চাপ নেই। যে জায়গাগুলোতে নিয়মিত পুলিশের তল্লাশি চৌকি থাকে, সেগুলোও অনেক জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সকালের দিকে মানুষের কিছুটা চলাচল থাকলেও দুপুরে সড়ক প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।

আবার গণপরিবহনের অভাবে ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছতে বিপাকে পড়তে হয়েছে। বিশেষত যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রিকশা থাকলেও ভাড়া আদায় করা হয়েছে অস্বাভাবিক বেশি। মিরপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রিকশায় যেতে ভাড়া গুনতে হয় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে গতকাল সকালে আজিমপুর থেকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে আসেন হাজী রফিকউল্লাহ। তিনি বললেন, ‘মিরপুরে আসতে রিকশা ভাড়া দিয়েছি ৪০০ টাকা। এখন যাওয়ার সময়েও হয়তো একই পরিমাণ টাকা খরচ হবে। রিকশা ছাড়া তো আমাদের উপায় নেই। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে তাদের বিষয় ভিন্ন। ’

ওদিকে কঠোর লকডাউনেও রাজধানীজুড়ে সব শ্রেণির ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। বেশির ভাগ ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা অজুহাত হিসেবে নানামুখী জরুরি সেবার কাগজপত্র সংগ্রহ করে নিয়েছেন। সড়কে চলাচলকারী বেশির ভাগ গাড়ির আরোহীরা জরুরি চিকিৎসাসেবা, গার্মেন্ট মালিক বা কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের লোক পরিচয়ে অজুহাত দিয়ে দিব্যি চলাচল করছে।

গাবতলীতে দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট আসাদুর রহমান বললেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড় করালেই কোনো না কোনো জরুরি সেবার কাগজপত্র দেখানো হয়। সেগুলো পরীক্ষা করে সত্যতা নিশ্চিত করার মতো সময় পাওয়া যায় না বলে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ’

বিজয় সরণি, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার ও বনানী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গাড়ির তেমন চাপ নেই। তল্লাশি কার্যক্রমও চলছে ঢিলেঢালাভাবে।



সাতদিনের সেরা