kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

বদরগঞ্জে ফোনে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা

বানিয়াচং ও শার্শায় দুই শিশুকে নির্যাতন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরের বদরগঞ্জের গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বরকতপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় গত শনিবার গলায় রশি বাঁধা হাঁটুগেড়ে থাকা অবস্থায় এক নারীর (৩০) লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাঁকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে তিনজন। সালিস ডেকে ধর্ষণে অভিযুক্তদের নাম বলে দেওয়ার কথা বলায় তাঁকে হত্যা করা হয়। গত সোমবার রাতে গোপীনাথপুর থেকে গ্রেপ্তার তহিদার রহমান বদরগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গতকাল মঙ্গলবার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ছাড়া হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও যশোরের শার্শায় দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে শনিবার সন্ধ্যায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন দুই অভিযুক্ত। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরকৈজুরি গ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি ১২ দিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি ও মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বদরগঞ্জে গ্রেপ্তার (৩২) তহিদার রহমান বরকতপুর ডাঙ্গাপাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। নিহতের বাড়িও একই এলাকায়। স্বজন ও পুলিশ জানায়, ওই নারীর সঙ্গে স্বামীর প্রায় দুই বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর নানির বাড়ি এলাকার তহিদার রহমানের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। এ সম্পর্কের জেরে গত শনিবার রাতে তহিদার মোবাইল ফোনে কল করে তাঁকে (নারী) নানির বাড়ি থেকে বাইরে ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে তহিদার ও তাঁর দুই বন্ধু ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় তিনি সালিস ডেকে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করার কথা বললে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। পরে তাঁকে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর গলায় রশি বেঁধে একটি শজিনাগাছের ডালে তাঁকে ঝুলিয়ে দেওয়া হলে রশি ছিঁড়ে লাশ মাটিতে পড়ে যায়।

শার্শার বামুনিয়া সোনাতনকাটিতে সোমবার রাতে ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থীকে (১৩) ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিন তরুণের বিরুদ্ধে রাতেই থানায় মামলা করা হয়েছে।

বানিয়াচং উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন রাতে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ধর্ষণে অভিযুক্ত হাদিস মিয়া পলাতক।

শায়েস্তাগঞ্জের ঘটনায় সাবাজ মিয়া ও নাইম মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ‘প্রেমিককেও’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শাহজাদপুর উপজেলার চরকৈজুরি গ্রামের মানবমুক্তি এনজিওর মডেল তাঁত কারখানার টয়লেটে ১৬ জুলাই ঘটনাটি ঘটে। আসামির (১৭) বাড়ি একই গ্রামে।

হাতীবান্ধা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ১৮ জুলাই ধর্ষণের অভিযোগে আসামি নাজমুল হুদাকে (১৯) ১৯ জুলাই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় মীমাংসার জন্য চাপ ও বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্তরা হলেন নাজমুলের চাচা কামরুজ্জামান ও তাঁর বন্ধু মেমোন। কামরুজ্জামান উপজেলার প্রান্নাথ পাটিকাপাড়ার ফয়জার মোক্তারের ছেলে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন হবিগঞ্জ, রংপুর (আঞ্চলিক), শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ), হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) ও বেনাপোল প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা