kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মগবাজারে বিস্ফোরণ

১০ দিনেও জানা যায়নি গ্যাসের উৎস

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় রাখি নীড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ জমাটবদ্ধ গ্যাসের উৎস এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে একটি গ্যাসের লাইনে লিকেজ (ছিদ্র) পাওয়া গেলেও সেটি পরিত্যক্ত বলে দাবি করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। পাশে গ্যাসের লাইন থাকলেও সেখান থেকে গ্যাস চেম্বার তৈরি হওয়ার সংযোগ খুঁজে পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এতে গ্যাস চেম্বার তৈরি হওয়ার উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। এক সপ্তাহের তদন্তকাজ ১০ দিনেও শেষ হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, গ্যাস চেম্বারে জমার সূত্র পেয়েছেন তাঁরা। পরীক্ষা ও যাচাইয়ে উৎস নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুভাষ চন্দ্র সাহাকে (৬২) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁকে নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ১২। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শক মো. মোদাচ্ছের কায়সার জানান, সুভাষ মগবাজারের ঘটনার সময় বাসের যাত্রী ছিলেন। তিনি বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপ ও কাচের আঘাতে গুরুতর আহত হন। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর ছেলের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা বৃদ্ধ সুভাষ সাহার বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়। তিনি ঢাকার ইসলামপুরে থাকতেন।

বিস্ফোরণের ঘটনায় রমনা মডেল থানায় করা মামলা বর্তমানে তদন্ত করছে সিটিটিসি। এ ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমরা এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছি। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি নির্মাণের নকশা থেকে ১৪ ফুট সামনে বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের পাইপলাইনের যে উৎস পাওয়া গেছে, তা ওই ভবনের নিচে শনাক্ত হয়েছে। পাশেও গ্যাসের লাইন আছে। তবে তিতাস বলছে, ভবনে গ্যাসের কোনো চালু লাইন নেই। এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত কমিটিগুলো কাজ করছে।

গত সোমবার দুপুরে তিতাস গ্যাস কম্পানি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গতকালও সেখানে গেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিটিটিসির তদন্তকারীরা। গ্যাসের আলামত পাওয়া গেলেও জমাটবদ্ধ হওয়ার কারণগুলো যাচাই করা হচ্ছে এখন। গ্যাস চেম্বারের দূরত্ব ও লাইন থেকে সঞ্চালনের সূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তিতাস গ্যাস কম্পানির তদন্ত কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যা দেখলাম আমরা অবজারভেশনে রেখেছি। যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছি।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় ওয়্যারলেস গেট এলাকায় আকস্মিক বিস্ফোরণে ৭৯ নম্বর রাখি নীড়ের নিচতলার শর্মা হাউসসহ পুরো অংশ সামনের রাস্তায় ধসে পড়ে। আশপাশে কম্পন তৈরি হয়ে ১৮টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও তিতাস আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে পুলিশ রমনা থানায় মামলা করেছে।