kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পঞ্চগড়

প্রতারক কম্পানির ফাঁদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিষ্ঠানটির নাম লাইন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। ঠিকানা ঢাকার মিরপুর দেওয়া হলেও মালিকের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর শেখেরদাইড় এলাকায়। কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের নাম এস এম হেলাল থাকলেও সবকিছু দেখভাল করেন তাঁর ছোট ভাই ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম। ২০১৭ সালের শেষ দিকে শরিফুলের এই কম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরির আশায় যোগ দেন পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার তরুণরা।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সামশুদ্দীন, দেবীগঞ্জ উপজেলার উত্তম কুমার রায়, রংপুরের হাজীপাড়া এলাকার মাহমুদুল হাসান, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়, একই উপজেলার শরিফুল ইসলাম, বড়গাছা দরগাপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম, সোনারায় খাটুরিয়া এলাকার রাজিব ইসলাম ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রদীপ কুমার রায়। তাঁদের মার্কেটিং অফিসার, এরিয়া ইনচার্জ, সেলস প্রমোশন অফিসারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই নওগাঁয় ওই প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ভেজাল সার ও কীটনাশক ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। এর পরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণরা জানতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে। পরে তাঁরা চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু আজও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলামের প্রতারণার ফাঁদ থেকে বের হতে পারেননি তাঁরা। ভুক্তভোগী এই তরুণরা সম্প্রতি পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই প্রতারণার বিষয়টি অবহিত করেন।

ভুক্তভোগী তরুণরা জানান, জামানত হিসেবে শরিফুল তাঁদের কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও ৫০ হাজার টাকা করে নেন। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই বেরিয়ে আসতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ ব্যবসার কথা। বিষয়টি জানার পর কেউ তিন মাস, কেউ পাঁচ মাস আবার কেউ ছয় মাস চাকরি করার পর সব মালপত্র শরিফুলকে জমা দেওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু চাকরি ছেড়ে দেওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও আজও শরিফুলের ফাঁদ থেকে বের হতে পারছেন না তাঁরা। শরিফুল তাঁদের ওই চেক দিয়ে মামলা দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হুমকিধমকি দিচ্ছেন বলেও জানান তাঁরা।

সামশুদ্দীন বলেন, ‘কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম আমাদের ভালো বেতনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে চাকরিতে নেন। যোগদানের সময় আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত ও ফাঁকা চেক নেন। যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারি, প্রতিষ্ঠানটি ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। এর পরেই আমরা সবকিছু তাঁদের বুঝিয়ে দিয়ে চাকরি ছেড়ে দিই। প্রথম দুই-তিন মাস বেতন পেলেও পরে আর কোনো বেতন পরিশোধ করেনি কম্পানি।’

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরিফুলের কাছে আমাদের ফাঁকা চেক রয়েছে। চেকগুলো রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের। ওই চেক এখন তিনি ডিস-অর্ডার করার জন্য ব্যাংকগুলোতে পাঠাচ্ছেন। আমরা তাঁর সব মালপত্র বুঝিয়ে দিলেও এখন আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।’

মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে শরিফুল তাঁর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতেন। আমরা তাঁর অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় তিনি এখন আমাদের পেছনে লেগেছে। তাঁর হাতে আমাদের চেক থাকায় আমরা তাঁর ফাঁদ থেকে বের হতে পারছি না। প্রতিনিয়ত অশান্তির মধ্যে কাটছে। আমরা এই প্রতারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে লাইন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁরা যেসব অভিযোগ করছেন—তা মিথ্যা। তাঁদের আমি চাকরি দিয়েছিলাম। তাঁদের কাছে আমার কম্পানির ৭০ লাখ টাকার মালপত্র আছে। তাঁরা মালপত্র বুঝে দিয়ে চেক নিয়ে যাক।’



সাতদিনের সেরা