kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

পরাজয়ের শাস্তি কান ধরে উঠবস

চেয়ারম্যান হয়েই পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর নির্যাতন শুরু করেছেন আখতারুজ্জামান খান বাদল

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরাজয়ের শাস্তি কান ধরে উঠবস

বরগুনার আমতলী উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তা ছাড়া ওই বৃদ্ধ ও তাঁর স্বজনদের মারধর এবং বাড়ি থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান খান বাদলের (নৌকা) পক্ষে কাজ না করায় তাঁকে এ শাস্তি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাতাকাটা গ্রামের ওই বাসিন্দা জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান বাদলের কর্মী-সমর্থক মনির, মিরাজ, রাশেদুল, ইলিয়াসসহ ২০ থেকে ২৫ জন তাঁর বাড়িতে হাজির হন। এক পর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে ভাবি, ছেলের বউ, নাতি-নাতনিদের সামনে মারধর করা হয়। পরে কান ধরিয়ে উঠবস করানো এবং এর ভিডিও ধারণ করা হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধ আরো জানান, তাঁকে মারধরের সময় ছেলের বউ ও ভাবি বাধা দিলে তাঁদেরও মারধর করেন হামলাকারীরা। এমনকি তাঁরা ঘরের মধ্যে ঢুকে আলমারি ভেঙে ১৮ হাজার টাকা ও লাখ টাকার বেশি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যান।

গত সোমবার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধ জানান, এ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মহসিন হাওলাদারকে (মোটরসাইকেল) সমর্থন করেন। নির্বাচনে মহসিন পরাজিত হন।

পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মহসিন হাওলাদার বলেন, ‘নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তাই বলে বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকদের এভাবে লাঞ্ছিত করবে, মারধর করবে, বাড়িঘর ভাঙচুর করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ওই বৃদ্ধের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে চরম লজ্জাজনক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

মহসিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের দিয়ে ওই বৃদ্ধের মতো তাঁর আরো অনেক কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। কেউ পালিয়ে রক্ষা পাচ্ছে, আবার কারো স্থান হচ্ছে হাসপাতালে। গবাদি পশু লুটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমতলী থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

নির্বাচিত চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান বাদল দাবি করেন, ‘আমাকে ও আমার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তাঁরা এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার কর্মীরা কোনো অন্যায় ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নয়। নির্বাচনে হেরে গিয়ে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মহসিন হাওলাদার আমার কর্মী-সমর্থকদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন ও মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছেন।’

আমতলী থানার ওসি মো. শাহআলম হাওলাদার মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে উঠবস করার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে তিনি দাবি করেন, চাওড়া ইউনিয়নের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পরও যদি কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।



সাতদিনের সেরা